কালিজিরা নদী এখন মরা নালা

  • উপকূল আজ
  • ১৮৫

miami-dade-canals-19.jpgমানিক রায়, ঝালকাঠি ঝালকাঠি বরিশাল জেলার মধ্যবর্তী সীমানা নির্ণয়কারী এক সময়ের খরস্রোতা বিশাল কালিজিরা নদীর কিলোমিটারজুড়ে এখন মরা খাল নয়, নালায় পরিণত হয়েছে। নদীটি মরে যাওয়ায় বোরো চাষাবাদ নির্ভর ঝালকাঠির ৫টি ইউনিয়ন এবং বিপরীতপাড়ে বরিশাল জেলার ৪টি ইউনিয়নে বোরো চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। নদীটিকে খনন করে কৃষি খাতের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়নি এবং এমনকি নদী মরে যাওয়ায় জেগে ওঠা হাজার হাজার একর আয়তনের চর দীর্ঘ এক সরকারীভাবে ডিমার্কেশন করে সরকারী সম্পদ রক্ষা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে নেয়া হয়নি। নদী পাড়ে জেগে ওঠা চরে যে যার মতো করে গাছপালা লাগিয়ে ভোগ-দখল করে নিচ্ছে। এই চর দখল নিয়ে প্রায়শই মারামারি সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। নদীটি খনন করে শুকনো মৌসুমে সেচ কাজ, চরের জায়গা বর্গা চাষীদের মধ্যে চাষাবাদের শর্তে বন্দোবসত্ম সরকারী সম্পদ রক্ষা কৃষি খাতের বিপর্যয় রোধ দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

কালিজিরা নদীটি সুগন্ধা নদী থেকে ঝালকাঠির মগর, নথুলাবাদ, বিনয়কাঠি, নবগ্রাম, ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বরিশালের বানারিপাড়া, গাভা হয়ে সন্ধ্যা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই নদীর অপর পাড়ে বরিশালের জাগুয়া, রায়পাশা, মাধবপাশা গুঠিয়া ইউনিয়ন। কালিজিরা নদীর প্রবাহ দ্বিমুখী হওয়ায় এই নদীর মধ্যবর্তী প্রায় কিলোমিটার শুকিয়ে নালা হয়েছে।
বিনয়কাঠি, সুগন্ধিয়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য জানান, এমনভাবে ভরাট হয়েছে নদীটির দুপাড় শুকনো মৌসুমে অজু করার মতো পানিও থাকে না। তিনি আরও জানান, জেগে ওঠা চর যে যেমনভাবে পারছে দখল করে নিচ্ছে। তিনি জরম্নরী ভিত্তিতে নদীটি খনন করে বোরো প্রধান এই এলাকার মানুষ চাষাবাদ সমপ্রসারণ কৃষিপণ্যসহ পণ্য পরিবহনের উপযোগী করে খননের দাবি জানান। ঝালকাঠির বিনয়কাঠি ইউনিয়নের গগন গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিদু্যতচালিত সেচ পাম্প জেপি-১৪। সেচ পাম্পচালক কুদ্দুস তালুকদার জানান, এই পাম্পের আওতায় বছর একর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। কালিজিরা নদী সংলগ্ন খালে ভাটির সময় পানি থাকে না ফলে প্রয়োজন হলেও সেচ পাম্প চালানো যায় না। আবার জোয়ারের সময় সেচের জন্য পানি তোলার প্রয়োজন হলে তখন বিদু্যত থাকে না। এই নদীটি খনন করা হলে কৃষকদের এই বিপাকে পড়তে হতো না এবং এই সেচ প্রকল্প চালু রাখতে হলে নদী খনন একানত্ম প্রয়োজন।
নদীটি মরে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রসত্ম বিনয়কাঠি ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক এলিন সরদার জানান, নদী মরে যাওয়ায় তার ইউনিয়নের মতো বোরো প্রধান ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের সঙ্গে নদীর অপর পাড়ে বরিশালের ৪টি ইউনিয়নের হাজার হাজার কৃষকের চাষাবাদ বিপন্ন হয়েছে। নদীর পাড়ে জেগে ওঠা হাজার হাজার একর জায়গা যে যার মতো দখল করে নিচ্ছে। সরকারীভাবে নদী খননের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এমনকি জেগে ওঠা চরের ডিমার্কেশন করে সরকারীভাবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনা হচ্ছে না। চরের দখল নিয়ে সংঘাত হচ্ছে।

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য