জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত খসড়া প্যারিস চুক্তি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান

প্যারিসে বাংলাদেশি নাগরিক সমাজের সংবাদ সম্মেলনপ্যারিস, ১১ ডিসেম্বর ২০১৫ : আজ ফ্রান্সের প্যারিসে জলবায়ু সংক্রান্ত জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। তারা জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত খসড়া প্যারিস চুক্তি  প্রত্যাখ্যান করেন এবং অতি বিপন্ন দেশগুলোর (MVCs) প্রতিও এটি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জলবায়ু চুক্তিতে ঐতিহাসিক দায়িত্ব, (historical responsibilities), সাধারণ কিন্তু ভিন্ন দায়িত্ব (common but differentiated responsibilities), জলবায়ু দূষণকারীদের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সক্ষমতার জন্য সহযোগিতার বিষয়গুলো চুক্তিতে অর্ন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। এসব বিষয়ে ধনী দেশগুলো তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসায় সংবাদ সম্মেলন থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সিএসআরএল/ইক্যুইটিবিডি’র জিয়াউল হক মুক্তার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য  উপস্থাপন করেন ইক্যুইটিবিডি’র রেজাউল করিম চৌধুরী। এতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিসিএএস’র গোলাম রাব্বানী এবং সিডিপি’র জাহাঙ্গীর হাসান মাসুম।

রেজাউল করিম চৌধরুী বলেন, ফ্রান্স যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা এক ধরনের ভন্ডামিতে পরিণত হলো। উন্নত এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো তাদের নিজেদের বাস্তবতার দোহাই দিয়ে অতি বিপন্ন দেশগুলোর টিকে থাকার অধিকারকেই অস্বীকার করতে চাইছে।

তিনি উল্লেখ করেন, খসড়া চুক্তি থেকে জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, ঐতিহাসিক দায়িত্ব, জলবায়ু অর্থায়নে ধনী দেশগুলোর দায়িত্ব এবং অতি বিপন্ন  ও স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়গুলো সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রিতে রাখার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে, অথচ আইপিসি  প্রতিবেদনে এই হার ১.৫-এ সীমিত রাখার জোর সুপারিশ ছিল।

গোলাম রাব্বানী বলেন, ২০২০ সালের আগে ও পরে প্রতি বছর যে ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের কথা বলা হয়েছিল সেটি খসড়া চুক্তিতে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু অভিযোজন এবং প্রশমনের জন্য ৫০% শতাংশ করে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিও এখানে নেই ।

জিয়াউল হক মুক্তা বলেন, এই চুক্তিটি ২০০৯ সালে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিলম্বিত করা হলো। এখন চুক্তি হলেও সেটি কার্যকর হবে ২০২০ সালে। এই মুহূর্তে বিপদাপন্ন দেশগুলোর জন্য  উদ্বেগজনক অনেক বিষয়ই এই চুক্তিতে থাকছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং ধনী দেশগুলোর প্রতি এই পৃথিবিকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

জাহাঙ্গির হাসান মাসুম বলেন, ধনী দেশগুলো খসড়া চুক্তিতে ইন্সুরেন্স এবং ঝুঁকি হস্তান্তরের নামে বাজার ভিত্তিক সমাধান চাপিয়ে দিতে চাইছে।

//প্রতিবেদন উপকূল বাংলাদেশ/১২১২২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য