সুন্দরবনে পণ্যবাহী যান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি

সুন্দরবনের মানচিত্রখুলনা : তেলবাহী ট্যাঙ্কারডুবির মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় আবারও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে সার নিয়ে কার্গো জাহাজ ডোবার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নদীপথে পণ্য পরিবহণ অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে। সুন্দরবন একাডেমী এবং সুন্দরবন সমর্থক কমিটি, বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে পৃথক পৃথক বিবৃতি পাঠিয়েছেন।

সুন্দরবন একাডেমীর উপদেষ্টা স্বপন কুমার গুহ ও রফিকুল ইসলাম খোকন, প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির, পরিচালক ফারুক আহমেদ এবং মোঃ আঃ হালিম এক বিবৃতিতে বলেন, গত ৫ মে মঙ্গলবার বিকেলে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের মরা ভোলা নদীর বিমলের চর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মেসার্স আল এহসান শিপিং লাইন্সের (এম-৬৯৪৩) এমভি জাভালে নূর নামে সারবাহী কার্গো জাহাজটি গত ০৩ মে মংলা বন্দরের হারবাড়িয়া থেকে সার বোঝাই করে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনা কবলিত পথে সুন্দরবনের ভেতরে ওই এলাকায় একটি ডুবো চরে আটকা পড়ে। মঙ্গলবার কার্গো জাহাজটি উদ্ধার করতে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জাহাজটিতে প্রায় ৫শ’ মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ সার ছিলো বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের উপর মারাত্মক ক্ষতির প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, এর ফলে সুন্দরবনের মাৎস্য সম্পদের অপরিমেয় ক্ষয়-ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সার বোঝাই জাহাজ ডুবির এলাকা ডলফিন ও শুশুকের বিচরণ ক্ষেত্র হওয়ায়, সুন্দরবন আবারও মারাত্মক বির্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারডুবির অব্যবহিত পরে সুন্দরবন একাডেমী, সুন্দরবন সমর্থক গোষ্ঠী, বাংলাদেশ ও খুলনা প্রেস ক্লাব আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় বিশেষজ্ঞ আলোচকবৃন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ফার্নেসঅয়েল বোঝাই ট্যাঙ্কারডুবিতে সুন্দরবনের যে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তা’ সুন্দরবন নিজের ক্ষমতায় কাটিয়ে উঠবে কিন্তু সার বোঝাই কোন কার্গো ডুবলে যে ক্ষতি হবে তা’ কাটানো সম্ভব হবে না। বিশেষজ্ঞদের সেদিনের আশঙ্কাকে সত্যি করি এবার বিপুল পরিমাণে সার বোঝাই কার্গো ডুবে যাওয়ার ফলে সুন্দরবনের নদী দিয়ে পণ্য পরিবহণ নিষিদ্ধ করার দাবি আরো যৌক্তিকতা পেল। অবিলম্বে সুন্দরবনের নদী পথে পণ্য পরিবহণ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
সুন্দরবন সমর্থক কমিটি, বাংলাদেশ: সুন্দরবন সমর্থক কমিটি, বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলহাজ্ব লিয়াকত আলী, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম খোকন, প্রধান সমন্বয়কারী এ কে হিরু অনুরূপ এক বিবৃতিতে সুন্দরবনে সার বোঝাই জাহাজডুবির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, এ দুর্ঘটনা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। তাৎক্ষণিক না হলেও পুরো পরিবেশের উপর দীর্ঘ মেয়াদে বড় প্রভাব দেখা যাবে। সুন্দরবনের মাৎস্য সম্পদ এবং শ্বাসমূল ও জলজ প্রাণী স্বল্প মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবচেয়ে বেশি। পানিতে মিশে যাওয়ার আগে সার তুলে আনতে না পারলে এ দূষণের ক্ষতি এড়ানো যাবে না। তেলেও চেয়ে এ রাসায়নিক সার সুন্দরবনের জন্য বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ফার্নেসঅয়েল বোঝাই ট্যাঙ্কারডুবির পর গঠিত দেশি ও জাতিসংঘের তদন্ত কমিটি সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধের সুপারিশ করেছিল কিন্তু সে সুপারিশ উপেক্ষা করার পরিণতি হিসেবে এবার সার বোঝাই কার্গোডুবির ঘটনা ঘটলো। সুন্দরবনকে রক্ষা করার স্বার্থে অবিলম্বে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে পণ্যবাহী নৌপরিবহণ নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

//প্রতিবেদন উপকূল বাংলাদেশ/খুলনা/০৬০৫২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য