যৌতুকের দাবি মিটাতে পারেননি, তাই গৃহবধুর আত্মহত্যা

প্রতীকী চিত্রশরণখোলা (বাগেরহাট) : স্বামীর যৌতুকের দাবী মেটাতে না পেরে চট্টগ্রামে নিজ বাসার ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার এক দিনমজুরের কন্যা কুলসুম আক্তার তানিয়া (২২)।

চট্টগ্রামের বন্দর থানায় ময়না তদন্ত শেষে বুধবার (১৫ জুলাই) বিকাল ৫ টায় ওই গৃহবধুর লাশ চট্ট মেট্রো ১১-৫৭৭৫ নম্বরের একটি এম্বুলেন্স যোগে উপজেলার বগী দশঘর এলাকায় পৌছায়।

এ সময় তানিয়া পিতা জামাল মল্লিক সহ এলাকাবাসীর অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, গত ২০১০ সালে তানিয়ার সাথে ভালবেসে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী উপজেলা মোড়েলগঞ্জের সন্ন্যাসি এলাকার আবুল কাসেম হাওলাদারের পুত্র মিরাজের। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে ১১ মাসের মারিয়া নামের একটি কন্যা সন্তান থাকলেও তাকে গ্রামের বাড়ী দাদা-দাদীর নিকট রেখে স্বামী-স্ত্রী দু’জনে চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টেসে চাকুরী করতেন।

কিন্তু বিয়ের পর যৌতুকের জন্য মিরাজ বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো তানিয়াকে। মেয়ে সুখের জন্য এক বছর পূর্বে মিরাজকে ১ লাখ টাকা দেয় তানিয়ার পিতা জামাল মল্লিক। কিন্তু সর্বশেষ গত ১২ জুলাই মিরাজের সাথে তানিয়া ঝগড়া হয়।

স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে তানিয়া চট্টগ্রামের বন্দর থানাধীন কলসী দিঘিরপাড় এলাকার একটি ভাড়াটিয়া বাসায় নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। তারা যৌতুক লোভী মিরাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন।

অভিযুক্ত মিরাজ বলেন তানিয়ার সাথে ওই দিনের ঝগড়া বিবাদের বিষয়টি স্বীকার করলেও যৌতুকের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

চট্টগ্রাম বন্দর থানার এস.আই ইয়াসিন মুঠোফোনে জানান, স্বামী-স্ত্রীর কলহের কারনে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে আর বলতে রাজি হননি তিনি।

//শেখ মোহাম্মদ আলী/ উপকূল বাংলাদেশ/শরণখোলা-বাগেরহাট/১৫০৭২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য