সিডরের তিন বছর : ফিরে দাঁড়াতে পারেনি মানুষ

dsc_0807.jpgনিখিল ভদ্র ।।
প্রলয়ংকরী সাইক্লোন সিডরের স্মৃতি আজও দেশবাসীর চোখের সামনে বেশ উজ্জল হয়ে আছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এই সুপার সাইক্লোন তিন বছর আগে দেশের উপকূলীয় ১২টি জেলায় আঘাত হানে। এতে অসংখ্য মানুষসহ জীবজন্তু প্রাণ হারায়, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস’ হয় এইসব এলাকার প্রায় এক কোটি মানুষ। ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানার পর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস’ মানুষ। দারিদ্র্য, অভাব-অনটন বিধ্বসত্ম উপকূলবাসীর প্রায় সকলেরই এখনও নিত্যসঙ্গী। এমনকি মৌলিক অধিকার বঞ্চিত এসব মানুষের অধিকাংশেরই খাবার জোটেনা, আজও হয়নি মাথা গোঁজার নিরাপদ ঠাঁই। দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পুনর্বাসনের নানান উদ্যোগ দেখা গেছে। তারপরও অধিকাংশ মানুষ বয়ে বেড়াচ্ছে সেই ধ্বংসের চিহ্ন।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডরের আঘাতে শুধু ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়নি। উঠতি আমনের ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। গাছপালা, ঘের ও পুকুরের মাছ, গবাদিপশু, সুন্দরবন মোটকথা উপকূল অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ধ্বংস হয়। সিডরের পর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই ক্ষতি ২০ বছরেও পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। সিডরে ক্ষতিগ্রস’ দুর্গত মানুষের দু:খ-দুর্দশা বলে শেষ করা যায়না। ত্রাণ সামগ্রী বিতরনের খবর প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ফলাও করে যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে, সে তুলনায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ সাহায্য পেয়েছে খুবই যৎসামান্য। এরপরও ক্ষুধার্ত মানুষের মাথায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার ঋণের বোঝা। কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ, আবার কৃষকদের মধ্যে ঋণ বিতরণের কথা থাকলেও অনেক কৃষক ঋণ পায়নি। সিডরে এই মানুষগুলো আপনজনসহ সবকিছু হারিয়েছে। এদের অনেক পরিবারেই ২-১ জন ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই। জেলেরা জাল-নৌকা হারিয়ে নিঃস্ব হলেও তাদের পুনর্বাসনে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর গ্রামীণ অর্থনীতির মেরম্নদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে আমন ধান, শাক-সবজিসহ কৃষিপণ্য, গবাদি পশু ও মৎস্য খাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। বরিশাল, খুলনা, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ফরিদপুরসহ ১৪টি জেলার আমন ব্যাপকভাবে বিনষ্ট হয়েছিল। এছাড়া ২৩টি জেলায় ধান, আলু, ফুলকপি, বাধাকপি, সিমসহ শীতের মৌসুমী শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এই ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ ১৪টি জেলায় ১৫ লাখ টন আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে ভোলায় ২ লাখ ৬৮ হাজার টন, পটুয়াখালীতে ২ লাখ ১৪ হাজার টন, বরিশালে ১ লাখ ৬০ হাজার টন, বাগেরহাটে ১ লাখ ৫ হাজার টন, সাতক্ষীরায় ১ লাখ ৫ হাজার টন, খুলনায় ১ লাখ ১ হাজার টন আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ঘূর্ণিঝড়ে সিংহভাগ ফসলই নষ্ট হয়।

আমনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ ২৩ জেলার বোরো ধানের ৪০ ভাগ বীজতলা সম্পূর্ণ এবং ২০ ভাগ বীজতলা আংশিক নষ্ট হয়ে যায়। আর এলাকার আবাদী জমিতে জলোচ্ছ্বাসে নোনা পানি প্রবেশ করায় জমির উর্বরতাও নষ্ট হয়। পরবর্তীতে এসব আবাদি জমিতে নতুন ফসল উৎপাদন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ফলে কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল ওই অঞ্চলের কৃষক পরিবারগুলোর জীবন-জীবিকায় নেমে আসে আরও বিপর্যয়। সিডরে লাখ লাখ একর জমির আমন ফসল মাত্র কয়েক মুহূর্তের আক্রমণে আগাছায় পরিণত হয়। শত শত পানের বরজ নষ্ট হয়েছিল। উপকূলীয় ১৫টি জেলায় ৩৮৩টি পানের বরজের মধ্যে প্রায় সব কটিই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এরমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে ২৯৮টি পানের বরজের। বাকিগুলোতে ৫০ শতাংশ ক্ষতি হয়। আর লবণাক্ত অঞ্চলের অন্যতম অর্থকরী ফসল নারিকেল এবং সুপারি বাগানগুলো আজও স্পষ্ট সেই ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত। অধিকাংশ নারকেল ও সুপারি গাছ ভেঙ্গে যায়, আর যেগুলো টিকে ছিল সেগুলোতেও আগের মতো ফল হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

উপকূলীয় এলাকায় চিংড়ি ঘেরের পাশাপাশি অন্যান্য মাছের খামারও নষ্ট হয়। ১০টি জেলায় প্রায় আড়াই হাজার মাছের খামার ক্ষতিগ্রস্থ হয় সেই সময়। এরমধ্যে বেশিরভাগ খামারের মাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে যায়। এখাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিক হিসাবে ছিল আড়াই হাজার কোটি টাকা। এছাড়া ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ভাসিয়ে নিয়ে যায় মাছের ঘের, উড়িয়ে নিয়েছিল পোলট্রি খামার, উপড়ে ফেলে হাজার হাজার গাছ। ঘূর্ণিঝড়ে দেশে গবাদিপশু ও মৎস্য খাতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এরমধ্যে গবাদিপশু খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি আড়াই হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে মৎস্য খাতে। ঝড়ে উপকূলীয় ১৫টি জেলায় প্রায় ১৫ লাখ গৃহপালিত পশুপাখি মারা যায়। এর মধ্যে গরম্ন, বাছুর, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি ও কবুতর রয়েছে।

বাঁধ ও সেতু : প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিড়র দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনের ঝুঁকি কয়েক গুন বাড়িয়ে দেয়। জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে জনপদকে রক্ষাকারী প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে শুধু বাঁধের ক্ষতি হয়েছে সাড়ে ৭শ’ কোটি টাকার বেশি। এতে বরগুনা জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস’ হয়েছে। এ জেলার ১৭৬ কিলোমিটার বাঁধ সম্পূর্ণভাবে এবং ৪৪১ কিলোমিটার আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস’ হয়। হাইমচর, ফরিদগঞ্জ, রামগঞ্জ, চাঁদপুর, হাজিমাওয়া, মতলবের ৪৩ দশমিক ২০০ কিলোমিটার; কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী সদর, লক্ষ্মীপুর, রামগতি, মহেশখালীর ৪৫ কিলোমিটার সম্পূর্ণভাবে ও ২৩০ কিলোমিটার বাঁধ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস’ হয়। বাঁশখালী, মিরসরাই, সন্দ্বীপ, সীতাকুন্ডে ১০৫ কিলোমিটার। বাগেরহাট সদর, দৌলতখান, চরফ্যাসন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, মনপুরায় ২২৫ কিলোমিটার বাঁধ বিধ্বসত্ম হয়।

