‘বেলাভূমি’র আত্মপ্রকাশ, স্লোগান তারুণ্যে উপকূল

প্রকাশিত বেলাভূমি পড়ছে এক শিক্ষার্থীভোলা : কেউ লিখল নদীভাঙণ নিয়ে, কেউ বাল্য বিয়ে নিয়ে আবার কেউ লিখল নিজের গ্রামের বদলে যাওয়া পরিবেশ নিয়ে। বিষয়গুলো ঠিক করেছে ওরা নিজেরাই। চারপাশের নানান বিষয় নিয়ে নিজের ভাবনা লিখেছে। কোন লেখায় আছে ভালো নিবন্ধের উপাদান, কোনটাতে আছে গল্পের বিষয়, আবার কোনটা নিয়ে হতে পারে বড় উপন্যাস। স্কুলের ছেলেমেয়েদের এইসব লেখা নিয়ে স্কুলভিত্তিক দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’র যাত্রা শুরু হলো।

‘তারুণ্যে উপকূল’ এই শ্লোগান নিয়ে ‘বেলাভূমি’ প্রকাশের সূচনা করলো দ্বীপ জেলা ভোলা সদরের টবগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ‘আলোকযাত্রা’ দল। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পত্রিকাটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। ‘আলোকযাত্রা’ দলের সদস্যরা আগেরদিন রোববার দল গঠণের পর লেখার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করে এবং এসাইনমেন্ট নিয়ে সোমবার লেখা জমা দেয়। এইসব লেখা থেকে বাছাইকৃত লেখা নিয়ে দলের সদস্যরা নিজেরাই ‘বেলাভূমি’ নির্মাণ করে।

সেরা লেখকের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন অতিথিরাদেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’র উদ্বোধন এবং দু’দিনের লেখালেখি পাঠশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহনেওয়াজ খান বলেন, ‘এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। চারপাশের পরিবেশ নিয়ে স্কুলের ছেলেমেয়েরা বিষয় নির্ধারণ করায় এবং এসব বিষয়ে লেখালেখি করায় ওদের ভাবনার জগৎ প্রসারিত হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের মেধা বিকাশে এই উদ্যোগ চালিয়ে নিতে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিব।’

স্কুলের ছেলেমেয়েদের লেখালেখিতে উৎসাহ দিয়ে এটিএন বাংলার ভোলা প্রতিনিধি আহাদ চৌধুরী তুহিন বলেন, ‘আজকের শিশুরা আগামীদিনের ভাবিষ্যত। ওদের লেখালেখিতে উদ্ধুদ্ধ করার দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। কারণ ওদের মধ্যেই হয়তো ঘুমিয়ে আছে বড় কোন প্রতিভা। সেই ঘুমন্ত প্রতিভা বিকাশে আমাদের সবার এগিয়ে আসতে হবে। আলোকযাত্রা এগিয়ে যাক, নিয়মিত বের হোক বেলাভূমি।’

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উপকূলের শিশুদের মেধা বিকাশে বিশেষ কোন কর্মসূচি নেই। লেখাপড়ার পাশাপাশি অন্তত লেখালেখির ধারণা দিয়ে আমরা ওদের পাশে দাঁড়াতে পারি। এতে এই শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সমাজও উপকৃত হবে।’

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল ও  নাজিউর রহমান ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক কাজল কুমার দে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও আলোকযাত্রা দলের সমন্বয়কারী অসীম আচার্য্য। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম মোস্তফা (কফি খান)।

প্রকাশিত দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’

সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘বেলাভূমি’তে প্রকাশিত সেরা লেখার জন্য তিনকে পুরস্কার দেয়া হয়। বিচারকের রায়ে বাল্য বিয়ে নিয়ে লেখার জন্য প্রথম হয়েছে স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী নাসরিন, মেঘনার ভাঙণ নিয়ে লিখে দ্বিতীয় হয়েছে নবম শ্রেণীর মো. রিয়াজ এবং ইভটিজিং নিয়ে লেখার জন্য তৃতীয় হয়েছে দশম শ্রেণীর তাহসিনা ইয়াসমিন। সর্বকনিষ্ট অংশগ্রহনকারী হিসাবে ষষ্ঠ শ্রেণীর আকবর হোসেন বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে।

লেখালেখি পাঠশালার শেষদিনে আলোকযাত্রা দলের সদস্যরা প্রতি দু’মাস পর পর ‘বেলাভূমি’র সংখ্যা বের করার পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের এপ্রিলে ‘আমার স্বপ্নের স্কুল’, জুনে ’সবুজ উপকূল’ আগস্টে ‘আমার গ্রাম’. অক্টোবরে ‘আমার জীবনের লক্ষ্য’ এবং ডিসেম্বরে ‘বিজয়ের অহংকার’ শিরোনামে ‘বেলাভূমি’ প্রকাশের উদ্যোগ নেবে।

উপকূলের বিভিন্ন স্কুলের দেয়াল পত্রিকায় প্রকাশিত লেখা থেকে বাছাইকৃত লেখা বেলাভূমি’র অনলাইন সংস্করণে (www.belabhumi.com) প্রকাশিত হবে। অনলাইনে প্রকাশিত স্কুলের ছেলেমেয়েদের সব লেখার মধ্য থেকে সেরা ৫টি (পাঁচ) লেখার জন্য প্রতি মাসেই উদীয়মান লেখকদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে।

//প্রতিবেদক উপকূল বাংলাদেশ/ভোলা/২৩০২২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য