উপকূলে চড়ুই পাখি বিলুপ্তির পথে
- ১৯:৪২
- উপকূল আজ, উপকূল সংবাদ, ঘটনাপ্রবাহ, জীবনধারা, পরিবেশ প্রতিবেশ, পূর্ব-উপকূল, লক্ষীপুর জেলা, শীর্ষ সংবাদ
- ৮১৭
![]()
কমলনগর, লক্ষ্মীপুর : সুজলা-সুফলা,শস্য-শ্যামলা কিংবা সবুজ মনোমুগ্ধকরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের উপকূল। উপকূলে বসাবসরত বৃহৎ জনগোষ্ঠীর এমন কোন ব্যাক্তি নেই যে সে প্রাকৃতিক পরিবেশকে পছন্দ করেনা। এমনি কি তার মনে কখনো ইচ্ছে জাগে না যে তিনি পরিবেশহীন অঞ্চলে বসাবস করুক।
দুঃখের বিষয় হলেও সত্য এই যে আমরা সমস্যার সমাধান চাই কিন্তু, সংকট উত্তরণে অতি প্রয়োজনীয় কার্যকরী পদক্ষেপগুলো আমলে নিতে পারছিনা। যার ফলে.মানবসভ্যতার ক্রমবর্ধমান বিবর্তনে ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ঐতিহ্যের বন্যপ্রাণী,পশুপাখি এবং সবুজ বৃক্ষগুলো।
উপকূলজুড়ে আগে নজরে পড়তো বহু তালগাছ।এসব তালগাছে আশ্রয় নিতো প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাকারী চুড়ই পাখিগুলো। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে আমাদের চোখে পড়ে না কোন তালগাছ, নজরে আসেনা তালগাছে চড়ুই পাখির বাসা কিংবা চুড়ই পাখি উড়ার দৃশ্যগুলো। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মেঘনাতীরে ঘুরার সময় নজর পড়ে একটি তালগাছে কয়েকটি চুড়ই পাখির বাসা। আরো কিছু তালগাছ লক্ষ করা গেলেও ঐ তালগাছগুলোতে পাখিদের মিলেনি আশ্রয়।
পাখি শিকারের মহোৎসবের ইতিহাসগুলো তাদের নিকট জানা, এজন্য তারা মানুষ থেকে দূরে ফসলের ক্ষেতে অবস্থিত তালগাছটিতে আশ্রয় নিয়েছে। আহ মানবসভ্যতা যেন আজ এসব পাখিগুলোকে ভূলেই গিয়েছে। কেউ ওদের খোঁজ নেয়না, ওদের কথা ভাবেনা।ওদের ছবি তোলার সময় যেন ওদের মনে আনন্দ অবস্থা বিরাজ করছে।
বাহ কি আনন্দের সময় মানুষের ভাষা বুঝলে তাদের সাথে আনন্দ আর বেদনার বিষয়গুলো ভাগাভাগি করা যেত।আউশ ধানের উপরে তাদের আশ্রয়স্থল যেন কোন চিন্তা নেই তাদের ক্ষুদা নিবারণের। এসব চুড়ই পাখিকে দেখতে পেরে বিকালটি খুব ভালোই কাটলো। এভাবে যদি পাখিগুলো আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যায় তাহলে আমরা আমাদের মনকে কিভাবে তৃপ্তি দিতে পারবো ? আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্যতা কিভাবে রক্ষা পাবে ? আমরা যে পরিবেশহীনতায় ভূগবো তার কি কোনো চিন্তা করতেছি ?
উপকূল জুড়ে একদিকে যেমন তালগাছ বিলুপ্তির পথে, অন্যদিকে পাখি শিকারীদের হানা থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা পাখিগুলো।এতে,দিন দিন আমাদের
পরিবেশ হুমকিতে পড়ছে।তালগাছের তাল একটি ফরমালিন মুক্ত ফল। যার বিভিন্নভাবে ব্যবহারে আমাদের শারীরিক সুস্থতা অর্জন করা সম্ভব। অন্যদিকে পাখিগুলোকে টিকিয়ে রাখলে আমরা মনের খোরাক যোগাতে সক্ষম হবো।
উপকূলে বসাবসরত নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ আপনি নিজে এ ব্যাপারে সচেতন হোন ও অন্যকে এই ব্যাপারে উৎসাহিত করুন। প্রশাসনিক ব্যাক্তিরা এ সংকট নিরসনে উপকূলব্যাপী ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা করবেন বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল।
//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/১১০৮২০১৬//