এদিকে সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস’ বেড়িবাঁধ মেরামত কাজ শেষ হওয়ার আগেই এ বছরের অক্টোবর মাসের শুরম্নতে টানা চারদিনের বৃষ্টিপাত, অমাবস্যার প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি ও টর্নেডোর আঘাতে লন্ডভন্ড উপকূলে নতুন নতুন বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। শুধু পানি উন্নয়ন বিভাগের হিসাবেই এ বিভাগের ৬ জেলায় ২৯০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও ১০টি সস্নুইসগেট ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সবচেয়ে বেশি প্রায় ৫০ কোটি টাকার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস’ হয় বরিশাল জেলায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আংশিক ক্ষতি হয় ৫৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। এছাড়া ২টি সস্নুসগেটের ক্ষতি হয়। কম ক্ষতি হয় ঝালকাঠি জেলায়। এ জেলায় ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুরোপুরি ও ২৩ কিলোমিটার আংশিক বিনষ্ট হয়। বরিশাল জেলায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুরোপুরি ও ৩৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক নষ্ট হয়। পটুয়াখালী জেলায় ২১ কিলোমিটার বাঁধ সম্পূর্ণ এবং ৯০ কিলোমিটার আংশিক ক্ষতি হয়। সিডরে ক্ষতিগ্রস্থ ওই বাঁধটি নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে তা প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। পায়রা নদীর প্রবল স্রোত ওই বেড়িবাঁধ ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বরগুনা জেলায় ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুরোপুরি ও ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক এবং ৫টি সস্নুইসগেট ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এছাড়া পিরোজপুর জেলায় ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ ও ৩৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস’ হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা জানান, সিডর ও আইলা পরবর্তী সময়ে এসব বেড়িবাঁধ ও সস্নুইসগেট মেরামত ও পুন:নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। পুরোপুরি সংস্কারের আগেই জলোচ্ছ্বাস ও বর্ষনে অধিকাংশ বেড়িবাঁধ পুনরায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে বিভিন্ন ফসলি জমি ও বাড়িঘর, মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বাঁধ ও সস্নুইসগেট মেরামত ও পুন:নির্মাণে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় একশ’ কোটি টাকা।

ঘূর্ণিঝড় সিডরের তিন বছর পরেও উপকূলের বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ সেতুগুলো সম্পূর্ণভাবে সংস্কার করা হয়নি। এতে এসব এলাকার মানুষ চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন। পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার কালাইয়া খালের ওপর নির্মাণ করা সেতুর মাঝ বরাবর ভেঙ্গে গেছে। ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় সেতুটি ক্ষতিগ্রস’ হয়। ইন্দুরকানী সেতু, মুনিরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সেতু, পথেরহাট বাজার সংলগ্ন খালের সেতু, ইন্দুরকানী বাজার সংলগ্ন ভারানী খালের সেতু, কালাইয়া আজাহার আলী হাওলাদারের বাড়িসংলগ্ন সেতু, কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সতীশ মন্ডলের বাড়ির সামনের সেতু ও চারাখালী এলাকার সেতু ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কিন’ এখনো সেতুগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

নিঃস্ব জেলেরা : উপকূলীয় এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মৎস্যজীবী পরিবার মৌসুমের সময় সংশিস্ন্লষ্ট চরগুলোতে গিয়ে অস্থায়ী আবাস গড়ে এবং মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় সব জেলে পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। প্রাথমিক হিসাবে প্রাপ্ত তথ্যে এখনো প্রায় ৫০ হাজার জেলে নৌকা ও তাদের জালের সন্ধান মেলেনি। ফলে যেসব জেলে বেঁচে আছে তারাও নৌকা ও জালের অভাবে মাছ ধরতে পারছে না। আবার তারা মহাজন, এনজিও এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এই নৌকা ও জাল তৈরি করেছিলো। বরগুনার পাথরঘাটার জেলে পান্না জানান, বন্যায় ট্রলার এবং জাল হারানোয় তারা এখন নিঃস্ব। দুর্গতদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে বাঁচতে হলে অবিলম্বে সহজ শর্তে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করার বিকল্প নেই।

