সবুজ উপকূল ২০১৬, বেলাভূমি’র প্রথম সংখ্যা বের হল মঠবাড়িয়ার লতীফ স্কুলে

কে এম লতীফ ইনস্টিটিউশনে ‘বেলাভূমি’র প্রথম সংখ্যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হচ্ছে

মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর, ২৭ আগষ্ট ২০১৬ : উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার প্রাণকেন্দ্রে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কে. এম লতীফ ইনস্টিটিউশনের পড়ুয়ারা বের করলো দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি’র প্রথম সংখ্যা। পত্রিকাটিতে পড়ুয়াদের লেখা প্রতিবেদন, রচনা ও হাতে অাঁকা ছবি স্থান পায়। পড়ুয়াদের পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি আর সৃজনশীল মেধা বিকাশের লক্ষ্যে বেলাভূমি’র প্রকাশনা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আর পড়ুয়ারা।

বেলাভূমি’র এই সংখ্যাটির সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে ইনস্টিটিউশনের দশম শ্রেণীর ‘ক’ শাখার ৪ নম্বর রোলধারী মো. তাসনিম মনোয়ারুল আলমকে। এছাড়া সহ-সম্পাদকসহ সম্পাদনা পরিষদের সদস্য হিসাবে রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা। এরমধ্যে সহ-সম্পাদক আনজির আবদুল্লাহ, সদস্য সপ্তবর্না শতাব্দী ঢালী, হুমায়রা আনজুম, ইমরান মাহমুদ, সানজানা হাফিজ মিনি ও যারিন তাসনিম।

জীবনে প্রথম সম্পাদক হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কে এম লতীফ ইনস্টিটিউশনে ‘বেলাভূমি’র প্রথম সংখ্যার সম্পাদক মো. তাসনিম মনোয়ারুল আলম বললো, এটা ভিন্ন রকম অনুভূতি। স্যারেরা প্রাথমিক বাছাইয়ের পর লেখাগুলো দেয়াল পত্রিকায় সাজানোর দায়িত্ব ছিল আমাদের। যাদের হাতের লেখা ভালো, তারা সুন্দর করে লেখাগুলো দেয়াল পত্রিকায় লিখেছে। এটা একটা নতুন অভিজ্ঞতা। খুবই ভালো লেগেছে। এ ধরণের পত্রিকা নিয়মিত করতে পারলে আমাদের অভিজ্ঞতা আরও বাড়বে। এর ভেতর দিয়ে আমরা সচেতন হতে পারবে, লেখালেখির চর্চা হবে। ক্ষুদ্র প্রতিভার উন্মেষ ঘটবে।

কে এম লতীফ ইনস্টিটিউশনে ‘বেলাভূমি’র প্রথম সংখ্যা

বেলাভূমি’র এই সংখ্যাটিতে যেসব লেখা প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, দশম শ্রেণীর অনুপ কুমার সাহা লিখেছে দাও ফিরিয়ে সে অরণ্য, লও এ নগর; তাসকিয়া সিনথি লিখেছে হরিণপালা ইকোপার্ক : যখন স্কুল পালানো ছেলেমেয়েদের গন্তব্য শিরোনামে; দশম শ্রেণীর রাইয়ান খান লিখেছে উপকূলীয় বনায়ন বিষয়ে; ষষ্ঠ শ্রেণীর নাহিয়ান খান লিখেছে পানীয় জলের তীব্র সংকট নিয়ে; দশম শ্রেণীর হুমায়রা আনজুম জুঁই লিখেছে উপকূলের জীবন শিরোনামে; নবম শ্রেণীর লিখন মজুমদার লিখেছে কুয়াকাটা সৈকতে বিপন্ন জলজ  স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃতদেহ বিষয়ে; সপ্তপর্না শতাব্দী ঢালী লিখেছে উপকূলীয় আশ্রয়কেন্দ্র চাই বিষয়ে; ফাতেমা আক্তার মিম লিখেছে উপকূলীয় অঞ্চলে টানা তিনদিন বর্ষন শিরোনামে।

কে এম লতীফ ইনস্টিটিউশনে ‘বেলাভূমি’র প্রথম সংখ্যার সম্পাদক মো. তাসনিম মনোয়ারুল আলম

পত্রিকার শুরুতে ছিল সম্পাদকীয়। এটি লিখেছে সম্পাদক মো তাসনিম মনোয়ারুল আলম। এতে ‘বেলাভূমি’ প্রকাশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। সবুজ উপকূল প্রসঙ্গেও আলোকপাত করা হয় সম্পাদকীয়তে।

কে এম লতীফ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা জামান খান বলেন, দেয়াল পত্রিকা প্রকাশে শিক্ষার্থীদের যে উদ্দীপনা দেখেছি, তা অভাবনীয়। অত্যন্তউৎসাহের সঙ্গে কাজ করেছে ওরা। বিদ্যালয়ে নিয়মিত বেলাভূমি প্রকাশেরউদ্যোগ নেওয়া হবে।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/২৭০৮২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য