কুয়াকাটায় পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ ইলিশ পার্ক

, কুয়াকাটার ইলিশ পার্ক, মস্তবড় এক ইলিশ, যার পেটের ভেতরেই রেস্টুরেন্টকুয়াকাটা : কুয়াকাটায় ৭২ ফুটের ১টি ইলিশ মাছ আর তার পেটের মধ্যে রেস্টুরেন্ট পর্যটকদের এখন সবচেয়ে বড় আনন্দের খোরাক। পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় ভ্রমনে আসা পর্যটকদের বিনোদনের জন্য তৈরি হয়েছে ওই ইলিশ পার্ক। এ পার্কের অন্যতম আকর্ষন এই রেষ্টুরেন্ট। এখানে ইলিশের পেটের মধেই পরিবেশন করা হবে ইলিশসহ সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লেকের পাশে ৭২ ফুট লম্বা বিশাল ইলিশ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এই মাত্র সাগর থেকে মাছটি ধরা হয়েছে। সূর্যের আলোতে মাছের শরীর চিকচিক করছে। প্রকৃতির আদলে সাজানো লেকের পাশে রাখা মাছটি দেখে উড়ছে সাদা বক। মাছটির আকর্ষনে ধেয়ে আসছে সিংহ ও বাঘ। বাঘ ও সিংহের ধেয়ে আসা দেখে ভয়ে ছুটে পালাচ্ছে ক্যাঙ্গারু, হরিন, বানরসহ বনের পশু-পাখি। ঠিক এমনই ফাইবার ও সিমেন্টর তৈরি বন্য জীবজন্তুর ভাস্কর্য ও লাইফ এ্যানিমেল নিয়ে কুয়াকাটায় পর্যটকদের বিনোদনের জন্য তৈরি হয়েছে “ইলিশ পার্ক এন্ড রিসোর্ট”।

কুয়াকাটা জিড়ো পয়েন্ট থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরের এই ইলিশ পার্ক দেখতে এখন ছুটে আসছে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা। শিশুদের কাছে এই পার্কটি যেন শিশুদের রাজ্যে পরিনত হয়েছে।

প্রায় ৬৬ শতাংশ জমির উপর গহীন বন্য প্রকৃতির আদলে এটি তৈরি করা হয়েছে। এই রেষ্টুরেন্টে সরবরাহ করা হবে শুধুই সী-ফিস। বিলুপ্ত প্রায় সামুদ্রিক মাছ পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে তৈরি করা হয়েছে মৎস্য জাদুঘর। উপকূলীয় এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রাখাইন সংস্কৃতি পর্যটকদের জন্য কাছে তুলে ধরতে রয়েছে ফটোগ্যালারী। ইলিশ পার্কের চারিদিকের লেকের মধ্যে ২২ ফুট লম্বা একটি সাম্পান তৈরি করা হয়েছে। এই সম্পান আসলে একটি মঞ্চ। যেখানে সপ্তাহে ৩দিন সন্ধায় পরিবেশন হবে উপকূলীয় রাখাইন ও বাঙালী হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়েছে “শিশুদের রাজ্য ও ভুতের বাড়ি” নামে ২টি পার্ক। এখানে থাকবে শুধু খেলার বিভিন্ন সামগ্রী ও ছবি তোলার জন্য মজার মজার পুতুল ও বন্য পশু-পাখি। সবুজে ঘেরা এই ইলিশ পার্ক দিনের আলোতে উপভোগের জন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বন্যজগত তৈরি করা হয়েছে। আর রাতের অন্ধকারে পার্কটি লেজার শো ও রং-বেরঙের আলোতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ১টি আধুনিক দ্বীপের আদলে।

ইলিশ পার্ক ঘুরে দেখা যায়, পার্কের চারদিকে ঘেরা লেকে বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছের চাষ করা হয়েছে। পর্যটকদের অবসর সময় কাটানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে আদিম আদলের কটেজ। লেকের পাশে তৈরি করা হয়েছে ছনের তৈরি পাঁচটি সেট ঘর। কাঠ, বাঁশের তৈরি এ সেট ঘরে খাবার পরিবেশনের ট্রে যেমন তেরি করা হয়েছে পাতা দিয়ে, চেয়ার তৈরি করা হয়েছে গাছের শেকড় ও গাছের ছালসহ খন্ড দিয়ে। খাবার সরাবরাহ করা হয় কলাপাতায়। এই সেট ঘরের ২ পাশে বসানো হয়েছে ফাইবার ও সিমেন্টের বাঘ, সিংহ, হাতি, বানরের ভাস্কর্য। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সবগুলোই জীবন্ত। ধেয়ে আসছে তাদের দিকে। মাঠের বাগানে বসিয়ে রাখা হয়েছে হরিন ও হরিনের বাচ্চা, ব্যাঙ , খরগোশ ও কচ্ছপ। দেখলে মনে হয় এগুলো যেন বাগানে ছুটোছুটি করছে।

মাঠে তৈরি করা হয়েছে বন্য আদলে বাগান। যেভাবে রোপন করা হয়েছে বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির বিভিন্ন গাছ। কোন অনুষ্ঠানে এই বাগানে যাতে একসাথে ৫০/৬০ জন মানুষ বসতে পারে তার ও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইলিশ পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অহংকার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। এখানের আদিবাসীসহ বাঙালীদের বিশাল একটি অংশ সাগরে মাছ শিকার করেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু কুয়াকাটার নিজস্ব কোন প্রতীক নেই। যেহেতু কুয়াকাটা ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত তাই এই পার্কের নাম রাখা হয়েছে ‘‘ইলিশ পার্ক এন্ড রিসোর্ট’’। এই বিশাল ইলিশের পেটের ভেতরে তৈরি রেষ্টুরেন্টটিই এখানে এখন প্রধান আকর্ষন।

তিনি জানান, এখানে রয়েছে রয়েছে লাইফ ও কৃত্রিম এ্যানিমেল। বর্তমানে ইলিশ পার্কে বিলুপ্তপ্রায় টারকি, দেশী গুজো বক , খরগোশ, সাদা ইঁদুর। এছাড়া পার্কের প্রবেশের পথে আরও বসানো হবে জিরাপ ও জেব্রা’র ভাস্কর্য। পার্কের টিকিট মূল্য মাত্র ২০ টাকা। –সংগৃহিত

//কুয়াকাটা/০৮০১২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য