ইলিশ মিলছে না, ভোলায় ভাসমান মৎস্যজীবীরা সংকটে

সংকটে ভোলার ভাসমান মৎস্যজীবীরাভোলা : প্রতিদিন চাল, ডাল, তেলসহ আনুসাঙ্গিক কিনতে এক হাজার টাকা ব্যায় হয়। কিন্তু সারাদিন জাল বেয়ে দুইশত টাকার মাছও মিলে না। এভাবে কষ্ট দিন কাটছে। মাছ না পাওয়া গেলে কিভাবে চলবে। এমন কথাই জানালেন মানতা সম্প্রদায়ের বাহাদুর। স্ত্রী ৩ মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে মানতা সম্প্রদায়ের বাহাদুর মাঝির নৌকার সংসার। নদীতে মাছ পেলে ভালো খানার জুটে আর না পেলে অভাব-অনাটন।
বাহাদুর বলেন, ঘরবাড়ি বহু বছর আগে ভেঙ্গে গেছে, ছোট বেলা থেকেই নদীতে থাকি’ নৌকাতে থাকি নৌকাতেই সংসার। আয়-রোজগার বলতে নদীর মাছ, কিন্তু এ মৌমুমে নেই কোন মাছ, তাই কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।

মেঘনায় ইলিশ সংকট নিয়ে এমন দুর্দশনার কথাই জানালেন মানতা সদস্য বাহাদুর। শুধু বাহাদুর নয়, তার মত একই অবস্থা আরমান, জবন, কুরবান ও দুলালের।

তারা জানায়, জেলেদের ঘর আছে, বাড়ি আছে, কিন্তু আমাদের কিছুই নেই। একমাত্র নদী ভরসা। কিছুদিন আগে মাছ ধরা বন্ধ ছিলো, আশা ছিলো এখন নদীতে মাছ পাবো, কিন্তু নদীতে মিলছে ইলিশ কিংবা ছোট কোন মাছ।

ভোলার মেঘনা তেতুলিয়া ইলিশ সংকট থাকায় জেলে ও মানতা উভয়ের চলছে দুর্দিন। কয়েকদিন পরেই ইলিশের ভরাব মৌসুম। কিন্তু নদীতে মিলছেনা ইলিশ। ফলে অভাব অনাটন আর অনিশ্চয়তা দিন কাটাচ্ছেন তারা।

ভোলার তজুমদ্দিনের মেঘনা তীরঘেষা হাজিকান্দি। সেখানে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মানতা সম্প্রদায়ের নৌকার বহর। ১০/১২টি নৌকায় বসবাস মানতাদের। পরিবারের সংখ্যা শতাধিক। পুরুষরা অলস সময় কাটাচ্ছেন আর নারী রান্নার কাজে।

মানতা সম্প্রদায়ের দুলাল মাঝি বলেন, কিছুদিন আগে ৩’শ টাকার মাছ পেয়েছি, তা দিয়ে দুদিন কষ্টে কেটেছে। কয়দিন ধরে তেমন মাছ মিলছে না’ স্ত্রী ও ২ সন্তান নিয়ে চরম কষ্টে আছি।

বাহাদুর মাঝি বলেন, নদীতে ইলিশ শিকার করতে বের হলে কমপক্ষে ৬’শ টাকার ২ গ্যালেন তৈল লাগে কিন্তু খরচের তুলনায় মাছ মিলে না’ তবে মধ্যে বেশী মাছ পাওয়া গেলে সেই মাছ বিক্রির জমানো টাকা দিয়ে কয়েক সংসার চলে।

মেঘনা তীরের বিভিন্ন মানতা বহর ঘুরে দেখা গেছে, বড় বড় মৎস্যঘাটকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মানতাদের নৌকার বহর। সেখানের তাদের খাওয়া, দাওয়া, রান্না বান্নাসহ, জীবিকার টানে নদীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত ছুটে চলেন তারা।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, এখন নদীতে মাছ না পাওয়া গেলেও কিছুদিনের মধ্যে মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ইলিশ সাধারনসত লোনা পানিতে থাকতে বেশী পছন্দ করে, তাই সাগরের দিকে চলে যায়। আবার তারা মিঠা পানিতে ফিরবে। নানা কারনে ইলিশের মৌসুমও ছন্দপতন হচ্ছে, তাই কখনও বেশী আবার কখনও কম মাছ পাওয়া যাচ্ছে।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/১৫০৫২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য