বরগুনায় নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছেই

istock_000002132845xsmall.jpgবরগুনায় ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার মাত্রা বেড়েছে। ধর্ষণের পাশাপাশি যৌন নিপীড়ন, হয়রানিসহ নানা অপরাধপ্রবণতাও বৃদ্ধি পাওয়ায় নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি হিসাবে গত বছর জেলায় ৬২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এর আগে ২০১১ সালে জেলায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫৪টি। এ ছাড়া গত বছর জেলায় দুই নারী ও শিশুসহ দুজন অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়। ২০১১ সালে এই সহিংসতার শিকার হন এক নারী। এ ছাড়া গত বছর জেলায় ৬৫০টি যৌতুক ও ১৫১টি নারী নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়। ২০১১ সালে নারী নির্যাতনসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ৬৫১টি।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সভাপতি রাজিয়া বেগম বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতারোধে সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি তদন্ত ও বিচার-প্রক্রিয়ায় গতি আনা দরকার। তদন্ত দুর্বল হলে বিচার প্রলম্বিত হয় ও অপরাধীদের নিষ্কৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২০ ডিসেম্বর রাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ খাজুরতলা গ্রামে পাশের বাড়ি থেকে টেলিভিশন দেখে বাড়ি ফেরার পথে ১১ বছরের এক শিশু ধর্ষিত হয়। গত ২ ডিসেম্বর সদরের বদরখালী ইউনিয়নের চালিতাতলা গ্রামে অপর এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়।
এর আগে ২ নভেম্বর সদর উপজেলার পূর্ব কেওড়াবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী শারমিন বাড়ির সামনে থেকে অপহরণের পর ৫ নভেম্বর স্থানীয় পায়রা নদীতে তার লাশ পাওয়া যায়। ২৭ নভেম্বর তালতলীর চরপাড়া গ্রামের পরীভানু নামের এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর দুর্বৃত্তরা হত্যা করে।
২০১১ সালের ১৭ জুলাই রাতে বামনা উপজেলার ভাইজোড়া গ্রামে মাদ্রাসাছাত্রী জেনিকে ঘরের জানালা ভেঙে দোতলায় উঠে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় প্রতিবেশী বখাটে গোলাম জিসান মৃধা। টের পেয়ে বাধা দিতে গেলে জেনির মাকে পিটিয়ে আহত করে বখাটে। জেনির মা মেয়েকে রক্ষার জন্য পাশেই জিসানের বাড়িতে গেলে তার পরিবারের সদস্যরা জেনির মাকে দেড় ঘণ্টা আটকে রাখে। ভোর পাঁচটার দিকে তাঁকে ছেড়ে দিলে বাড়ি ফিরে দেখেন, জেনির লাশ বাড়ির পেছনে বাতাবি লেবুগাছের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝোলানো। এ ঘটনায় জেনির পরিবার বামনা থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন। আলোচিত এসব ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বেশির ভাগ আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি ভুবন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নির্ভর করে অভিযোগের সপক্ষে উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের ওপর। সাক্ষী সুরক্ষা আইন না থাকায় নিরাপত্তাহীনতার কথা বিবেচনা করে বেশির ভাগ সাক্ষী আদালতে আসতে চান না। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলার তদন্ত ও বিচারকাজে মেয়াদ নির্ধারণ করে দেওয়ায় তড়িঘড়ি করে তদন্তকাজ শেষ করতে হয়। ফলে বেশির ভাগ মামলায় অভিযোগের সপক্ষে যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হন ভুক্তভোগীরা।
বরগুনার পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, পরিসংখ্যানগত দিক থেকে বরগুনায় ধর্ষণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে এমন তথ্য তাঁদের কাছে নেই। তবে নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নির্ভর করে সার্বিক সচেতনতার ওপর। এ বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে। আর আলোচিত মামলাগুলোর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য