তজুমদ্দিনে সড়ক-সেতুর এই হাল!

তজুমদ্দিনের চৌমুহনী থেকে এভাবেই যাতায়াত করতে হয়

তজুমদ্দিন, ভোলা : ভোলার তজুমদ্দিনে উপজেলা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানিতে প্রায় সাড়ে ১১ কিলোমিটার পাঁকা রাস্তাসহ ২০ কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রায় ৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে রাস্তাগুলোর এমন অবস্থায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সংস্কারের কোন উদ্যেগ গ্রহন করতে দেখা যায়নি ।

উপজেলা এলজিইডি সুত্রে জানা গেছে, গত ২০ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে উপজেলা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এতে উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়। এসব এলাকার প্রতিনিয়ত জোয়ারের চাপে প্রায় সাড়ে ১১ কিলোমিটার পাঁকা রাস্তা, ১টি আয়রণ ব্রীজ ও ৫ টি কালভার্টসহ প্রায় ২০ কিলোমিটার পাঁকা ও কাঁচা রাস্তার ক্ষতি হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চৌমহনী থেকে শিবপুর খাসের হাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৫’শ মিটার সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি সড়কের প্রায় ২ কি.মিটার সড়ক খাদা খন্দকে চলাচলের অনুপযোগী। ফুলকুড়ি থেকে শিবপুর খাসের হাট পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার, শশীগঞ্জ বাজার থেকে ছোট ডাওরী পর্যন্ত ৫’শ মিটার, শশীগঞ্জ বাজার থেকে শম্ভুপুর খাসের হাট হয়ে বড় ডাওরী বাজার সড়কের প্রায় ৪ কিলোমিটার, উপজেলা স্বাস্থ্যকপ্লেক্স থেকে কেয়ামূল্যা সড়কের ১ কিলোমিটার, চাঁচড়া ইউপি থেকে খাসের হাট পর্যন্ত সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে।

এছাড়া জোয়ারের পানির চাপে চৌমহনী সড়কের ১টি আয়রন ব্রীজের দু’পাশের রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। যার ফলে বীজটিও পানির মধ্যে ধ্বসে পড়ে। জোয়ারের পানির চাপে দু’পাশের মাটি সরে হাসপাতালে সড়কের দক্ষিণ পাশের ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় উদ্যোগে মাটির বস্তা ফেলে ব্রীজটি রক্ষার চেষ্টা চলছে। গ্রাম গঞ্জের বিভিন্ন সড়কে অন্তত আরো ৫ টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

তজুমদ্দিন এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আমিরুল ইসলাম জানান, এলজিইডির আওতায় ভেঙ্গে যাওয়া প্রায় সাড়ে ১১ কিলোমিটার রাস্তার তালিকা তৈরি করে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এসব রাস্তা সংস্কারের জন্য এখনো কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

// প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/০৪০৯২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য