‘স্যার, নামডা ল্যাকলেই সাহায্য পামু’
- ২০:১১
- উপকূল আজ, উপকূল সংবাদ, প্রধান প্রতিবেদন, ভোলা জেলা, মধ্য-উপকূল, সর্বশেষ
- ২৪৪
ভোলা : ‘স্যার আমার নামডা লেখেন, জোয়ারে ঘরডা ভাইঙ্গা গ্যাছে, কোন সাহায্য পাইনি, ঘরে রান্নাও চলে না, আমার নামটা লেখলেই সাহায্য পামু’।
ভোলার মেঘনাতীরের দুর্গত এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে এভাবেই নাম লেখার আকুতি করেন লাইজু বেগম।
শুধু লাইজু নয়, তার মত নাম লেখার ভিড়ে জড়ো হয়েছেন পারভিন, জয়নব, রাশিদা, আলী হোসেন, জিলন, কাসেম, অরুনা, বিল্লাল, ছিদ্দিক, শহিদা, আনোয়ারা, নুর জাহান, ইউসুফ মাঝি, রহিমা, নুর নাহারহ অর্ধশতাধিক নারী পুরুষ। তাদের দাবী, নাম লিখলেই যেন সাহায্য মিলবো!
এ চিত্র ভোলা সদরের ইলিশা ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন ও বন্যা কবলিত মৌলভীরহাট মাদ্রাসার সংলগ্ন আশ্রয় কেন্দ্রের। বন্যা দুর্গতদের দু:খ-দুর্দশা ও ক্ষয়ক্ষতি জানতে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নাম লেখানোর জন্য ক্ষুদার্থ মানুষের এমন করুন আর্তি দেখা যায়। তবে নাম লিখলেই সাহায্য মেলার কোন নিশ্চয়তা নেই এমন কথা এ প্রতিবেদক বার বার বোঝানোর চেষ্টা করেও যেন তাদের বোঝাতে ব্যার্থ হন।
শুধু সাংবদিক নয়, অপরিচিত কাউকে দেখলেই তারা ছুটে আসেন নাম লেখানোর জন্য। অন্যদের মত নাম লেখার লাইনে আউয়ুব আলী, কাঞ্চন ফরাজি, হারুন, রিয়াজ, আবু খায়ের, সাজাহান, সিরাজ ও আমির হোসেনসহ আরো অনেকে।
টানা ১০ দিন পর ভোলা সদরের ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নে বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ার পর দুর্গত এলাকায় পানি নেমে গেলেও যেন দুর্ভোগ আর সংকট কাটেনি আশ্রয়হারা মানুষের। জোয়ারের ঘরভীটা হারানো এসব মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ওই দুটি ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামে ক্ষতিগস্থ মানুষ কিছুতেই ঘুরে দাড়াতে পারছেন না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আশ্রয় কেন্দ্রে শতাধিক মানুষের ঠাই মিলেছে, এদের বেশীরভাগ জেলে ও দিন মজুর পরিবারের। জোয়ারের পানি ও নদী ভাঙ্গনে মানুষ ভীটে হারিয়েছেন তারা। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে চরম কষ্ঠে দিন অতিবাহিত করছেন। নতুন করে ঘর নির্মানের সামর্থ নেই কারো। ত্রান সহায়তাও পৌছায়নি তাদের কাছে, এমন অভিযোগ তাদের।
এদের মধ্যে পারভিন, সুফিয়া ও সুরমা জানান, আমরা ত্রান চাইনা, মাথা গোজার ঠাই একটি আবাসন চাই, নদীতে আমাদের সব লইয়্যা গেছে।
আবুল ও মনোয়ারা বলেন, আলু ভর্তা খেয়ে দিন কাটাচ্ছি, আমরা নি:স্ব , কেউ আমাদের খোজ নেয়না।
ভোলার জেলা প্রশাসক মো: সেলিম উদ্দিন বলেন, ইলিশা ও রাজাপুরের দুর্গত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১১লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বিতরন করা হয়েছে। নতুন করে বরাদ্দ এলে তা বিতরন করা হবে।
//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/১১০৮২০১৬//
