নদী-ভাঙণে হুমকির মুখে কাউখালীর পাচঁটি খাদ্য গুদাম

kawhalipic3.jpgপ্রতিবেদন উপকূল বাংলাদেশ, কাউখালী Θ সন্ধ্যা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে কাউখালীর ৫ টি  খাদ্য গুদাম হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। সামনের জেটি ও রাস্তা ইতোমধ্যে সন্ধ্যা গহ্বরে বিলীন হয়েছে। ভেঙে পড়েছে সীমানা প্রাচীর। গুদামগুলো নদী গহ্বরে বিলীন হওয়ার আশংকা করছে এলাকাবাসী। একযুগ আগে থেকে এক দিকে ভাঙছে অপার দিকে ষ্টাফদের বাসভবন গুলোও বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে । আতংকে কাটছে কর্মচারীদের রাত। মানবেতর জীবন যাপনসহ ঝুকির মধ্যে করছে প্রহরীরা।

সরেজমিনে জানাযায় ষাটের দশকে সাড়ে তিন একর ভুমির ওপর গোড়া পত্তন হয় কাউখালী খাদ্য গুদামের। ওইসময়ে ৪ টি গুদাম ও ষ্টাফ কোয়ার্টার নির্মান করা হয়। স্বাধীনতর পর আরো ১ টি গুদাম নির্মান করা হয়। নির্মান করা হয় মসজিদ, নিরাপত্ত বেষ্টনী ও জেটি।

সন্ধ্যা নদীর ভাঙন শুরু হলে  একে একে বিভিন্ন স্থান ভেঙে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে আঘাত আসে কাউখালী ষ্টীমার ঘাট, লঞ্চ ঘাট, আমরাজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা, আশোয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফেরী ঘাটসহ খাদ্য গুদাম এলাকায়। খাদ্য গুদামের সামনের দীর্ঘ দেয়ালের বেশিরভাগ অংশ সহ জেটি ও সম্মুখের রাস্তা ইতো মধ্যে বিলীন হয়েছে। এছাড়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও সিএলএসডি), ষ্টাফকোয়ার্টার, লেবার শেড দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অফিসাররা অন্যত্র বাসা ভাড়া নিতে পারলেও  পহারাদাররা মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রহরীরা ঝড় বৃষ্টি মধ্যে মানবেতর জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। দায়ীত্ব পালনে নিচ্ছে চরম ঝুকি।

এসব বিষয় নিয়ে কাউখালী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এর সাথে কথা বললে তিনি জানান একটি গুদাম ইতোমধ্যে অকেজো হয়ে গেছে। অপসারন করা জরুরি। ষ্টাফ কোয়ার্টারের বিষয়টি জরুরী কারণ প্রহরীদের অবশ্যই গুদাম এলাকায় অবস্থান করতে হয়। এসব বিষয় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে বার বার চিঠি দেয়া হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে অকেজো গুদাম অপসারনের কর্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে কোন কাজ হচ্ছে না। ষ্টাফদের ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা হচ্ছেনা। ভাঙন রোধে জরুরী ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ষ্টাফ কোয়ার্টার ও লেবার শেড নির্মান করা প্রয়োজন। সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের হাত থেকে কাউখালী খাদ্য গুদাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী বলে সুধিজনের অভিমত।

//রবিউল হাসান রবিন /উপকূল বাংলাদেশ/কাউখালী-পিরোজপুর/৩১০৫২০১৪//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য