ভোলার মিষ্টি ও দধি, খ্যাতি দেশজোড়া

ভোলার মিষ্টি ও দধিভোলা : ভোলার ‘মিস্টি আর দধি’ এ দুই মুখরোচক খাবারের খ্যাতি এখন দেশ জুড়ে। বিভিন্ন উৎসবে, অতিথি অপ্যায়নে সর্বত্রই যেন এ দুটি খাবার ছাড়া চলে না। মিষ্টি ও দধি চাহিদা অনেক বেশী তাই জেলা থেকে এসব খাবার চলে যায় বিভিন্ন জেলায়।

ভোলা শহরের ঘোষপট্রিতে তৈরী হয় মিষ্টি আর দধি। সেখানে অর্ধশতাধিক কারিগর সারাদিন মিষ্টি ও দধি তৈরী করেন। চরাঞ্চল ও প্রত্যান্ত এলাকা থেকে আনা খাটি দুধ থেকে তৈরী হয় এ খাবার। খেতে অত্যন্ত সু-স্বাদু মিষ্টি। খাটি ছানা, দুধসহ নানা উপকর দিয়ে তৈরীকৃত এ খাবার যে কারোই মন কাড়বে। একই অবস্থা দধিও। মিষ্টি দধির চেয়ে টক দধির চাহিদা অনেক বেশী। গরু এবং মহিষের উভয় দিয়েই তৈরী দধি ভোজনপ্রিয় মানুষের কাছে জনপ্রিয় এ খাবারগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘোষপট্রির ব্যবসায়ীরা তাদের আধি পেশা ধরে রেখেছেন। পৈত্রিক পেশাকে আরো বেশী সম্প্রসারন করতে নানাভাবে আরো আকর্ষনীয় করার চেষ্টা করছেন তারা। তাই, সেই সময় থেকেই ভোলা মিষ্টি এবং দধি খুবই জনপ্রিয়। রাজধানী ঢাকাসহ অনেক জেলোয় বেশ পরিচিতি লাভ করেছে এ দুটি খাবার। চাহিদা বেশী থাকায় এ খাবার তৈরীর ব্যস্ততা দেখা যায় ঘোষপট্রিতে।

জেলা সদর ছাড়াও মনপুরা ও চরফ্যাশনের বিভিন্ন চরাঞ্চলে গরু ও মহিল পালণ হয়ে থাকে। যা থেকে দুধ উৎপান হয়। বানিজ্যক ও ব্যাক্তিগতভাবে এসব গরু মহিল পালন হয়।

জেলা প্রানী সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী,  জেলায় মোট মহিষের সংখ্যা ৯০ হাজার এবং গরুর সংখ্যা ৩লাখ ৪৩ হাজার টি। এসব গরু ও মহিষ থেকে প্রতিদিন গড়ে দুধ উৎপাদন হচ্ছে ৩০৫ মেট্রিক টন দুধ। তবে জেলায় দুধের চাহিদা ৪১৭ মেট্র্রিক টন। জেলায় উৎপাদিত দুধের বেশীরভাগ ব্যবহৃত হয় দধি ও মিস্টি উৎপাদনে।

এ ব্যাপারে প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার কর্মকার বলেন, জেলায় উৎপাদিত দুধ থেকে দধি ও মিষ্টি উৎপাদনের প্রবনতা বেশী, মোট উৎপাদেনর প্রায় ৪০% দুধ ব্যবহৃত হয় দধি ও মিষ্টি উৎপাদনে, বাকিটা মানুষ খেয়ে থাকেন।

এদিকে, ভোলার রসগেল্লা ও দুধের চাহিদা দিন দিন বাড়ছ। যে কারনে জেলার এসব খাবারের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশব্যাপী। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, দুধ থেকে মিষ্টি, রসগোল্লা, চমচম, রস মালাই, পিঠা, আমৃত্তি তৈরী হয়। তবে বেশী বিক্রি মিষ্টি। আর দধ চলছে সারাবছর।

জেলায় দুধ সংরক্ষনের কোন ববস্থা না থাকায় দৈনেন্দিন উৎপাতিদ দুধ ব্যবহার হচ্ছে। এসব দুধ মিষ্টি ও দধির পাশাপাশি অনান্য মুখরোচক খাবরে ব্যবহার হচ্ছে। আগামীতেও মিষ্টি ও দধির জনপ্রিয়তা থাকবে বলে মনে করছেন ভোলার মানুষ। একই সাথে পশু খাদ্যের সংকট নিরসন এবং পয়োজনীয় প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হলে আগামীত দুধের উৎপাদন আরো বাড়বে বলে মনে করছেন খামারীরা।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/২৩০৭২০১৭//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য