সুন্দরবন : উপকূলের মানুষ ও সম্পদের বড় নিরাপত্তা বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট সুন্দরবন। অতীতের মতো এবারও সুন্দরবন বুক দিয়ে সিডরের হাত থেকে উপকূলীয় জনপদকে রক্ষা করেছে। আর এতে সুন্দরবনের নজিরবিহীন ক্ষতি হয়। সুন্দরবন এলাকায় ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১১০ হাজার হেক্টর এলাকার গাছ ভেঙ্গে যায়। এরমধ্যে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর এলাকার গাছ পুরোপুরি এবং ৮০ হাজার হেক্টর এলাকার গাছ আংশিক ভেঙে যায়। মৃত একটি বাঘ ও ২৪টি হরিণের লাশ পাওয়া যায়। অসংখ্য পশু পাখি মারা যায়। এতে সুন্দরবন তাৎক্ষনিকভাবে তার জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সিডরের পর সুন্দরবনের অনেক স্থানেই দেখা যায়, একটি গাছও সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নেই। ঝড়ে পানি ও মাটি দূষিত হয়ে যাওয়ায় এই ক্ষতি পুষিতে উঠতে সময় লাগবে। ফলে সেই মুহূর্তে সুন্দরবন দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এরপর সুন্দরবন স্বাভাবিক নিয়মে বেড়ে উঠলেও তাকে সংরক্ষণের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আশ্রয় কেন্দ্র : এদিকে দুর্যোগে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত হলেও তা অপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার আশ্রয়কেন্দ্রের প্রতিটিতে ১ হাজার করে লোক আশ্রয় নিলেও ১ কোটি ১৬ লাখ লোক বিপদের মুখে থাকে। তাছাড়া অযত্ন-অবহেলার কারণে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো অধিকাংশ সময় থাকে ব্যবহার অনুপযোগী। এরপর ঘূর্ণিঝড় সিডর মোকাবেলা করে অধিকাংশ আশ্রয়কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বেশিরভাগ ভবন মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় তা ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে। এছাড়া বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং শক্তিশালী নৌযানের অভাবে উপকূলের দুর্গম এলাকা থেকে এই সকল আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজনকে সরিয়ে আনা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে দ্রম্নত ব্যবস্থা না নিলে উপকূলের মানুষকে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে।

পুনর্বাসন কার্যক্রমে অসঙ্গতি : ‘ভেড়া ছাড়া এসব ভেড়ীর বাচ্চা হবে কীভাবে?’ অতি সাধারণ এই প্রশ্ন করলেন রহিমা বেগম। বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার পারিশা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের ত্রিশোর্ধ্ব এই নারী দাঁড়িয়েছিলেন দীর্ঘ লাইনে। দুইশ’ নারী-পুরম্নষের লাইন। তবে একটা জায়গায় সবার মিল রয়েছে। তারা সকলেই ঘূর্ণিঝড় সিডরে সর্বস্ব হারিয়েছেন। সব হারানোদের আবার উঠে দাঁড়াতে আনত্মর্জাতিক সহায়তায় যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, সে সহায়তা নিতেই গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার পারিশা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে জড়ো হয়েছিলেন রহিমারা। তাদের জড়ো করতে ভূমিকা রাখে এনজিওগুলো। পুনর্র্বাসন প্রকল্পের অংশ হিসেবে সবাইকে দেওয়া হচ্ছে একটি করে ভেড়া। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস’রা সাহায্য নিচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা আর্থারিন কাইজেনের কাছ থেকে। ২০০৭ সালের ওই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর সহায়তায় সরকার যে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তার হাল-হকিকত দেখতেই কাইজেনের বাংলাদেশে আসা। রোমে জাতিসংঘ সংস্থাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি তিনি। প্রকল্পের সার্বিক কাজ দেখতেই সেই সময় শরণখোলা যান কাইজেন। পারিশা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সরকারি এবং এফএও কর্মকর্তারা পুনর্বাসন প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তার কাছে। আর তা বেশ প্রশংসাও পাচ্ছিলো কাইজিনের কাছে। তবে মাত্র ১৫ মিটার দূরে লাইন ধরে দাঁড়ানো স্থানীয়দের কথা মেলে ধরলো এই প্রকল্পের অসারতার কথা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভের সুযোগটুকু না ঘটলেও সামাজিক শিক্ষা থেকে তারা উপলব্ধি করেছেন, এই প্রকল্পে কাজ হবে না। ‘আমরা এসে জানলাম, সহায়তা হিসেবে শুধু ভেড়ীই দেওয়া হচ্ছে, কোনো ভেড়া নয়। এই ভেড়ীর বাচ্চা হবে কীভাবে? প্রজননের জন্য আমরা ভেড়া পাবো কোথায়?’ এই কথা যখন রহিমা বললেন, তখন তাতে সমর্থন পেলেন লাইনে সারি বেঁধে দাঁড়ানো অন্যদেরও। রহিমা এসেছেন রায়েন্দার কদমতলা গ্রাম থেকে। ওই গ্রামেরই রিজিয়া বেগম বললেন, ‘সিডরে আমাদের সবার গরম্ন-ছাগল সব ভেসে গেছে। এখন যদি শুধু ভেড়ী পাই, তাতে কোনো লাভ নেই।’

