মেঘনা নদীর ভাঙ্গা-গড়ায় প্রভাবিত নোয়াখালী জেলা

নোয়াখালী জেলার একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে। ধারণা করা হয় ১৪০০ থেকে ১০০০ খ্রীস্টপূর্বে প্র ম এ এলাকায় মানব বসতি গড়ে উঠে। প্রাচীনকালে এ এলাকা সমতট রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮২২ সালের ২৯শে মার্চ ‘ভুলুয়া’বা ভোলা নামে এ জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। 

noakhali.jpgবঙ্গোপসাগরের পাড়ে মেঘনা অববাহিকায় অবস্থিত নোয়াখালী জেলা মেঘনা নদীর ভাঙ্গা-গড়া দ্বারা প্রভাবিত। এ জেলার অধিকাংশ এলাকা মেঘনা নদীবাহিত পলি দিয়ে গঠিত। ফলে একদিকে যেমন বঙ্গোপসাগরের প্রভাব এ জেলার উপর রয়েছে তেমনি মেঘনা নদীও এ জেলার প্রকৃতি ও মানুষকে প্রভাবিত করে থাকে। নোয়াখালী জেলা চট্টগ্রাম বিভাগে অবস্থিত। এ জেলার উত্তরে কুমিল−া, পূর্বে ফেনী ও চট্টগ্রাম, পশ্চিমে লক্ষ্মীপুর জেলা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।

নোয়াখালী জেলার একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে। ধারণা করা হয় ১৪০০ থেকে ১০০০ খ্রীস্টপূর্বে প্র ম এ এলাকায় মানব বসতি গড়ে উঠে। প্রাচীনকালে এ এলাকা সমতট রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮২২ সালের ২৯শে মার্চ ‘ভুলুয়া’বা ভোলা নামে এ জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ জেলায় তখন দক্ষিণ শাহবাজপুর (বর্তমানে ভোলা) অন্তর্গত ছিল। ১৬৬০ সালের দিকে ত্রিপুরার পাহাড় থেকে বয়ে আসা পানিতে ভুলুয়া জেলার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে বন্যার সৃষ্টি হয়। এ দুর্যোগ থেকে মুক্তি পেতে এ সময় ডাকাতিয়া নদী থেকে রামগঞ্জ, সোনাইমুড়ি ও চৌমুহনীর উপর দিয়ে একটি খাল খনন করা হয়, যাকে বলা হয় নোয়া (নতুন) খাল। বলা হয় নোয়াখালী জেলার নামকরণ এ খালের নামানুসারেই হয়েছে। ১৮৬৮ সাল থেকে ভুলুয়া জেলা নোয়াখালী নামে পরিচিত হতে থাকে। জেলার সদর নোয়াখালীর পশ্চিম তীরে সুধারাম নামক স্থানে স্থাপিত হয়। এ জেলার মানুষ ১৮৩০ সালের জিহাদ আন্দোলন এবং ১৯২০ সালের খিলাফত আন্দোলনে অত্যন্ত সμিয়ভাবে অংশ নেয়। ১৯৪৬ সালে মহাত্মা গান্ধী এ জেলা ভ্রমণ করেন।

এ জেলার মোট আয়তন ৩,৬০১ বর্গ কি. মি., যা সমগ্র বাংলাদেশের আয়তনের ২.৪৪%। জেলার মোট লোক সংখ্যা ২৫.৭১ লাখ। আয়তনের দিক দিয়ে উপকূলীয় জেলাগুলোর মধ্যে এ জেলার অবস্থান ৫ম এবং জনসংখ্যার দিক দিয়ে ২য়।
৬টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা, ১২৮টি ইউনিয়ন / ওয়ার্ড, ১,০১৭টি মৌজা/মহল−া ও ৯৭৯টি গ্রাম নিয়ে নোয়াখালী জেলা গঠিত।

নোয়াখালী সদর, বেগমগঞ্জ, চাটখিল, কোম্পানীগঞ্জ, হাতিয়া, সেনবাগ জেলার ছয়টি উপজেলা। উপজেলাগুলোর মধ্যে নোয়াখালী
সদরের আয়তন সবচেয়ে বড়। যদিও বেগমগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লোক বাস করে। এদের মধ্যে হাতিয়া একটি দ্বীপ উপজেলা। উলে−খ্য, বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমিভিত্তিক সীমা নির্ধারণের জন্য তিনটি সূচক বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে: জোয়ার-ভাটার প্রভাব, নোনা পানির অনুপ্রবেশ এবং ঘূর্নিঝড় / জলোচ্ছ্বাস। এর ভিত্তিতে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ, হাতিয়া, নোয়াখালী সদর তীরবর্তী উপকূলীয় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আইসিজেডএমপি

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য