তজুমদ্দিনে জোয়ারের পানিতে মাছ চাষ খাতে ক্ষতি প্রায় ৩ কোটি টাকা

তজুমদ্দিনের শুণ্য মাছের খামার আর দিশেহারা মাছচাষী

তজুমদ্দিন, ভোলা : ভোলার তজুমদ্দিনে রোয়ানুর প্রভাবে টর্ণেডোর আঘাতে উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে মৎস্য খাতে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না পারলে লাভ জনক প্রকল্প মৎস্য চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে এ অঞ্চলের মৎস্য চাষীরা। ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষিরা তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অতিদ্রুত সরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জোয়ারের পানিতে এ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে মোট ১৫১.৮০ হেক্টর জমিতে ১২৫০টি পুকুরের মাছ পানির সাথে ভেসে যায়। এরমধ্যে চাঁদপুরে ৬৫০টি, মলংচড়ায় ৫০টি, সোনাপুর ৩৫০টি, চাঁচড়ায় ১৫০টি ও শম্ভুপুর ইউনিয়নে ৫০টি পুকুর রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পুকুরে চাষকৃত মাছের পরিমান প্রায় ২২৫ মেট্রিক টন। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বলেও জানান মৎস্য অফিস। এছাড়া অতিমাত্রার জোয়ারের পানিতে ১৬.২ মেট্রিক টন রেণু পোনার ক্ষতি হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ২২ লক্ষ ৫ হাজার টাকা।

চাঁদপুরের মৎস্য ও রেণু চাষি মোঃ সাইদ জানান, আমার একটি পুকুরে ১ লক্ষ ১০ হাজার রেণু চাষ করি । জোয়ারের পানিতে আমার পুকুরটা ডুবে যায়। পরে রেণু বিক্রি শেষে দেখা যায় মাত্র ৩৩ হাজার রেণু ছিল। বাকি রেণুগুলো জোয়ারের পানিতে ভেসে যায়। এতে প্রায় ১লক্ষ ৪০ হাজার টাকার রেনুপোনা ক্ষতি হয়।

শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মৎস্য চাষি হুমায়ুন কবির জানান, আমার ২টি পুকুরের ২ লক্ষ রেণু পোনা জোয়ারের পানিতে সম্পূর্ন ভেসে যায়। এতে আমার প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়। তিনি আরো জানান, সরকারী সহযোগীতা ছাড়া আমাদের এতো বড় ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব না।
সোনাপুর ইউনিয়নের সৃষ্টিধরগুহ এলাকার মাছ চাষি মোঃ আলম মহাজন জানান, অতিমাত্রায় জোয়ারের পানির চাপে আমার ২টি পুকুরের পাড় ভেঙ্গে সম্পূর্ণ মাছ চলে যায়। এতে আমার প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তজুমদ্দিন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মৎস্য চাষী হেলাল উদ্দিন লিটন জানান, জোয়ারের পানিতে জানান, তার ৩টি পুকুরের মধ্যে ২টি আংশিক ক্ষতি হলেও একটির পাড় ডুবে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পুরো মাছ চলে যায়। এতে আমার প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।

তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মারজান সরকার জানান, ইতিমধ্যে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ চাষী ও পুকুরের তালিকা তৈরি করেছি। ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য চাষিদের মাছের পোনা দেয়ার মাধ্যমে পূর্ণঃবাসন করার চেষ্টা চলছে।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/০৮০৯২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য