বেড়িবাঁধ ও সাইক্লোন শেলটার অরক্ষিত!

---এম. বশির উল্লাহ, মহেশখালী || কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা এলাকার অধিকাংশ স্থানে বেড়িবাধ অরক্ষিত রয়েছে এবং উপজেলার প্রায় ২শতাধিক সাইক্লোন সেল্টার ঝুঁকিপূর্ন হওয়ার ফলে সাধারন মানুষের মাঝে আতংক সৃষ্টি হয়েছে। উপকুলীয় এলাকার সাধারন মানুষের প্রশ্ন আশ্রয় নেওয়ার জায়গাটুকু যদি ঝুকিপূর্ন হয়ে যায় তাহলে তাদের  মাথাগুজার টাই হবে না কোথায় ।
মহেশখালীতে জনপ্রতিনিধিরা বারবার নির্বাচনী ওয়াদা দিয়ে নির্বাচন হওয়ার পর মহেশখালীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি টেকসই ভাবে একটি বেড়িবাধ নির্মান করে উপকুলীয় মানুষের জানমাল রক্ষা করার কথা। কিন্তু নির্বাচনের সাড়ে ৪ বছর পার হয়ে গেলেও সে ওয়াদা তারা পূরন করেনি মানুষের। তাই এ বিষয় নিয়ে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে সাধারন মানুষের মাঝে।

মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে ১৮ দলীয় জোটের শরিক জামায়াত এমপি নির্বাচিত হওয়ার ফলে এমনিতে কপাল পোড়া মহেশখালী বাসী যথারিত উন্নয়ন বঞ্চিত দ্বীপের মানুষ। তার উপর আবার বিরোধি দলের এমপি বিগত ৪ বছর ধরে এলাকায় তেমন কোন আশানুরপ উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি এলাকায়। কিন্তু তার নিজ নির্বাচনী এলাকা কুতুবদিয়ায় কিছুটা উন্নয়ন করলে ও তা স্বজনপ্রীতি করার কারনে তা ভাগবটোয়ারা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

জানা যায়, মাতারবাতির রাজঘাট এলাকার ১কিলোমিটার, বিসিক এলাকার ১কিলোমিটার ও পশ্চিমের ৩কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। র্দীঘ একযুগ ধরে বিধ্বস্থ বেড়িবাঁধ সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। গত জোট সরকারের আমলে স্থানীয় সাংসদ বেড়িবাঁধ সংস্কার করে দেবে বলে এলাকার জনগনের সামনে ওয়াদা করলেও শেষ পর্যন্ত কোন কাজ করেনি। পশ্চিম পাশের বেড়িবাধের অবস্থা খুবই করুন। যে কোন মুহুর্তে পুরো বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে সাগরে তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে।

যার ফলে এলাকার ৮০ হাজার মানুষ হুমকির মুখে।এ ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জরুরি ভিত্তিক বেড়িবাঁধ সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত আবেদনটিও কোন কাজে আসেনি।  একই অবস্থায় রয়েছে অবহেলিত দ্বীপ ধলঘাটা ইউনিয়ন।

ধলঘাটা বাসিন্দা জানান, এলাকায় ভাংগনের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সবরাহ করছে না বলে জানান। সরজমিন পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধের ৫টি অংশে ভেঙ্গে গিয়ে সাগরে তলিয়ে যাচ্ছে।

জোয়ারের পানি সাগরে একটু বেশি হলে সাগরের পানি এলাকায় ডুকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয় বলে বানভাসি সায়র মোহাম্মদ জানান।

তিনি বলেন, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে প্রথমে ছোট আকারে বেড়িবাঁধ ভাঙগন শুরু হয়। সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ভাঙগন বড় আকারের ধারন করে। রাত  হলে ৩ হাজার বানভাসির চোখে ঘুম  না দিয়ে জেগে থেকে  আতংকের মধ্যে রাত্রি যাপন করে  বলে তিনি জানিয়েছেন।

জানা যায়, ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্নিঝড়ের আঘাতে এলাকার বেড়িবাঁধ এর ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর ১৯৯৭ সালে ঘূর্নিঝড়ে আবারো আঘাত আনেন এই এলাকায় । যার ফলে বেড়িবাঁেধর অবস্থা  নড়বড়ে হলেও সংস্কার নেই র্দীঘ এক যুগ ধরে। এই এলাকার জনগন বেড়ি বাঁধ সংস্কার করার জন্য র্দীঘ দিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলে ও কোন কাঝে আসেনি।

যার ফলে এলাকার জনগনের মাঝে হতাশার পাশা পাশি আতংকের মধ্যে জীবন যাপন করছেন তার উপর আবারও সম্বব্য  মহাসেনের বিপত সংকেত ।

১৭০০ শতাব্দীর শেষের দিকে সাগরের বুকে জেগে ওঠা ৩৬ বর্গমাইল আয়তনেরইে দ্বীপটি প্রতি বছর সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে বিলীন হতে হতে ১৮ বর্গমাইলে এস দাড়িয়েছে। ষাটের দশকে পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকাকে লোনা জল ও জলোচ্ছাসের কবল থেকে রক্ষার জন্য প্রায় ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নিমার্ণ করে। বর্তমানে এই বাধের বেহাল দশা। বিশেষ করে পশ্চিম পাশের ভেড়িবাঁধ ও রাজঘাট এলাকার ভেড়িবাঁধ। র্দীঘ এক যোগ ধরে বেড়িবাঁধ সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। যার ফলে এলাকার জনসাধারনের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে এই দ্বীপের প্রায় দেড় হাজার মানুষের করুণ মৃত্যু হয়েছিল।

ধলঘাট ইউপি চেয়াম্যান আহছান উল্লাহ বাচ্ছু বলেন, আমার ইউনিয়নের চর্তূর পার্শে টেকশই করে বেড়িবাধ নির্মান করা না গেলে অচিরেই বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে এই ইউনিয়নটি হারিয়ে যাবে এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে সব্বোচ্চ বরাদ্ধ বেড়িবাধের জন্য দেওয়া হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারুল নাসের বলেন, ঘুণিঝড় এর প্রতিটি বার্তা ঝুকিপূন  এলাকা সমুহকে সর্ব্বো” সর্তক থাকার আহবান জানানো হয় এবং  পাশাপাশি এ বিষয়ে সর্বাক্ষনিক কন্টোল রুম খোলা হয়েছে এবং উপজেলার যে সমস্ত ঝুকিপূর্ন সাইক্লোন সেল্টার রয়েছে সে গুলি সংস্কার করার জন্য উর্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

//এম বশির উল্লাহ/উপকূল বাংলাদেশ/মহেশখালী-কক্সবাজার/০৮১১২০১৪//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য