প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কক্সবাজার জেলা

কক্সবাজার আকাশ, স্থল ও জলপথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে সংযুক্ত। কক্সবাজারের ১২০ কি.মি. দীর্ঘ বেলাভূমি পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম। কক্সবাজার বাংলাদেশের প্রধানতম পর্যটন শহর। একমাত্র কক্সবাজার জেলাতেই লবণ উৎপাদন হয়।

cox__s_bazar_himchari_5_by_capmunir1.jpgপ্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কক্সবাজার জেলা বঙ্গোপসাগরের পাড়ে অবস্থিত। একদিকে বিস্তীর্ণ বেলাভূমি, অন্যদিকে আরাকান পর্বতমালা। পাহাড়, সমভূমি ও সাগরের পারস্পরিক আবাহনে কক্সবাজার অফুরন্ত বৈচিত্র্যে ভরপুর। কক্সবাজারের উত্তরে চট্টগ্রাম, পূর্বে বান্দরবান ও প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার। পশ্চিম এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। কক্সবাজার আকাশ, স্থল ও জলপথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে সংযুক্ত। কক্সবাজারের ১২০ কি.মি. দীর্ঘ বেলাভূমি পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম। কক্সবাজার বাংলাদেশের প্রধানতম পর্যটন শহর। একমাত্র কক্সবাজার জেলাতেই লবণ উৎপাদন হয়।

কক্সবাজার জেলা এক সময় “পালংকী” নামে পরিচিত ছিল। পালংকী একটি বর্মী শব্দ যার অর্থ “হলুদ ফুলের জমি”। কক্সবাজারের ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, ৯৫৩ খ্রি: আরাকানের রাজা সুলাত ইনগা চন্দ্র (৯৩০-৯৭৫খ্রি:) চট্টগ্রাম এলাকা দখল করেন। তখন থেকে ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার আরাকান রাজ্যের অধীনে ছিল। এক পর্যায়ে এই এলাকা মোগল শাসক বুজুর্গ উমেদ খানের দখলে চলে যায়। পরবর্তীতে ১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা বৌদ্ধ পায়া আরাকান রাজ্য দখল করেন। তার কাছ থেকে রেহাই পেতে প্রায় ৩০ হাজার আরাকানী ১৭৯৯ সালে কক্সবাজার এলাকায় আশ্রয় নেয়। এসব শরণার্থী উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স নিযুক্ত হন। তিনি ১৭৯৮ সালে এই এলাকায় একটি মগ কলোনি প্রতিষ্ঠা করেন ও পুনর্বাসন কর্মসূচি সমাপ্তির আগেই ১৭৯৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার এই অবদানকে ধরে রাখতে কক্সবাজার নামে একটি বাজার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যা পরবর্তীতে কক্সবাজার জেলায় উনড়বীত হয়।

এই জেলার মোট আয়তন ২,৪৯২ বর্গ কি.মি, যা সমগ্র বাংলাদেশের আয়তনের ১.৬%। এলাকার বিচারে এটি উপকূলীয় অঞ্চলের ১৯টি জেলার মধ্যে আয়তনে ১০ম স্থানে এবং বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ২৬তম স্থানে রয়েছে। ২০০১ সালের লোক গণনা অনুসারে, এই জেলার জনসংখ্যা ১৭ লাখ ৬০ হাজার। ৮টি উপজেলা, ৩টি পৌরসভা, ৬৭টি ইউনিয়ন, ২৭টি ওয়ার্ড, ৫৯১টি মৌজা/মহল-া ও ৫৭১টি গ্রাম নিয়ে কক্সবাজার জেলা। চকরিয়া, কক্সবাজার সদর, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, রামু, টেকনাফ, উখিয়া ও পেকুয়া জেলার আটটি উপজেলা। চকরিয়া উপজেলা থেকে সম্প্রতি পেকুয়া উপজেলা করা হয়েছে। উলে-খ্য, বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমিভিত্তিক সীমা নির্ধারণের জন্য তিনটি সূচক বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে : জোয়ার-ভাটার প্রভাব, নোনা পানির অনুপ্রবেশ এবং ঘূর্নিঝড় / জলোচ্ছ্বাস। এর ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলার ৮টি উপজেলাই প্রত্যক্ষ উপকূলীয় এলাকায় পড়েছে।

১৮৬৯ সালে কক্সবাজার পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৫৯ সালে এটি একটি “শহর/টাউন কমিটি”তে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে এটি আবার পৌরসভা হয়। ১৯৮৪ সালে কক্সবাজার জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলার প্রায় এক-চতুর্ াংশ দ্বীপাঞ্চল। কুতুবদিয়া, মহেশখালী, সেন্টমার্টিন ও সোনাদিয়া কক্সবাজার জেলার প্রধান ৪টি দ্বীপ।

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য