সবুজ উপকূল ২০১৬, কক্সবাজারের বড় মহেশখালী বালিকা বিদ্যালয়ে বেলাভূমি’র যাত্রা

বড় মহেশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হাতে বেলাভূমি

মহেশখালী, কক্সবাজার, ১ অক্টোবর ২০১৬ : কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা যুক্ত হলো দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি’র যাত্রায়। পহেলা অক্টোবর ২০১৬ শনিবার পড়ুয়াদের অংশগ্রহনে এ বিদ্যালয়ে ব্যতিক্রমীধারার এই দেয়াল পত্রিকার আত্মপ্রকাশ ঘটে।

‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৬’ কর্মসূচি উপলক্ষে এই সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশাবাদ, এই বিদ্যালয়ে নিয়মিত বেলাভূমি’র প্রকাশনা অব্যাহত থাকবে।

উপকূল জুড়ে ব্যতিক্রমীধারার দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি’র উদ্যোক্তা উপকূল বিষয়ক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান ‘উপকূল বাংলাদেশ’। উপকূলের পড়ুয়াদের পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো, সৃজনশীল মেধার বিকাশ, লেখালেখি চর্চার মাধ্যমে তথ্যে প্রবেশাধিকারসহ জীবন দক্ষতা বাড়ানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

পড়ুয়ারা বেলাভূমি তুলে দিচ্ছে প্রধান শিক্ষকের কাছে

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো আর সৃজনশীল মেধা বিকাশের লক্ষ্যে বেলাভূমি’র প্রকাশনা অব্যাহত রাখার দাবি পড়ুয়াদের। আর তাদের এ দাবি পূরণে সর্বাত্মক সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশের পর পড়ুয়ারা দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি তুলে দেয় প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ হুমায়ূন কবির-এর হাতে। এ সময় তিনি বলেন, এই বিদ্যালয় থেকে বেলাভূমি’র যাত্রা শুরু হলো। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুন্দর একটি দেয়াল পত্রিকা তৈরি করেছে। এর মধ্যদিয়ে ওদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটেছে। আগামীতে এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকবে।

বেলাভূমি’র এই সংখ্যাটিতে বেশকিছু লেখা স্থান পেয়েছে। ‘উপকূলের সবুজ প্রকৃতি’ শিরোনামে লিখেছে দশম শ্রেণীর তাসনিম আয়মান নিশাত। ‘আসুন উপকূলের দুরযোগ মোকাবেলা করি’ শিরোনামে লিখেছে নবম শ্রেণীর নারগিস ফয়াস শেলী। ‘মহেশখালী উপকূলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি’ শিরোনামে লিখেছে সপ্তম শ্রেণীর শাবরিনা সোলতানা শায়লা। ‘সবুজ উপকূলের পরিবেশ বিপর্যয় রোধে বৃক্ষরোপণ জরুরি’ শিরোনামের লেখাটি তৈরি করেছে ষষ্ঠ শ্রেণীর সাজিয়া ইফফাত রাফি। ‘গ্রন্থাগার স্থাপনের আবেদন’ নিয়ে লিখেছে দশম শ্রেণীর মাহাবুবা সোলতানা উরমি। ‘আসুন দুরনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই’ শিরোনামে লিখেছে অষ্টম শ্রেণীর সায়মা সুলতানা সুমি। ‘মহেশখালীর প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে চাই সবুজ বনায়ন’ শিরোনামে লিখেছে সপ্তম শ্রেণীর রাহেনুর।

দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি তৈরিতে ব্যস্ত এক পড়ুয়া

‘উত্তর দৈলার পাড়ায় অবিলম্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ চাই’ শিরোনামে লিখেছে দশম শ্রেণীর ফয়জুন্নেছা মহুয়া। ‘বাল্য বিবাহ ও তার প্রতিকার’ নিয়ে লিখেছে দশম শ্রেণীর সায়মা জাহান মুমু। ‘সবুজ উপকূল’ শিরোনামে লিখেছে দশম শ্রেণীর মিছফা সাদিয়া। ‘ইভটিজিং প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহন করুন’ শিরোনামে লিখেছে দশম শ্রেণীর আসমাউল হুসনা তাছিকা। ‘রাস্তার সংস্কার চাই’ শিরোনামে লিখেছে ওমাইয়া সাইমা। ‘অবিলম্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ চাই’ শিরোনামে লিখেছে সৈয়দা আকতার রিনা। ‘উপকূলে সবুজ বেষ্টনি রক্ষা করতে হবে’ শিরোনামে লিখেছে সপ্তম শ্রেণীর চুহি নুর ইসপা (চুহি)। ‘ঘূরনিঝড় উপদ্রুত মহেশখালী’ শিরোনামে লিখেছে ষষ্ঠ শ্রেণীর নাজমা আক্তার। ‘এক পাহাড়ি দ্বীপের গল্প’ শিরোনামে লিখেছে নবম শ্রেণীর তাহিয়া তাসমিম।

সংখ্যাটিতে তিনটি হাতে অাঁকা ছবি স্থান পেয়েছে। এগুলোেএঁকেছে অষ্টম শ্রেণীর ফরিদা ইয়াসমিন কলি, অস্টম শ্রেণীর তাহিরা সোলতানা ছাবিত এবং অষ্টম শ্রেণীর তাহারিকা আকতার। সংখ্যাটিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ হুমায়ূন কবির শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন। আর এই সংখ্যার সম্পাদক অষ্টম শ্রেণীর ফরিদা ইয়াছমিন কলি লিখেছে সম্পাদকীয়।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/০১১০২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য