সবুজ উপকূল ২০১৬, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’র যাত্রা

উত্তরণ বিদ্যানিকেতনের পড়ুয়াদের হাতে দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি

উত্তর ধুরুং, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার, ৯ অক্টোবর ২০১৬ : কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুংয়ের প্রান্তিক গ্রামে উত্তরণ বিদ্যানিকেতনের পড়ুয়ারা যুক্ত হলো দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি’র যাত্রায়। ৮ অক্টোবর ২০১৬ শনিবার পড়ুয়াদের অংশগ্রহনে এ বিদ্যালয়ে ব্যতিক্রমীধারার এই দেয়াল পত্রিকার আত্মপ্রকাশ ঘটে।

‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৬’ কর্মসূচি উপলক্ষে এই সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশাবাদ, এই বিদ্যালয়ে নিয়মিত বেলাভূমি’র প্রকাশনা অব্যাহত থাকবে।

উপকূল জুড়ে ব্যতিক্রমীধারার দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি’র উদ্যোক্তা উপকূল বিষয়ক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান ‘উপকূল বাংলাদেশ’। উপকূলের পড়ুয়াদের পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো, সৃজনশীল মেধার বিকাশ, লেখালেখি চর্চার মাধ্যমে তথ্যে প্রবেশাধিকারসহ জীবন দক্ষতা বাড়ানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো আর সৃজনশীল মেধা বিকাশের লক্ষ্যে বেলাভূমি’র প্রকাশনা অব্যাহত রাখার দাবি পড়ুয়াদের। আর তাদের এ দাবি পূরণে সর্বাত্মক সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।প্রকাশের পর পড়ুয়ারা দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি তুলে দেয় প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসাইনের হাতে। এ সময় তিনি বলেন, এই বিদ্যালয় থেকে বেলাভূমি’র যাত্রা শুরু হলো। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুন্দর একটি দেয়াল পত্রিকা তৈরি করেছে। এর মধ্যদিয়ে ওদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটেছে। আগামীতে এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকবে।

বেলাভূমি’র এই সংখ্যাটিতে বেশকিছু লেখা স্থান পেয়েছে। ‘কুতুবদিয়ায় পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ে লিখেছে অষ্টম শ্রেণীর আতাউল ইসলাম। ‘বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে ডুবে আছে’ বিষয়ে লিখেছে সপ্তম শ্রেণীর শহিদুল ইসলাম। ‘লবণ পানি আমাদের রাস্তা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে’ শিরোনামে লিখেছে দশম শ্রেণীর করিমা বেগম। ‘ঘূরনিঝড়ের তান্ডবে বনভূমি ধ্বংস’ বিষয়ে লিখেছে দশম শ্রেণীর শওকত মোস্তফা মামুন। ‘লবনাক্ত পানিতে গাছ মরে গেছে’ শিরোনামে লিখেছে দশম শ্রেণীর মারুফুল হাসান (ছোটন)।

প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসাইন-এর হাতে দেয়াল পত্রিকা তুলে দিচ্ছে পড়ুয়ারা

‘আমাদের গ্রামে লবনাক্ত পানির সমস্যা’ শিরোনামে লিখেছে সপ্তম শ্রেণীর নোসরাত মনি। ‘রোয়ানুর প্রভাবে বিপর্যস্থ জনজীবন’ শিরোনামে লিখেছে ষষ্ঠ শ্রেণীর তাছমুল হাসান হিরু। ‘আমার দেখা রোয়ানু’ শিরোনামে লিখেছে ষষ্ঠ শ্রেণীর নজরুল ইসলাম বাবলু। ‘বিদ্যুৎ সংকটে আমাদের পরিবার’ শিরোনামে লিখেছে নবম শ্রেণীর আসমাউল হুসনা। ‘স্কুলে যেতে রাস্তার সমস্যা’ শিরোনামে লিখেছে অষ্টম শ্রেণীর সারজিনা সুলতানা। ‘আমরা লবণ পানিতে ভাসছি’ শিরোনামে লিখেছে দশম শ্রেণীর পারভীন আক্তার। ‘একজন কৃষকের গল্প’ শিরোনামে লিখেছে নবম শ্রেণীর মো. আলী জিন্নাহ। একই ধরণের লেখায় ‘কৃষকের জীবনযাপন’ শিরোনাম দিয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণীর মিফতাউল জন্নাত পপি।

‘১৯৯১-এর ঘূরনিঝড় বিষয়ে যা জানতে পেরেছি’ শিরোনামে লিখেছে দশম শ্রেণীর সাঈদা জন্নাত সুমাইয়া। ‘রোয়ানু’র তান্ডবে ধুরুংয়ের রাস্তাঘাট বিপর্যস্থ’ শিরোনামে লিখেছে দশম শ্রেণীর মো.এমরান। ‘বেড়িবাঁধ না থাকার কারণে আমাদের সমস্য’ শিরোনামে লিখেছে দশম শ্রেণীর ইসমত জাহান। ‘কুকুরের ঘেউ ঘেউ ধ্বনি’ শিরোনামে লিখেছে দশম শ্রেণীর নাজেম উদ্দিন। ‘আমার বাড়ির পাশের রাস্তা’ শিরোনামে লিখেছে তামান্না ইয়াছমিন। ‘বাড়িতে আমার পড়ালেখার সমস্যা’ বিষয়ে প্রতিবেদন লিখেছে দশম শ্রেণীর হোরাইন জন্নাত তানজি।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/০৯১০২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য