সাংসদের কাছে প্রশ্ন, শাহপরীর দ্বীপের দুর্দশা কবে মিটবে?

শাহপরীর দ্বীপটেকনাফ, কক্সবাজার : প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বর্ষা মৌসুম চলে আসছে। শাহপরীর দ্বীপবাসীর দুঃখ দুর্দশার মাত্রা আবার অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাবে। প্রতি বছর দায়িত্বশীল মহোদয় আশার বাণী শোনা তো আগামী বর্ষার মৌসুম শেষ হলেই বেড়িবাঁধের ও রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু হবে। একবুক আশা নিয়ে অসহায় ভাঙ্গণকবলিত শাহপরীর দ্বীপবাসী চেয়ে থাকে কখন বর্ষার মৌসুম শেষ হবে, কখনই বা বেড়িবাঁধ ও রাস্তার কাজ শুরু হবে। এ যেন শাহপরীর দ্বীপবাসীর সঙ্গে ছেলেখেলা শুরু হয়েছে।

প্রতিবছর বেড়িবাঁধ মেরামতের নামে সরকারি কোটি কোটি টাকা হরিলুট করে শাহপরীর দ্বীপের ৪০ হাজার মানুষের মাথায় চাপিয়ে দেয় সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশার বুঝা। আর কতোদিন এই নাটক চলতে থাকলে নাটকের সিরিয়ালের শেষপর্ব আসবে একমাত্র মহান আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ জানেনা। কিন্তু শাহ্ পরীর দ্বীপের ৪০ হাজার অসহায় জনগনকে নিয়েই কেনো শুধু প্রতিবছর বিভিন্ন অযুহাতে তামাশা করা হয়? কি দোষের কারনে আজ আমাদের উপর থেকে এতো বড় প্রতিশোধ নেওয়া হচ্ছে? কি অপরাধ করেছিল প্রিয় শাহ্ পরীর দ্বীপবাসী??

মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়, আপনি যখন যাই বলেছেন শাহ্ পরীর দ্বীপবাসী চোখ বন্ধ করে তাই করেছে। আপনি যেকোনো নির্বাচনে যার পক্ষে মৌনভাবে সমর্থন দিয়েছেন, আপনার নির্দেশে তার পক্ষেই রায় দিয়েছে শুধু বেড়িবাঁধের ও রাস্তার কাজটা যাতে করেন। কিন্তু সমস্যার কোন সমাধান হয়নি। নির্বাচনের আগে কোনোভাবে হোক, শাহ্পরীর দ্বীপবাসীর ঘারের উপর থেকে নিজের স্বার্থ হাসিল করে নেওয়া হয়। আর নির্বাচনের পর ভুলে যান দ্বীপের কথা।

আজ দ্বীপবাসীর প্রশ্ন, আমরা কি আর আমাদের সেই দিনের সেই সোনালী সু-দিনগুলো আর ফিরে পাবো না? আস্তে আস্তে প্রিয় শাহ্ পরীর দ্বীপটি কি সত্যিই পানির নিচে তলিয়ে যাবে? মাথা গুঁজার ঠাঁই টুকুও কি হারাতে হবে আমাদের? কোনো উত্তর কি আছে এলাকার সংসদ সদস্য মহোদয়ের কাছে?

আবদুল বাসেদ, ছাত্র, টেকনাফ ডিগ্রী কলেজ-এর ফেইসবুক থেকে সংগৃহিত

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/১৩০৫২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য