প্রাকৃতিক সবুজের লীলাভূমি পিরোজপুর জেলা

১৯৫৯ সালের ২৮ অক্টোবর স্থাপিত পিরোজপুর মহকুমা ১৯৮৪ সালে জেলায় রূপান্তরিত হয়। জেলার মোট আয়তন ১৩০৮ বর্গ কি.মি. যা সমগ্র বাংলাদেশের প্রায় ১% । এটি উপকূলীয় ১৯টি জেলার মধ্যে আয়তনে ১৫তম এবং বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫০তম। ২০০১ সালে এ জেলার জনসংখ্যা ছিল ১,০৯৯,৭৮০।

image_250_51671.jpgসুন্দরবনের কোলঘেঁষা প্রাকৃতিক সবুজের লীলাভূমি পিরোজপুর জেলা। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ আর গাছ-গাছালির সমারোহে অনন্য পিরোজপুরের বুক চিরে বয়ে চলেছে বেশ কয়েকটি নদী। বৈচিত্র্যে ভরপুর পিরোজপুর জেলার উত্তরে গোপালগঞ্জ, উত্তর-পূর্বে বরিশাল এবং পূর্বে ঝালকাঠী, দক্ষিণ-পশ্চিমে বাগেরহাট এবং দক্ষিণ-পূর্বে বরগুনা জেলা অবস্থিত। জেলার একদিকে লবণ পানি অন্য দিকে মিঠা পানির অবস্থান।

১৯৫৯ সালের ২৮ অক্টোবর স্থাপিত পিরোজপুর মহকুমা ১৯৮৪ সালে জেলায় রূপান্তরিত হয়। পিরোজপুর নামকরণের একটা সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। নাজিরপুর উপজেলার শাখারী কাঠির জনৈক হেলালউদ্দীন মোঘল নিজেকে মোঘল বংশের শেষ বংশধর হিসেবে দাবী করেছিলেন। তার মতে বাংলার সুবেদার শাহ্ সুজা আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলার নিকট পরাজিত হয়ে বাংলার দক্ষিণ অঞ্চলে এসেছিলেন এবং আত্মগোপনের এক পর্যায় নলছিটি উপজেলার সুগন্ধ নদীর পারে একটি কেল−া তৈরি করে কিছুকাল অবস্থান করেন। মীর জুমলার বাহিনী এখানেও হানা দেয় এবং শাহ্ সুজা তার দুই কন্যাসহ আরাকানে পালিয়ে যান। সেখানে আর এক রাজার চμান্তে নিহত হন। পালিয়ে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী ও এক শিশু পুত্রসহ থেকে যায়। পরবর্তীতে তারা অবস্থান পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে পশ্চিমে চলে এসে বর্তমান পিরোজপুরের পার্শ্ববর্তী দামোদর নদীর মুখে আস্তানা তৈরি করেন। এ শিশুর নাম ছিল ফিরোজ এবং তার নাম অনুসারে নাম হয় ফিরোজপুর। কালে ভাষার পরিবর্তনে নাম হয়েছে পিরোজপুর।

জেলার মোট আয়তন ১৩০৮ বর্গ কি.মি. যা সমগ্র বাংলাদেশের প্রায় ১% । এটি উপকূলীয় ১৯টি জেলার মধ্যে আয়তনে ১৫তম এবং বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫০তম। ২০০১ সালে এ জেলার জনসংখ্যা ছিল ১,০৯৯,৭৮০। জেলায় মোট ৭টি উপজেলা রয়েছে - পিরোজপুর সদর, মঠবাড়ীয়া, ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী, স্বরূপকাঠী, নাজিরপুর, জিয়ানগর (সদ্য
প্রতিষ্ঠিত উপজেলা)। মঠবাড়ীয়া, স্বরূপকাঠী এবং পিরোজপুর জেলার তিনটি পৌরসভা। জেলায় ৫১টি ইউনিয়ন, ২৭টি ওয়ার্ড, ৪৫৪টি মৌজা ও ৬৪৭টি গ্রাম রয়েছে।

মাটি, ভূ-গর্ভস্থ পানি ও ভূ-উপরিভাগের পানিতে কতটুকু লবণাক্ততা আছে, জোয়ার-ভাটার পরিমাণ এবং সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি কতটুকু তার উপর ভিত্তি করে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলাকে তীরবর্তী এবং ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী, নাজিরপুর, স্বরূপকাঠী ও পিরোজপুর সদর উপজেলাকে অন্তর্বতী উপকূলীয় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য