জলাবায়ু ফান্ডের অর্থায়ন, গৃহনির্মান প্রকল্পে লুটপাট

climatefund1.jpgউপকূল বাংলাদেশ প্রতিবেদন, তালা, সাতক্ষীরা।। সাতক্ষীরার তালায় জলাবায়ু ট্রাষ্ট ফান্ড-এর অর্থায়নে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঘূর্নিঝড় সহনীয় গৃহনির্মান প্রকল্পে নির্মিত ঘরের দরজা-জানালা ও দেওয়াল নির্মানের নামে লুটপাট চলছে।

তবে বর্তমানে সরকারি অর্থে ঠিকাদার ঘরের দেওয়াল, দরজা-জানালা নির্মানের কাজ করছে নামেমাত্র। এতে নিম্মমানের ইট-বালি ও সিমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। এনিয়ে ঠিকাদারের সাথে কথা বলতে গেলে দরিদ্র পরিবার গুলোর দেখানো হচ্ছে বিভিন্ন অজুহাত। বলা হচ্ছে, এর বেশি কাজ করা সম্ভব নয়। হাতে বরাদ্দ নেই।

তালা উপজেলায় জলাবায়ু ট্রাষ্ট ফান্ড-এর অর্থায়নে ঘূর্নিঝড় সহনীয় গৃহনির্মান প্রকল্পের আওতায় ২০১১ সালের শেষ দিকে পিলার দিয়ে ৭৮টি ঘর নির্মান করা হয়। এসময় নির্মিত ঘরের দেওয়াল, দরজা-জানালা নির্মান করা হয়নি। প্রায় দুই বছর পরে ৭৮টি ঘরের দেওয়াল, দরজা-জানালা নির্মানের জন্য অর্থ বরাদ্ধ দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। তবে বরাদ্দ বিলম্বে আসায় অনেক দরিদ্র পরিবার নিজেদের অর্থে ঘরের দেওয়াল, দরজা-জানালা নির্মান করে নিয়েছে।

তালা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যায়ে ঘূর্নিঝড় সহনীয় ৭৮টি ঘরের দরজা-জানালা ও দেওয়াল নির্মানের জন্য ২০১৩ সালের ২২ আগষ্ট দুইটি প্যাকেজে দরপত্র আহবান করা হয়। এর প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ হয় ৬৩ হাজার ৫৪০ টাকা। এক নম্বর প্যাকেজে ৫০ টি এবং দুই নম্বর প্যাকেজে ২৮ টি ঘর রয়েছে। এই কাজের দরপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর। দুইটি প্যাকেজের মধ্যে এক নম্বর প্যাকেজে ৪০ টি ও দুই নম্বর প্যাকেজে ২৮ টি সিডিউল দাখিল হয়। লটারির মাধ্যমে আলাউদ্দীন গাজী (৫০টি) ও মের্সাস রব এন্টারপ্রাইজ (২৮ টি) ঘর পায়। দু’টি প্রতিষ্টানে ওই বছরের ২৮ অক্টোবর কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বর্তমান ঘরগুলোর কাজ চলছে।

খেশরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম লিয়াকত হোসেন জানান, ঘর পাওয়া দরিদ্র পরিবারের অনেকে আগেই দেওয়াল, দরজা-জানালা করে নিয়েছিল। হাতে গোনা দু-একটি ঘর বাকি ছিল। এরমধ্যে অনেকে অর্ধেক পর্যন্ত করে রাখেছে।

ঠিকাদারী কাজে নিয়োজিত মেসার্স  রব এন্টারপ্রাইজ-এর মালিক আব্দুর রব জানান, কাজটি পাওয়ার পর তিনি তালার কনক নামে এক ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। অন্য সাইডে কাজ আছে বলে, এই কাজটি বিক্রি করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ঝামেলাআছে। ১০ টাকা লাভ হলে এ থেকে জেড পর্যন্ত সবাইকে টাকা দিতে হয়। আর এই কাজের বিষয়টি আমার তেমন জানা নেই।

তালা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, ঘরের দেওয়াল, দরজা-জানালার কাজ চলছে। প্রায় ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের কোন বিল এখনও দেওয়া হয়নি। কাজে অনিয়মের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান।

পরের কিস্তি: সরকারি অর্থায়নে আবাসন, ঘরের দেয়াল-দরজা-জানালা দরিদ্র মানুষের ধারের টাকায়

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য