এবিষয়ে কথা হয় প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ রম্নহুল আমীনের সঙ্গে। সিডরদুর্গতদের পুনর্বাসনে গৃহীত প্রকল্প বাসত্মবায়নে জাতিসংঘ সংস্থার সঙ্গে কাজের সমন্বয় করছেন তিনি। তিনি জানান, পুরম্নষ ভেড়ার ব্যবস্থা করার কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রজননের জন্য ভেড়ার ব্যবস্থ করতে হবে প্রকল্পের উপকারভোগীদেরই। ‘আমাদের বলা হয়েছে, ৫০ লাখ ডলারের মধ্যে প্রকল্পের ব্যয় ধরে রাখতে। তাই কুলিয়ে উঠতে না পেরে পুরুষ ভেড়া দেওয়ার চিন্তা বাদ দিতে হয়েছে।’

কাজ নিয়ে সংকটে দিনমজুররা : ‘ভাতের ঠ্যাহে চাইর বেড়ার বাইরে নামছি। আগে কোন দিন এরহম পরিশ্রমের কাম করি নাই। এই কাম কইরাই সংসার চালাই।’ কথাগুলো বললেন বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের বাদুরগাছা গ্রামের তহমিনা বেগম (৩৪)। এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে স্বামীর স্বল্প আয়ের মধ্যে চরম অভাবে সংসার চলত তার। এখন রাসত্মা মেরামতের কাজ করে তিনি প্রতিদিন আয় করছেন ১২৫ টাকা। আর তা দিয়েই চলে তার সংসারের সদস্যদের ভরন-পোষণ। ‘এইরহম কাম যদি হারা বচ্ছর চলতে হেইলে মোরা ভাল মত সংসার চালাইতে পারতাম’- তহমিনা বেগমের মত এমন আকুতির কথা জানালেন ওই গ্রামেরই আরো এক সংগ্রামী নারী মোমেনা বেগম (৩২)। স্বামী আব্দুল জব্বার (৪০) দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে ৪ সদস্যের পরিবারে অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। মোমেনা ও তহমিনার মত এরকম কয়েক’শ নারী শ্রমিক মিলে দল বেঁধে কচুপাতরা বাজার সংলগ্ন একটি  ভাঙ্গা রাসত্মা মেরামতের কাজ করছিলেন। এসময় তারা জানান তাদের জীবন সংগ্রামের কথা। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে তারা হাতে তুলে নিয়েছে ঝুড়ি, কোদাল। শক্ত হাতে নির্মাণ করছেন বেড়িবাঁধ আর ইউনিয়নের রাসত্মাঘাট।

