সরকারি অর্থে নির্মিত ঘর বাসযোগ্য করতে দরিদ্র মানুষের কাঁধে দেনার বোঝা
- ১০:০৪
- দুর্ঘটনা ও অপরাধ, প্রধান প্রতিবেদন, সর্বশেষ
- ২৩৫
উপকূল বাংলাদেশ প্রতিবেদন, তালা, সাতক্ষীরা।। দরিদ্র মানুষ প্রকল্পের টাকায় ঘর পেলেও দেওয়াল, দরজা-জানালা দিতে হয়েছে ধার দেনা করা টাকাই। অনেকে ঘরের অর্ধেক পর্যন্ত করে নিয়েছিল। আবার অনেকে অর্থ অভাবে করতে পারেনি। সবমিলিয়ে ঠিকাদারের কাজের আগে অধিকাংশ পরিবার তাদের ঘরের কাজ করে নিয়েছেন।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় জলাবায়ু ট্রাষ্ট ফান্ড-এর অর্থায়নে ঘূর্নিঝড় সহনীয় গৃহনির্মান প্রকল্পের আওতায় ২০১১ সালের শেষ দিকে পিলার দিয়ে ৭৮টি ঘর নির্মান করা হয়। এসময় নির্মিত ঘরের দেওয়াল, দরজা-জানালা নির্মান করা হয়নি। প্রায় দুই বছর পরে ৭৮টি ঘরের দেওয়াল, দরজা-জানালা নির্মানের জন্য অর্থ বরাদ্ধ দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। তবে বরাদ্দ বিলম্বে আসায় অনেক দরিদ্র পরিবার নিজেদের অর্থে ঘরের দেওয়াল, দরজা-জানালা নির্মান করে নিয়েছে।
সরেজমিনে খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া ও ডুমুরিয়া গ্রামে সুফলভোগী দরিদ্র পরিবারের ঘর দেখে ও কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ ঘরের দেওয়াল, দরজা-জানালা অনেক আগে নিজেরা ধার-দিনা করে দিয়ে নিয়েছে। কোন ঘরের দেওয়াল একটু বাকি ছিল। কোন ঘরে বাকি ছিল দরজা-জানালা। অনেক ঘরে ছিল না প্লাসটার। আবার দুই-একটি ঘরে সবকিছু বাকি ছিল। নিম্মমানের ইট (পাজার ইট) সহ নির্মান সামগ্রী দিয়ে ঘরগুলোর বাকী কাজ করা হচ্ছে। ওই সকল দরিদ্র মানুষের কথায়, ঘরগুলোর বরাদ্দ থেকে নামে মাত্র টাকা ব্যায় করে সর্বস্ব লুটপাট করা হচ্ছে। অধিকাংশ বাড়িতে নামে মাত্র সিমেন্ট-বালি দেওয়া হচ্ছে। এই ইউনিয়নে ঘরগুলোর কাজ করছে মেসার্স রব এন্টারপ্রাইজ।
ডুমুরিয়া গ্রামের লক্ষী রানী বসু জানান, অর্থ অভাবে তিনি দেওয়াল, জানালা-দরজা দিতে পারেনি। এখন এসে খারাপ (আমা) ইট দিয়ে তার ঘরের দেওয়ালে গাঁথুনি করেছে ঠিকাদার। এতে নামে মাত্র সিমেন্ট-বালি দেওয়া হয়েছে। সাড়ে ছয় ব্যাগ সিমেন্ট দিয়ে দেওয়ালের গাঁথুনি ও প্লাসটারের কাজ শেষ করেছে। এখন ঘষা দিলে তা ওঠে যাচ্ছে। আর এখনও লাগানো হয়নি জানালা-দরজা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এমন কাজ আগে কখন দেখিনি। এ কাজের নামে লুটপাট ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না।
বালিয়া গ্রামের হোসনেয়ারা বেগম জানান, তিনি একটি ঘর পেয়েছিলেন। কিন্তু ঘরের দেওয়াল, দরজা-জানালা পায়নি। পরে তিনি একটি সংস্থা থেকে টাকা ঋণ নিয়ে ওই কাজ করেছেন। এখনও তার কিস্তি দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ সিমেন্ট-বালি নিয়ে তিনজন লোক ঘর প্লাসটারের জন্য আমার বাড়িতে যায়। কিন্তু আমার ঘর আগেই প্লাসটার করা ছিল। তার উপর নামে মাত্র প্লাসটার করেছে তারা। এখন তা ওঠে যাচ্ছে। আগের তা ভালই ছিল।’
একই ঘর পেয়েছেন বালিয়া গ্রামের মোম্মাদ মোড়ল। তিনি বর্তমানে ইট ভাটায় কাজে গেছেন। বাড়িতে আছেন তার ভাই আক্কাজ মোড়ল। তিনি জানান, ঘর পাওয়ার পর তার ভাই নিজের অর্থে ঘরের দেওয়াল, দরজা-জানালা দিয়ে নিয়েছেন। সেদিন (প্রায় ১০ দিন) দুই জন লোক সিমেন্ট নিয়ে এসে ঘরের পেছনে প্লাসটারের উপর প্লাসটার করেছে। এসময় ঘরের জানালা ভেঙ্গে দিয়ে গেছে তারা। পরে আর তারা আসেনি।
বালিয়া গ্রামের আয়জান বিবি জানান, তিনি পেশায় একজন ভিক্ষুক। তার ঘরের সামান্য কাজ বাকী ছিল। বাকী কাজ পাশ্ববর্ত্তী আতিয়ার গাজীর ইটের পাজা থেকে ইট নিয়ে সম্পন্ন করেছে ঠিকাদার। তবে ইটের মান ছিল খারাপ। আর নামে মাত্র প্লাসটার করা হয়েছে। হাত দিয়ে ঘষা দিলে ওঠে যাচ্ছে। এমন বক্তব্য উপজেলার অনেক দরিদ্র পরিবারের। অধিকাংশ পরিবার অনেক আগেই ঘরের দেওয়াল, দরজা-জানালা’র কাজ করে নিয়েছেন।
