সবুজ উপকূল ২০১৬, পড়ুয়ার কণ্ঠে উপকূল সুরক্ষার আহবান

বক্তব্য দিচ্ছে মনপুরার পড়ুয়া মো. সজিব

মনপুরা, ভোলা, ১১ আগষ্ট ২০১৬ ।। ‘বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চল মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। আমরা দ্বীপের বাসিন্দারা আরও বেশি ঝুঁকিতে। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় উপকূলকে সবুজ রাখতে হবে। গাছ লাগিয়ে উপকূল সুরক্ষা করতে হবে।’

কথাগুলো ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার হাজীরহাট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. সজিবের। বৃহস্পতিবার (১১ আগষ্ট) সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির শুরুতে পড়ুয়াদের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সজিব এসব কথা বলে।

নিজের ভাষায় সজিব তুলে ধরে উপকূলের বিভিন্ন ধরণের সংকটের কথা। ওর কথায়, ‘নদী-ভাঙণে প্রতিনিয়ত উপকূলের মানচিত্র বদলে যাচ্ছে। বহু মানুষ ক্ষতির মুখে পড়ে। নি:স্ব হয়েছে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটে চলে তারা। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যস্ত এই অঞ্চলের মানুষের জীবন। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানিপ্রবাহের কারণে উপকূলের মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকে না’

বক্তব্যে সজিব বলে, ‘শুধু সংকট নয়, উপকূলে রয়েছে অনেক সম্ভাবনা। পর্যটনসহ বহুমূখী অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে এখানে। সমুদ্রের বিপুল মৎস্য সম্পদ জাতীয় রাজস্বে বড় ভূমিকা রাখছে। দ্বীপ-চরকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে সম্ভাবনার নানান ক্ষেত্র। বলা যায় সংকটের সাথে রয়েছে সম্ভাবনার বিপুল সমাহার।’

সজিব বলে, ‘উপকূলের মানুষদের বাঁচাতে সংকট উত্তরণের সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাবনা বিকশিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা পড়ুয়ারা অনেক সংকটে পড়ি। ঝড়ে আমাদের বইপত্র নষ্ট হয়। স্কুলে যাওয়ার রাস্তা বিনষ্ট হয়। আমাদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটে। আমাদের সমস্যা সমাধানে আমাদেরকেই উদ্যোগ নিতে হবে। গাছ লাগিয়ে আমরাই পারি সবুজ উপকূল সুরক্ষা করতে। তবে এজন্য আমরা বড়দের সহায়তা চাই।’

সজিবের আশাবাদ, ‘আমরা লিখব, আমরা সচেতন হবো। আমাদের বেড়ে ওঠার পথ সুগম করতে আমরাই উদ্যোগ নিব। শুধু পাঠ্যবইয়ের পড়ার মধ্যে আমাদের জ্ঞান সীমাবদ্ধ না রেখে চারপাশের জ্ঞান আহরণে এগিয়ে যাবো। চারপাশের এই জ্ঞানই আমাদের জীবন চলার পথ, বড় হওয়ার পথ অনেকটা সহজ করে দিবে।’

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/১১০৮২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য