জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকে উপকূল সাংবাদিকতা নিয়ে প্রতিবেদন
- ০১:৪০
- উপকূল আজ, উপকূল সংবাদ, গণমাধ্যম, জাতীয়-উপকূল, প্রধান প্রতিবেদন, বাংলাদেশ, শীর্ষ সংবাদ
- ৩৭৮
ঢাকা : উপকূলের ব্যতিক্রমী ধারার সাংবাদিকতা নিয়ে এবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হল শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকে। ১১ মে বুধবার পত্রিকাটির তরুণকণ্ঠ পাতায় প্রতিবেদনটি স্থান পায়। ‘অনগ্রসর জনপদের পাশে’ শিরোনামে এ প্রতিবেদনটি লিখেছেন চন্দন পাল। এতে দেশের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র সমগ্র উপকূল নিয়ে কর্মরত সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু’র কাজের ধারা ও কলাকৌশল উঠে এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হল।
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানির উচ্চতা বেড়ে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষিজমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে একদিকে যেমন ফসল নষ্ট হচ্ছে তেমনি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গোটা পরিবেশ। নদীভাঙনে বিশাল এলাকা নিমেষেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অসংখ্য মানুষ বাস্তুহারা হয়ে জীবিকার সন্ধানে বিভিন্ন শহরে ভিড় জমাচ্ছে। ফলে শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব, বাসস্থান সমস্যা ও বেকার সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। উপকূলীয় প্রান্তিকে পৌঁছে না উন্নয়ন সুবিধা। সরকারি-বেসরকারি সেবা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এসব জনপদে গড়ে ওঠেনি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। তারপরও এই বিপন্নতার চিত্র কেন্দ্রীয় গণমাধ্যমে খুব কমই আসছে। ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে এলে গণমাধ্যমকর্মীরা ছুটেন উপকূলে। কিন্তু স্বাভাবিক সময়েও এই অঞ্চলের মানুষের জীবন যে কতটা অসহায়, সেদিকে খুব একটা নজর পড়ে না গণমাধ্যমের।
উপকূল-সন্ধানী সংবাদকর্মী রফিকুল ইসলাম মন্টু খবরের খোঁজে বাংলাদেশের উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার তটরেখায় প্রতিনিয়ত ছুটেন। উপকূলের গভীরের খবর তুলে আনেন তিনি। ঝুঁকি নিয়ে ভয়াল নদী পারাপার, কখনো কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পথে হাঁটা। কখনো বা কাঁদাপানি অতিক্রম করে খাল পেরিয়ে ছুঁটেন বিপন্ন মানুষের কাছে। মত্স্যজীবীদের সঙ্গে যান সমুদ্রগামী ট্রলারে। কখনো অবস্থান করেন মত্স্য আড়তে, কখনো মানুষের বাড়িতে। তাঁর চাই খবর। মানুষের সঙ্গে থেকে মানুষের খবর তুলে আনেন তিনি। প্রকাশ করেন গণমাধ্যমে। উপকূলের স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিখাচ্ছেন সাংবাদিকতা। আর এভাবেই তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে, আবার প্রান্তিক জনপদের মানুষেরাও হচ্ছেন তথ্য-সমৃদ্ধ।
পূর্ব-উপকূলের টেকনাফ থেকে শুরু করে পশ্চিম উপকূলে সুন্দরবন পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ১৬ জেলায় ঘুরে সরেজমিন প্রতিবেদন তৈরি করেন রফিকুল। জেলে কিংবা চাষি উপকূলের প্রান্ত থেকে মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন রফিকুল ইসলামের সাথে। স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন, জানতে চান সমাধান। স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকেরা রিপোর্ট করার জন্য বিভিন্ন ইস্যুতে মোবাইলে তাঁর কাছে পরামর্শ চান। রফিকুল উপকূলের বিভিন্ন ইস্যুতে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করেছেন, গবেষণা করেছেন, উপকূল অঞ্চলে কর্মরত সাংবাদিকদের উপকূলের ইস্যু নিয়ে রিপোর্ট করতে উত্সাহিত করছেন।
সরেজমনি তথ্য নিয়ে সংবাদ তৈরির ফলে স্থানীয় সরকারি প্রশাসন সমস্যাটি সমাধানে উদ্যোগী হচ্ছেন। কৃষক, জেলে, মজুরসহ সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার ফলে তারা নতুন কিছু তথ্য জানতে পারছেন। এই নাগরিকগোষ্ঠী নিজের অধিকার সম্পর্কে সজাগ হচ্ছেন। এভাবেই রফিকের ভিন্নধারার রিপোর্টিং সামাজিক সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এভাবে তথ্যপ্রবাহ বাড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে আরও কিছু ইতিবাচক প্রভাব পড়বে উপকূল জুড়ে। জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যম নিয়মিতভাবে উপকূল ইস্যুতে প্রতিবেদন প্রকাশে উত্সাহিত হবে; উপকূলের ইস্যু রাষ্ট্রীয় নীতি-পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে। উপকূল অঞ্চলে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।
এই ব্যতিক্রমী ধারার সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অনগ্রসর এই জনপদের উন্নয়নে সরকারের বেশকিছু নীতি এবং নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্পও রয়েছে। প্রতিবছর বাজেটের একটি অংশ উপকূলে যায়। কিন্তু নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ যেমন নেই, তেমনি উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকির ব্যবস্থাও নেই। যেমন, স্কুল তৈরির জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, কিন্তু স্কুলটি যথাযথভাবে নির্মাণ হলো কী-না তা দেখার কেউ নেই। অনেক দাবির পর স্কুলটি হয়তো দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সে স্কুলে লেখাপড়া আদৌ হচ্ছে কী-না তা দেখার কেউ নেই। প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিত্সা সেবা দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক হয়তো হয়েছে অনেক দাবির পর, কিন্তু সে ক্লিনিকে সেবার ব্যবস্থা আদৌ আছে কী-না তা দেখার কেউ নেই। ফলে এসব উন্নয়নের সুফল পৌঁছাচ্ছে না উপকূলে। এসব কারণে উপকূলের অন্ধকারে আলো ফেলতে তথ্যপ্রবাহের গতি বাড়ানোটাই সবচেয়ে জরুরি।’
//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/১২০৫২০১৬//
