ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত হল জমজমাট পেয়ারা মেলা

পেয়ারা মেলাবরিশাল : ‘বাংলার আপেল’ খ্যাত বিলাঞ্চলের পেয়ারা নিয়ে প্রথমবারের মত ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত হল পেয়ারা মেলা। পেয়ারা চাষিদের কল্যান ও দেশীয় জাতের এ সবুজ আপেলকে সারা দেশে পরিচিত করার লক্ষ্যে এ মেলা বসে ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার ভীমরুলি সার্বজনীন মন্দির প্রাঙ্গনে স্থানীয় জনতা ক্লাব এবং বরিশালের পর্যটন সংগঠন ‘বেড়াই বাংলাদেশ’ যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে।

গ্রামের পেয়ারা চাষি মেলা কমিটির আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ভবেন্দ্রনাথ হালদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ আবু বকর ছিদ্দিক এবং ঝালকাঠি এলজিইডির নির্বাহী পরিচালক মো. সেলিম সরদার।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বেড়াই বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মাহমুদ হাসান খান, ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আককাস সিকদার, বরিশালের গনমাধ্যমকর্মী আরিফুর রহমান সহ স্থানীয় পেয়ারা চাষিরা । ব্যতিক্রমধর্মী এ মেলায় আলোচনা অনুষ্ঠানের সঞ্চলনা করেন সাংবাদিক পলাশ রায় ।

মেলায় শতাধিক পেয়ারা চাষি দেশিয় জাতের পেয়ারার পসরা সাজিয়ে বসে পুরো মেলা চত্তরা ঘিরে। মেলা দেখতে বরিশাল ও ঝালকাঠি থেকে নদী পথে ট্রলারযোগে আসা সহস্রাধিক পর্যাটকের অংশগ্রহন এক মিলন মেলায় পরিনত হয় পুরো ভীমরুলি গ্রাম।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে পেয়ারা চাষিরা বলেন, প্রতি বছর পেয়ারা পেঁকে গিয়ে বড় অংশের উৎপাদন বাগানেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । এখানে জ্যাম জ্যালি কারখানার সরকারী কিংবা বেসরকারীভাবে তৈরি হয়নি আজও । অপরদিকে সড়ক পথে যোগাযোগ না থাকায় পেয়ারা বিপন দূর্গম হওয়ায় ন্যায্যমূল্য থেকে প্রতি বছরই বঞ্চিত হতে হচ্ছে অসংখ্য চাষিকে । বর্তমানে পেয়ারার হাটে দু’শ টাকা মন দরে বিক্রি করে উৎপান খরচই পাওয়া যাচ্ছেনা বলেও উল্লেখ করেন পেয়ারা চাষিরা ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক বলেন, সমপ্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। কৃষিমন্ত্রনালয় ঝালকাঠিতে পরিদর্শনের জন্যও খুব শীঘ্রই আসবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া এখানে একটি জ্যাম-জ্যালি কারখানা তৈরি জন্যও জেলা প্রশাসক বেসরকারী পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

//আরিফ রহমান/উপকূল বাংলাদেশ/বরিশাল/০৮০৮২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য