র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে ভোলায় মুক্ত দিবস পালিত
- ২৩:৪১
- উপকূল আজ, উপকূল সংবাদ, ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষ দিন, ভোলা জেলা, মধ্য-উপকূল, মুক্তিযুদ্ধ, শীর্ষ সংবাদ, সভা-সেমিনার-কর্মশালা
- ৪৮১
ভোলা : বর্নাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে ভোলা মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে (১০ ডিসেম্বর) পাকহানাদার মুক্ত হয় ভোলা।
দিনটি স্মরণে বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) সকালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে বনার্ঢ্য একটি র্যালি বের হয়।
র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে কবি জেলা প্রশাসক কার্যলয় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার দোস্ত মাহমুদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন, ভোলার জেলা প্রশাসক মো: সেলিম রেজা।এসময় আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহামুদুর রহমান, শুভ্রত কুমার কমান্ডার শিকদার, ডেপুটে কমান্ডার শফিকুল ইসলাম, জেলা বিজেপির সাধারন সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, উপজেলা কমান্ডার অহিদুর রহমান,এড্যা: জুলফিকার আহমেদ সহ আরো অনেকে। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষ্যে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুক্তযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে জানা যায়, এপ্রিলের শুরুর দিকে ভোলা ওয়াপদা ভবনে ক্যাম্প করে অবস্থান নেয় পাক হানাদার বাহিনী। ওই ভবনের ২টি কক্ষকে টর্চার সেল বানিয়ে নিরীহ মানুষ কে ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করা হত। ওয়াপদা ভবনের পাশেই রয়েছে বধ্যভূমি যেখানে শতশত মুক্তিপাগল মানুষকে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হয়ে ছিলো। ভোলার দেওলা, বাংলাবাজার এবং দৌলতখানের গুপ্তেরগঞ্জ বাজারে সমুখ যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর পাকসেনাদের মনোবল ভেঙ্গে পরে।
ভোলার মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে ঘিরে শহর দখলের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। এমন সময়ে ১০ ডিসেম্বর ভোররাতে ভোলা লঞ্চ ঘাট থেকে লঞ্চ যোগে পাকবাহিনী ভোলা থেকে পালিয়ে যেতে শুরু করে । মুক্তি যোদ্ধারা তাদের আটকানোর চেষ্টা করেও আধুনিক অস্্েরর কাছে ব্যর্থ হয়। পরে মিত্র বাহিনী কে খবর দেয়া হলে চাঁদপুরের কাছে মিত্র বাহিনীর বিমান হামলায় পাকসেনাদের বহনকারী লঞ্চটি ডুবে যায়।
পাকবাহিনী পালিয়ে যাওয়ার পর ১০ ডিসেম্বর সকালে কালেক্টরেট ভবনের সামনে পতাকা উড়িয়ে ভোলা কে হানাদার মুক্ত ঘোষনা করে মুক্তিযোদ্দারা। এভাবেই ভোলা হানাদার মুক্ত হয়।
//আদিল হোসেন তপু/ উপকূল বাংলাদেশ/ভোলা/১০১২২০১৫//
