কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা পৌঁছেছে ঝালকাঠির প্রত্যন্ত গ্রামে

ঝালকাঠির গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা নিচ্ছেন এক নারীঝালকাঠি : ‘১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর চালু করেছিলেন কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম। তখন স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশের একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা  পৌছে যাবে। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ২০০১ সালে ৪ দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসায়। তারা ক্ষমতায় এসেই কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম স্থবির করে ব্লাক বেঙ্গল ছাগল পালনের উপর জোর দেন। প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায়ে সেই ছাগল পালন কর্মসূচী সফল হতো কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনে ছাগল রাখার মধ্যে। এক পর্যায়ে ভেস্তে যাচ্ছিল কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে পুনরায় হাল ধরেন কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম। এর সুবাদে হয়েছে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান এবং প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের লোকজনের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান কার্যক্রম। এতে গ্রামের খেটে খাওয়া-অসহায় থেকে শুরু করে সর্বসাধারণ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করছেন’।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার আগরবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে বসে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় কথাগুলো বলেছেন সিভিল সার্জন ডাঃ আঃ রহিম। শুধু তিনিই নন, আরও আশপাশের অন্যরাও তখন এই উদ্যোগের প্রশংসায় বলে উঠলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ’। ‘তিনিই পারেন এবং পেরেছেন বলেই তাকে ধন্যবাদ। হয়তো স্বল্প সময়ে এ কথা বোঝানো যাবে না- তবে এই অজ গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিকটি যে কী ভরসা-আস্থার নাম তা নিজ চোখে না দেখলে কেউ টের পাবেন না,’ জোরালো কণ্ঠে বললেন ক্লিনিকে কর্মরতরাসহ সাধারণ গ্রামবাসী ও সেবা নিতে আসা রোগীরা।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের আগরবাড়ি গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকটি সেবা দিচ্ছে এখানকার হাজারো জনতাকে। কৃষ্ণকাঠি ওয়ার্ডের জন্য আগরবাড়ি বাজার সংলগ্ন এই ক্লিনিকটি প্রতিষ্ঠিত। প্রতিদিন অর্ধশত মানুষ তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসেন। হয় চেকআপ, দেওয়া হয় ওষুধ- যার সবই বিনামূল্যে। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এ ক্লিনিকটিতে বর্তমানে কর্মী সংখ্যা পাঁচজন। সরকারী রেজিষ্ট্রিকৃত এমবিবিএস চিকিৎসক ১ জন, স্বাস্থ্য সহকারী (এইচএস) একজন এবং কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) রয়েছেন দুই জন। এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে মাস্টাররোলে নিয়োজিত একজন।

চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন বাসন্ডা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার মুনিরা ইয়াসমিন। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পদে কর্মরত আছেন মুনিরুজ্জামান ও ফারহানা চৌধুরী।  হেল্থ এসিস্ট্যান্ট (এইচএস) পদে  ফেরদৌসী বেগম এবং পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে মাস্টাররোলে রোজিনা বেগম কর্মরত আছেন।  প্রত্যেকেই স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রশিক্ষিত।

মেডিকেল অফিসার মুনিরা ইয়াসমিন বলেন, বিনামূল্যে সব রকম সেবা দেওয়া হয় এখানে। রোগীদের কাছ থেকে কোন রকম কোন প্রকার টাকা পয়সা নেয়া হয়না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ প্রদান করা হচ্ছে। ঘুরে দেখা যায়, বারান্দা ও দুটি রুম নিয়ে ক্লিনিকটি প্রতিষ্ঠিত। পাকা ঘর সঙ্গে ঢালাই ছাদও আছে। রয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। সকাল ৯টা থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। সপ্তাহে শনি, সোম ও বুধবারে মেডিকেল অফিসার ডাঃ মুনিরা ইয়াসমিন রোগীদের চিকিৎসাপত্র ও বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান করেন। রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবারে বাসন্ডা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা প্রদান করেন।

এ ৩ দিন উক্ত কমিউনিটি ক্লিনিকে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। ইপিআই টিকার মাধ্যমে যে আটটি রোগ প্রতিরোধ করা যায় সেগুলো দেওয়া হয় এ কার্যক্রমের আওতায়। শুধু তাই নয়, টিকা দিবসে গ্রামে বাড়ি বাড়ি প্রচার-প্রচারণাও করা হয় নিজস্ব উদ্যোগে। টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ যাবে না একটি শিশু এ লক্ষ্য নিয়েই কাজ করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা । সরকারের কঠোর মনিটরিংও রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ মিটিংয়ে এ রকম নানা বিষয়ে আমাদের জবাবদিহি করতে হয়। শনিবার বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডাঃ বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করেছেন। সাথে ছিলেন ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুর রহিম।

ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুর রহিম শনিবার দুপুর ১২ টায় আগরবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিদর্শন বইতে তিনি লিখেন ভবনের ছাদ থেকে পানি চুষে পড়া, দেয়ালে ফাটল, অবকাঠামো দুর্বল, ফ্লোরে ভাঙা, বিদ্যুত সংযোগ না থাকা, টিউবয়েল নষ্ট রয়েছে। এগুলো উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য চিঠি দেয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুর রহিম।

//মোঃ আতিকুর রহমান/ উপকূল বাংলাদেশ/ঝালকাঠি/০৩১০২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য