সবুজ উপকূল ২০১৬, সম্পা গাইন বললো উপকূল বাঁচাতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই

বক্তব্য দিচ্ছে পড়ুয়া সম্পা গাইন

মুন্সীগঞ্জ, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ : পশ্চিম উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার সুন্দরবন লাগোয়া উপজেলা শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে সুন্তরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী সম্পা গাইন উপকূল বাঁচাতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর জন্য সবার প্রতি আহবান জানিয়েছে। বলেছে, পরিবেশ রক্ষা করতে হল গাছ লাগানোর কোন বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জের সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৬’ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে সম্পা গাইন এসব কথা বলেছে।

সম্পা গাইন তার ব্ক্তৃতায় উল্লেখ করে, আমাদের দেশের নাম বাংলাদেশ। এ দেশটিকে স্বপ্নের দেশও বলা হয়। এই স্বপ্নময় দেশে রয়েছে সবুজের সমারোহ। বাংলাদেশের দক্ষিণে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে উপকূল অঞ্চল। এই উপকূল অঞ্চলে বাস করছে কয়েক লাখ মানুষ। এই উপকূল অঞ্চল দুরযোগ প্রবণ। প্রাকৃতিক দুরযোগ ব্যাপকহারে আঘাত হানার ফলে উপকূল এলাকার কয়েক লাখ মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে।

সম্পা আরও বলে, উপকূল এলাকার মানুষের জীবিকার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে কৃষি কাজ। অনেক সমুদ্রে মাছধরে জীবিকা নির্বাহ করে। অনেক আবার বনের ওপর নির্ভরশীল। তবে অধিকাংশ মানুষের জীবিকার সংস্থান হয় কৃষি থেকে। উপকূল এলাকায় খরা ও লবনাক্ততার কারণে কৃষকেরা তাদের সোনালী ফসল ফলাতে পারছে না। সুতরাং, কৃষকেরা হয়ে পড়ছেন বেকার।

সম্পা তার বক্তৃতায় বলে, উপকূল অঞ্চলের কিছু মানুষ চিংড়ি চাষ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু এখানে কোনো আউট ড্রেন না থাকায় অতিরিক্ত বর্ষায় পানিতে ভাসে চিংড়ির ঘের। চিংড়ি মাছ চলে যায় অন্যত্র। এতে চিংড়ি চাষীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। প্রাকৃতিক দুরযোগের সময় উপকূল এলাকায় দেখা দেয় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। ওই সময় ময়লাযুক্ত দূষিত পান করতে বাধ্য হয় বহু মানুষ। এফলে এই এলাকায় ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপ অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এছাড়া দুরযোগকালে উপকূলের মানুষদের কখনো কখনো সাপের সঙ্গেও বসবাস করতে হয়। অনেকে আবার সাপের কামড়ে মারাও যায়।

সম্পা বলে, উপকূল এলাকার মানুষদের দুর্ভাগ্য যে, এই এলাকার লোকজন বিনা প্রয়োজনে গাছ কাটে। কিন্তু এলাকার অধিকাংশ মানুষ জানে না যে গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ আমাদেরকে প্রাকৃতিক দুরযোগ থেকে রক্ষা করে। ২০০৯ সালে যখন পশ্চিম উপকূলের ওপর দিয়ে ‘আইলা’ বয়ে যায়, তখন উপকূল এলাকার দেয়াল বলে পরিচিত সুন্দরবনের গাছপালা পানির গতি কমিয়ে দেয়। এতে এলাকার বিপুল জানমাল রক্ষা পায়।

সম্পা আরও বলে, প্রাকৃতিক দুরযোগ উপকূল এলাকার মানুষদের ওপর আঘাত হানার ফলে মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদির তীব্র সংকট দেখা দেয়। সরকার বিশেষ দুরযোগ সময়ে মানুষদের এইসব সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করতে পারেনা। ফলে আমাদের হাত পাততে হচ্ছে বিদেশিদের কাছে। আর এতে আমরা পরিচিত হচ্ছি ভিখারির জাতি হিসাবে।

গাছ লাগানোর আহবান জানিয়ে সম্পা বলে, উপকূলের মানুষদের প্রাকৃতিক দুরযোগের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে আমাদের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। সে জন্য বেশি বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/০৬০৯২০৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য