সিডর পরবর্তী সময়ে এসব এলাকার খেটে খাওয়া মানুষগুলো কাজের অভাবে অর্ধাহারে অনাহারে দিন যাপন করছে। এছাড়াও কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের কচুপাতরা দোন খালের বেড়িবাঁধ এক দল দুর্বৃত্তরা কেটে দেওয়ার ফলে এই এলাকার ২২টি গ্রামের ফসলি জমিতে কোন ধরনের ফসল হচ্ছে না। সারাবছরই লবন পানিতে ফসলি জমি তলিয়ে থাকে। এসব কারণে ওই এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বিগত প্রায় চার বছর ধরে বেড়িবাঁধটি না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগানিত্মর যেন শেষ নেই। অনেকের বাড়ি ঘরও পানিতে ডুবে যায়। যারা ফসলি জমির উপর নির্ভরশীল তারা অনেকেই নি:স্ব হয়ে গেছেন। তাই এসব এলাকার নারী-পুরম্নষ সকলেই এখন কাজের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বড়বগী ইউনিয়নের সওদাগরপাড়া গ্রামের হোসনেয়ারা বেগম (৩২) বলেন, এ ধরণের প্রকল্প যদি চলমান থাকলে গ্রামীণ অবকাঠামোগত যেমন উন্নয়ন হবে, তেমনি নারী শ্রমিকদেরও একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

শীত নিয়ে শংকিত সকলেই :  ‘শীতে খালি শরীলডা ফোলে, মনে অয় হাড়ের মধ্যে ঢুইক্কা যায় শীত, হারা রাইত ঘুমাইতে পারি না, দিশাহারা অইয়্যা শেষে চুলার ধারে যাই, চুলার নেভা আগুনে শরীলডা একটু গরম অইলে শুইতে যাই, কিন’ আবার যেই-সেই অবস্থা।’ বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ পাতাকাটা গ্রামের বৃদ্ধ আবদুল লতিফ গত কয়েকটি শীত মৌসুমের এভাবেই তাদের কষ্টের বর্ণনা দিয়েছিলেন। এবারো তাদের অবস্থার খুব বেশি উন্নতি হয়নি। তাই আগামী শীতে তাদের কি হবে তা নিয়ে সকলেই শংকিত। কারণ সিডর-পরবর্তী শীতগুলো তাদের অতিকষ্টে কেটেছে।

পায়রা নদীর তীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুই পাশে অসংখ্য খুপড়িতে এখনো বসবাস করছে অসংখ্য গৃহহীন মানুষ। পাথরঘাটার বলেশ্বর তীরের তালতলী, ফকিরহাট, তেঁতুলবাড়িয়া, নলবুনিয়া; বরগুনা সদরের নিশানবাড়িয়া, গর্জনবুনিয়া, লতাকাটা, ছোনবুনিয়া, সোনাতলা, মাছখালী, বরইতলা, মাঝেরচরসহ জেলার চর ও বাঁধের ঢালে বসবাস করছে প্রায় দুই লাখ বাসিন্দা। আর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আইলা-বিধ্বসত্ম গাবুরা ইউনিয়নের পারশেমারি গ্রামের মঞ্জিলা খাতুন গত বছরের মে মাস থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিধ্বসত্ম বাঁধের ওপর পলিথিন কাগজ দিয়ে বানানো টং ঘরে বসবাস করছেন। ঘরে খাবার নেই। শীতে গরম কাপড় কিনবেন কোথা থেকে। তাঁর মতোই অবস্থা গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নে ১২ হাজার পরিবারের ৫২ হাজার ১৯৭ জন গৃহহীন মানুষের। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আইলায় হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপের ছয় হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র হারিয়েছিলেন। এখনও প্রায় চার হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। শীতের কবল থেকে বাঁচার জন্য এসব এলাকার মানুষের যেমন পর্যাপ্তে গরম কাপড় নেই তেমনি অধিকাংশ পরিবারেরই ঘরদোর নেই। তাই শীত তাদের জীবনে আরেক দুর্যোগ আসবে।

