দশমিনার চরে ভূমিহীনরা ৪২ বছরেও জমি পায়নি

  • উপকূল আজ
  • ১৩৫

imgp4933.JPGনিজস্ব প্রতিবেদক॥ অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে স্বাধীনতার ৪২টি বছর পেরিয়ে গেলেও দশমিনা উপজেলার ভূমিহীন কৃষকরা আজ পর্যন্ত একখন্ড জমিও পাননি।
এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি চরাঞ্চলে বসবাসকারী ভূমিহীন ও অসহায় গরিব কৃষকদের নিজেদের নামে এখন পর্যন্ত কোন কৃষি জমি নেই। ফলে তারা চাষাবাদ করা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। চরাঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর আবাদি ও অনাবাদি জমি খালি পড়ে থাকলেও ভূমিহীনরা কৃষকরা জোতদারদের ভয়ে আবাদ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন। এ অবস্থায় তারা চরম কষ্টে ও হতাশার মধ্যে দিনযাপন করছেন।
উপজেলার চরহাদী, চরশাহজালাল, চরবোরহান ও চর বাঁশবাড়িয়া ঘুরে জানা যায়_ এসব চরের অধিকাংশই সরকারি খাসজমি জোতদার ও ভূমিদস্যুরা ভুয়া ভূমিহীন কৃষক সেজে তাদের নামে-বেনামে বন্দোবস্ত করে নিয়েছে। ফলে প্রকৃত ভূমিহীনরা কোন জমি বন্দোবস্ত পাননি।
ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের সরকারি খাস জমিতে চাষ করতে গেলে জোতদার ও লাঠিয়াল বাহিনীর বাধার মুখে পড়তে হয়। প্রতিবাদ করার মতো সাহস কারও নেই। কারণ কেউ প্রতিবাদ করলে চর থেকে উচ্ছেদ করার, কিংবা হত্যাসহ বসতঘর জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। ফলে চরের অধিকাংশ জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তাদের মতে, ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে জমিগুলো যদি বন্দোবস্ত দেয়া হয় তাহলে তারা স্বাবলম্বী হতে পারতেন।
উপজেলা ভূমি অফিস ও চরে বসবাসকারী ভূমিহীন কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, চরের প্রায় সব খাস জমি দশমিনা, বাউফল ও গলাচিপা উপজেলার এক শ্রেণীর জোতদার ও ভূমিদস্যুরা ১৯৮২-১৯৮৩ সালে নামে-বেনামে বন্দোবস্ত করে নেয়। চরশাহজালালে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা কৃষক আবদুল খালেক এ প্রতিনিধিকে জানান, চরে হাজার হাজার একর আবাদি ও অনাবাদি খাসজমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না।
জানা গেছে, চরে বন্দোবস্ত নেয়া জমির মালিকরা অন্যের কাছে টাকার বিনিময়ে জমি চাষ করার জন্য বর্গা দিচ্ছে। এর ফলে ভূমিহীন কৃষকরা চাষাবাদ করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভূমি অফিসের বিরুদ্ধেও পাওয়া গেছে নানা অভিযোগ। তারা চরের খাসজমি বন্দোবস্ত দেয়ার নামে করছে লুকোচুরি। উপজেলা ভূমি অফিস যত্রতত্র খাসজমি বন্দোবস্ত দিচ্ছে।
অনেক ভূমিদস্যু ভুয়া দলিলপত্র তৈরি করে খাসজমি দখল করছে। অথচ প্রকৃত ভূমিহীন কৃষকরা কোন খাসজমি বন্দোবস্ত পাচ্ছে না। ইদানীং চরাঞ্চলে ভূমি দালালরা খাসজমি বন্দোবস্ত করে দেবার কথা বলে ভূমিহীন কৃষকদের কাছ থেকে অর্থও আদায় করছে।

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য