উপকূলের প্রান্তিকে পৌঁছাবে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা
- ২২:৪৫
- উপকূল আজ, উপকূল সংবাদ, তথ্য-প্রযুক্তি, পটুয়াখালী জেলা, প্রধান প্রতিবেদন, মধ্য-উপকূল, শীর্ষ সংবাদ, সর্বশেষ, সুসংবাদ
- ২৬১
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) : পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিণ ল্যান্ডিং ষ্টেশনের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। কুয়াকাটা সংলগ্ন লতাচাপলী ইউনিয়নের গোড়াআমখোলাপাড়া এলাকায় নির্মাণ হচ্ছে ষ্টেশনটি। যার ফলে উপকূলীয় জনপদের হাজার হাজার মানুষের অর্থনৈতিক জীবনধারা পাল্টে যাচ্ছে। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে দুই শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আর ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে সুবিধা বঞ্চিত উপকূলীয় জনপদের মানুষ।
জানাগেছে, এখানকার অধিকাংশ মানুষ অভাবের তাড়নায় বছরে কমপক্ষে চার মাস শহরে গিয়ে দিন মজুরির কাজ করতেন। বাংলাদেশ সাবমেরিণ কেবল কোম্পানীর বাস্তবায়নে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিণ কেবল ল্যান্ডি ষ্টেশন নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। দুই শতাধিক মানুষ এখন নিজের বাড়িতে থেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ায় স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন। সাবমেরিণ ল্যান্ডিং ষ্টেশন নির্মাণ কাজকে ঘিরে এলাকাটি আলোকিত জনপদে পরিণত হয়েছে। যেখানে মানুষ তাদের জমিজমা চাষাবাদে অনাগ্রহ দেখাতো, তাঁরা এখন সোনার দামে জমি বেচাকেনার স্বাদ গ্রহন করছেন। আর্থিক দৈন্যতা ইতি টানতে যাচ্ছেন এসব সুবিধাবঞ্চিত অবহেলিত জনপদের মানুষ।
প্রকল্প এলাকার ১০ একর জমি অনেক আগেই ভরাট করা হয়েছে। জমিতে দেয়া হয়েছে সীমানা প্রাচীর। প্রশানিক ভবন নির্মানের কাজ শেষ হয়েছে। এর আশপাশেই বসেছে অসংখ্য দোকানপাট। পাইলিং, রাজমিস্ত্রি, ড্রেডিং মেশিনে বালু ভরাটের শ্রমিকদের চাহিদা পূরণে ওইসব দোকানগুলোতে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে দেদারছে। ল্যান্ডিং ষ্টেশনকে ঘিরে ৩শতাধিক পরিবার এসেছে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগের আওতায়। মূল ভবনের কাজ প্রায় শেষের পথে। গভীর সমুদ্র থেকে ওই কেবল ল্যান্ডিং ষ্টেশনের কাছাকাছি আনা হচ্ছে। এখন প্রতিদিন বিকেলে দর্শনার্থীর ভীড় জমে সাবমেরিন ল্যান্ডিং ষ্টেশনে। শত শত স্থানীয় নারী-পুরুষ এবং পর্যটক ও দর্শনার্থীরা প্রতিদিন এখানে ভীড় করছেন। অজানা, অচেনা এ জনপদ এখন রিক্সা,ভ্যান, মটরসাইকেল, অটোবাইকে শব্দে চিরচেনা এ দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। শতাধিক নির্মাণ শ্রমিকের দিনরাত কাজে এখন কর্মমুখর পরিবেশে পরিনত হয়েছে।
ঝড়-ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ এ অঞ্চলের মানুষের কাছে শুধু কৃষি এবং মাছ ধরার পেশা ছিল জীবিকার অবলম্বন। কিন্তু প্রাকৃতিক বির্পযয় এ পেশায় দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। সাবমেরিণ কেবল ল্যান্ডিং ষ্টেশনের নির্মাণ প্রকল্প শুরু হওয়ায় ধুঁকে ধুঁকে চলা ওই পেশার মানুষগুলোর এখন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সাবমেরিণ কেবল ল্যান্ডিং ষ্টেশনের প্রকল্প পরিচালক পারভেজ রানা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে গভীর সমুদ্র থেকে কেবল এনে প্রশাসনিক ভবনের সাথে স্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। এসময়ের মধ্য প্রতিস্থাপন করতে না পারলে ২-৩ বছরের জন্য পিছিয়ে পড়বেন তারা। বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানা থেকে কুয়াকাটার গোড়া আমখোলা পাড়ার কেবল ল্যান্ডিং ষ্টেশনে নিয়ে আসার জন্য জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান কাজ প্রায় শেষ করেছে।
এ কর্মকর্তা আরও জানান, কক্সবাজারের চেয়েও কুয়াকাটার এ দ্বিতীয় ল্যান্ডিং ষ্টেশন হবে অত্যাধুনিক। বাংলাদেশ সাবমেরিন কোম্পানীর উদ্যোগে ম্যানহোল নির্মানের জন্য ১০ শতাংশ জমি চিহিৃত করা হয়েছে। ম্যানহোল থেকে ল্যান্ডিং ষ্টেশনে দ্রুত প্রতিস্থাপন করা হবে বলে প্রকল্প কর্মকর্তা জানিয়েছে।
//কাজী সাঈদ/উপকূল বাংলাদেশ/কুয়াকাটা-পটুয়াখালী/০৯০৯২০১৫//
