উপকূলের গ্রামে তথ্য অনুসন্ধান, যুগের যাত্রা শুরু

চরসামাইয়াভোলা : উপকূলের গ্রামে তথ্য অনুসন্ধানে শুরু হলো যুগের যাত্রা। পিছিয়ে থাকা উপকূলকে আরও গভীর থেকে তুলে আনতে দীর্ঘ মেয়াদে গ্রাম পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে। দ্বীপ জেলা ভোলার চরসামাইয়া গ্রামে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধান চলবে টানা এক যুগ ২০২৬ সাল পর্যন্ত। এই সময়ে ধারাবাহিকভাবে গ্রামের তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন তৈরি হবে। প্রকাশিত হবে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এ। যুগ শেষে সকল তথ্যের সমন্বয়ে রচিত হবে গবেষণাধর্মী গ্রন্থ। এতে উঠে আসবে উপকূলের গ্রামের বদলে যাওয়া চিত্র।
একইভাবে এক যুগ ধরে উপকূলের ৫টি গ্রামে এ ধরণের তথ্য অনুসন্ধানের কাজ চলবে। দীর্ঘমেয়াদি এই কাজের সূচনা হলো ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের এই চরসামাইয়া গ্রাম থেকে। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্রমাগত পরিবর্তনশীল উপকূলের পৃথক ৫ বৈশিষ্ট্যের ৫টি গ্রামে এই কাজের মধ্যদিয়ে উপকূলের পরিবর্তন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এই তথ্য সরকারি বেসরকারি কার্যক্রম ও পলিসি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে উদ্যোক্তার আশাবাদ।

উপকূলের সাংবাদিকতায় ভিন্নধর্মী এই কাজটি শুরু করেছেন উপকূল ঘুরে সরেজমিন সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট রফিকুল ইসলাম মন্টু। এরইমধ্যে উপকূল সাংবাদিকতায় ভিন্ন ধারা সৃষ্টি করেছেন তিনি। উপকূলের মানুষের খবর লিখে পেয়েছেন জাতীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকটি পুরস্কার।

তার মতে, উপকূলের গ্রাম-ভিত্তিক এই ভিন্ন ধারার প্রতিবেদন পরিকল্পনা উপকূল সাংবাদিকতাকে আরো গভীরে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। সংবাদকে করে তুলবে বৈচিত্র্যময় ও অনুসন্ধানী।

সূত্র বলছে, কাজের শুরুতে চরসামাইয়া গ্রামের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা, সম্ভাবনা ও সমাধানের উপায় সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গ্রামবাসী মানচিত্র এঁকে গ্রামের সমস্যা দেখিয়েছেন। ১২ ধরণের সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। সমস্যাগুলো গুরুত্ব অনুসারে সাজিয়েছেন।

গ্রামবাসীর সঙ্গে দু’দফার আলোচনায় গ্রামের শিক্ষা, কৃষি, যৌতুক, বাল্য বিবাহ, কর্মসংস্থান, ন্যায় বিচার ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসহ নানান দিক উঠে আসে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১২ বছর ধরে এ গ্রাম পর্যবেক্ষন করা হবে। প্রতিবছর সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ধারাবাহিক প্রতিবেদন করা হবে। পর্যবেক্ষণ শেষে বার বছর পর প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ‘চর সামাইয়ার এক যুগ’ শিরোনামে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।

পর্যায়ক্রমে উপকূলের পৃথক পাঁচ বৈশিস্ট্যৈর ৫ গ্রামে এই দীর্ঘমেয়াদি কর্ম-পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছেন রফিকুল ইসলাম মন্টু। যিনি বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর ‘উপকূল থেকে উপকূল’ বিভাগে রফিকুল ইসলাম নামে পরিচিত। গ্রামের ওপর তার এসব অনুসন্ধানী সরেজমিন রিপোর্ট খুব শিগগিরই প্রকাশ হবে বাংলানিউজে।

জানা গেছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম গ্রামের মানুষের সাথে কথা বলে তাদের প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। পরে তাদের সাথে কথা বলে রিপোর্ট পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় ২৭ ফেব্রুয়ারি গ্রামে গিয়ে সরেজমিন তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করা হয়।

চর সামাইয়ার গ্রামের বাসিন্দারা কৃষি, ন্যায় বিচার, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ সমস্যাসহ ১২টি প্রধান সমস্যার কথা জানান। গ্রামের কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবাসয়ী, দিন মজুর, শিক্ষকসহ নাগরিক সমাজের সাথে কথা বলে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্রামবাসী নিজেরাই গ্রামের সমস্যা-ভিত্তিক মানচিত্র তৈরি করেন। গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে শত শত নারী-পুরুষের সঙ্গে খোলা আলাপচারিতায় সু-নিদিষ্ট সমস্যা, উন্নয়ন ও সম্ভাবনার বিষয়ে কথা হয় বাংলানিউজের করেসপেন্ডন্ট এর সঙ্গে।

উপকূলে চলমান যেসব রিপোর্ট পরিবেশন করা হয়, তার চেয়ে ভিন্ন ধারার দীর্ঘ মেয়াদী এ রিপোর্ট নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত ও জন-কল্যানের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন গ্রামবাসী। একই সাথে তারা এ রিপোটিং কর্মকান্ডকে সাাধুবাদ জানিয়ে তথ্য দিয়ে আরো বেশী বেশী সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন।

এই প্রথমবারের মত গ্রাম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভিন্ন ধারার রিপোটিংয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যা প্রচলিত রিপোর্টের বাইরে পাঠক মহলে আরো বেশি সারা জাগাবে। ব্যাতিক্রমধর্মী এসব রিপোর্ট শুধু গ্রামবাসীকে নয়, অনুকরন হবে স্থানীয় সাংবাদিকতারও। এ বিষয়ে রিপোর্টি-এ স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীদের আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বাংলানিউজ-এর স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ও পুরস্কার প্রাপ্ত সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু বলেন, ‘১২ বছর ধরে পৃথক বৈশিষ্ট্যের উপকূলের ৫টি গ্রামে এ ধরণের রির্পোটি করা হবে। এরফলে উপকূলের গ্রামগুলোর সু-নিদিষ্ট পরিবর্তনের চিত্র উঠে আসবে। রিপোর্টগুলো প্রকাশ পাবে বাংলানিউজে। উপকূলের অন্যান্য সব সরেজমিন খবরের পাশাপাশি গ্রাম-ভিত্তিক এই প্রতিবেদনগুলো বাংলানিউজ পাঠককে আরো বেশি সমৃদ্ধ করে তুলবে বলে আমার বিশ্বাস। একই সঙ্গে এই রিপোর্টগুলো উপকূল উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি পরিকল্পনায় সহায়ক হবে।’

//ছোটন সাহা/ উপকূল বাংলাদেশ/ভোলা/০১০৩২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য