জাতীয় বাজেটে আভ্যন্তরীন সম্পদ সংগ্রহ করতে সরকারকে অর্থপাচার বন্ধ করার পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি

সংবাদ সম্মেলনঢাকা : অাজ ০৭ জুন ২০১৬, বিভিন্ন এনজিও, কৃষক সংগঠন ও নাগরিক নাগরিক সমাজের নেটওয়ার্ক ইক্যুইটিবিডি ঢাকা প্রেসক্লাবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট এর উপর এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এবং দাবী করেন যে, প্রস্তাবিত বাজেটে জনগনের উপর করের বোঝা না বাড়িয়ে বরং অর্থ পাচার বন্ধ করার বিষয়টি সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অন্যদিকে বেসরকারী বিনিয়োগ আকর্ষন করতে হলে বিনিয়োগকারীদেরও আস্থা ফিরিয়ে আনা অবশ্যই জরুরী এবং সেক্ষেত্রে গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।

“কর বৃদ্ধি নয়, বরং অর্থ পাচার বন্ধ হোক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার” শির্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রস্তাবিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সমাজে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্থ হওয়া এবং অসাম্যতা বৃদ্ধির হাতিয়ার বলে সমালোচনা করেন। তারা জাতীয় বাজেটের মাধ্যমে সমাজে সাম্যতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দেশের গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমুহের অবাধ ও মুক্ত চর্চা, পাশাপাশি বর্তমান ক্রমবর্ধমান হারে অর্থ পাচারের যে প্রবনতা দেখা যাচ্ছে তা রোধ করার কার্যকর পদক্ষেপ ও কৌশল নিশ্চিত করার দাবী করেন।

ইক্যুইটিবিডি’র রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে মুল প্রবন্ধ ও দাবীসমুহ পাঠ করেন জনাব আহসানুল করিম বাবর এবং সৈয়দ আমিনুল হক, মোস্তফা কামাল আকন্দ সহ আরও অনেকে জাতীয় বাজেেেটর উপর বক্তব্য রাখেন।

জনাব আহসানুল করিম তার অবস্থানপত্রে বলেন যে. প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের গৃহীত ঋণের সুদ গত বছরের তুলনায় ২৬% বৃদ্ধি করতে হয়েছে যা মোট রাজস্ব আয়ের ১৬%। এছাড়া অনুন্নয়ন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৬৭% দাড়িয়েছে। যে কারনে রাজস্ব আয় থেকে উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থায়ন হতে পারে মাত্র ৩৩% এবং এটা সম্ভব হবে যদি সরকার তার রাজস্ব আয়ে ১০০% সফলতা দেখাতে পারে, তবে এর সম্ভাবনা খুবই কম।

প্রবন্ধে আরও বলা হয় দেশে অর্থ পাঁচারের হার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ২০১৩ সালে অর্থপাচারের পরিমান ছিল সে সময়ের গৃহীত বৈদেশিক অনুদানের প্রায় ১২ গুন বেশী এবং মোট বৈদেশিক ঋণের ১৪১%।

আহসানুল করিম আরও বলেন অর্থ পাচারের কারনে ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে সুইস ব্যাংকে বালাদেশীদের অর্থ জমানোর পরিমান ৪৩% বেড়েছে যেখানে অন্যান্য দেশের কমেছে বিশেষ করে ভারতের। ৩০৬১ জন বাংলাদেশেী মালেশিয়ায় সরকারের “সেকেন্ড হোম” সুবিধা গ্রহন করেছে যা অর্থ পাচারের মাধ্যমেই করা হয়েছে।

সৈয়দ আমিনুল হক বলেন, অবৈধ অর্থ পাচার রোধে আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত যেখানে অনেক ধরনের নীতি ব্যবস্থা গ্রহন করেছে সেখানে বাংলাদেশ সরকারের কোন ব্যবস্থাই আমাদের চোখে পরছে না। বরং সরকার ভ্যাট এবং করের হার বৃদ্ধি করেছে যা আসলে অবিচার। রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন আমদের রাজনীতিতে এবং রাজনৈতিক চর্চায় বিদ্বেষমুলক বক্তব্য ও সংঘাতপূর্ন রাজনীতি পরিহার করতে হবে, গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সমুহ পরিচলনায় অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে যা কিনা নাগরিক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে, তাহেলই অর্থ পাচার বন্ধ হবে বলে তারা মনে করেন। এক্ষেত্রে সরকার যে “জাতীয় শূদ্ধাচার কৌশল পত্র” তৈরী করছে তার কার্যকর বাস্তবায়ন করার মাধ্যমেই দেশ থেকে দুর্নীতি দুরীকরণ এবং অর্থ পাচারের পরিমান কমিয়ে আনা সম্ভব।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/০৭০৬২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য