বিশুদ্ধ পানি সংকট : প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর বিধ্বসত্ম উপকূলীয় অঞ্চলে পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সিডরের আঘাতে সুপেয় পানির উৎস্যগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর সংকট মোকাবেলায় সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও তা এই মুহুর্তে চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের পর মানুষ ও পশুপাখির লাশ এবং গাছপালা পচে বিষখালী, বলেশ্বর ও পায়রা নদীসহ উপকূলের অধিকাংশ নদ নদীর পানি বিষ হয়ে যায়। খাল-বিল-নদীর পানি কালো হয়ে যাওয়ায় পারিবেশ দূষিত করে তোলে। এসময় নানা রোগ দেখা দেওয়ায় সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে দ্রম্নত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পানি বিশুদ্ধকরণ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে বিশুদ্ধ পানি, পানি রাখার জন্যে জার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ফিটকিরি প্রভৃতি বিতরণে গুরম্নত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় স্থানীয় এনজিওগুলো বাইরে থেকে পানি সরবরাহ করে। কয়েকটি পুকুর পরিস্কার করে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়। কিন’ এই ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিলো না। তাই পানিবাহিত রোগে আক্রানত্ম হয়ে অনেকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

স্যানিটেশন : স্যানিটেশন ব্যবস্থা বলতে কিছু নেই বিপন্ন উপকূলীয় এলাকায়। বহু প্রচেষ্টায় শতভাগ স্যানিটেশন কভারেজ সম্ভব হলেও অধিকাংশ এলাকায় এখন তা শুন্যের কোটায় নেমে আসে। প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলের স্যানিটেশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ে। ঝড় ও পানির তোড়ে ঘরবাড়ির মতো স্যানিটারী পায়খানাগুলো প্রায় সব লন্ডভন্ড হয়ে যায়। অধিকাংশেরই চিহ্ন ছিলো না। যেগুলোর চিহ্ন ছিলো সেগুলোর কোনোটির বেড়া, আবার কোনোটির ছাদ ছিলো না। বেড়াসহ চালের টিন ঝড়ে কোথায় গিয়ে পড়েছে তা খুঁজেও পাওয়া যায়নি। কোনোটির আবার সস্নাব ভেঙ্গে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আবার কোনটার শুধু রিংটাই ছিলো। গণসচেতনতা থাকলেও প্রয়োজনীয় অর্থ ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। ফলে দুর্গত এলাকার মানুষজন বাধ্য হয়েই যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করছে। এর ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ছে রোগজীবানু। এতে বিভিন্ন রোগে আক্রানত্ম হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

শেষ কথা : প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডর উপকূলের মানুষের দুর্যোগে নিরাপত্তা ঝুঁকি কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্রম্নত এ বাঁধ মেরামত করা না হলে যে কোনো সময় আবার পস্নাবিত হতে পারে বিসত্মীর্ণ উপকূলীয় এলাকা। আবার সুন্দরবন নষ্ট ও সমুদ্রের উপকূলবর্তী এলাকার গাছপালা ভেঙ্গে যাওয়ায় যে কোনো সাধারণ বাতাসেই নতুন করে গড়ে তোলা নিঃস্ব মানুষের ঘরবাড়ি উড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই জরম্নরি ভিত্তিতে বনায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুরানো আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার ও নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ না করলে দুর্যোগে মানুষের আশ্রয়ের কোন জায়গা থাকবে। তাই সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য দ্রম্নততার সঙ্গে আর্থিক বরাদ্দ দিতে হবে। অন্যথায় আগামীতে উপকূলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। উপকূলের মানুষকে ঝুঁকিমুক্ত করতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি ১৯৯২-৯৩ সালে তৈরি করা মহাপরিকল্পনা বাসত্মবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞ টিমের সুপারিশ অনুযায়ী সাড়ে ৩ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অর্থায়নে সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের তদারকিতে ১৯৯২ সালে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে বুয়েট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করেছিলো। ওই টিম প্রতিবেদনও দিয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

নিখিল ভদ্র
প্রতিবেদক

উপকূল বাংলাদেশ

উপকূল বাংলাদেশ

পাঠকের মন্তব্য