বর্ষায় উপকূলের গ্রামে মাছধরার প্রস্তুতি, জমজমাট চাঁইয়ের বাজার

kawkhali-2.jpgরবিউল হাসান রবিন, কাউখালী Θ গ্রামাঞ্চলে মাছ ধরার সবচেয়ে আদি ও পুরোনো উপকরণের মধ্যে একটি হচ্ছে বাঁশের তৈরী ফাঁদ চাই । উপকুলীয় এলাকার খাল বিল,নালায় এখন পূর্ণিমার জোয়ে সর্বত্র পানির প্রবাহ বাড়ছে। সেই সাথে চিংড়ি ও নানা প্রজাতির দেশী মাছের পোনাও বাড়ছে। এসব চিংড়ি ও দেশী মিঠাপানির মাছের ছোট পোনা ধরার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশের তৈরী ফাঁদ চাই। গ্রীষ্মের শুরু থেকে গ্রামাঞ্চলের খাল-বিল ও নদী-নালায় শুরু হয় চাই  দিয়ে মাছ ধরা। যা চলতে থাকে ভাদ্র-আশ্বিন মাস পর্যন্ত।

পিরোজপুরের কাউখালীতে মাছ ধরার উপকরণ বাঁশের তৈরি চাঁই কেনার ধুম পড়েছে। এলাকার বাজারগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার চাই বিক্রি হচ্ছে।  পিরোজপুরের কাউখালীতে   শুক্র ও সোমবার  হাটের দিন সবচেয়ে বড় হাট দক্ষিন বাজারে গিয়ে এমন দৃশ্যই চোখে পড়েছে। মাছ ধরার এসব সামগ্রী নিয়ে বিক্রেতারা বসেছেন হাটের পাশের খেয়াঘাট সড়কের দুধারে। কাউখালীতে গড়ে উঠছে চাই বেচা কেনার বিরাট বাজার। একজোড়া চাই ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রয় হয় এ হাটে। পিরোজপুরের নাজিরপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে গড়ে উঠে চাই তৈরী শিল্প।

এ ছাড়া পাশ্ববর্তী ভান্ডারিয়া, রাজাপুর, পিরোজপুর, হুলারহাট এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে তৈরী চাই কাউখালীল্গেড়ে ওঠা বাজারে বিক্রয় হয়।  সেখানেই কথা হয় চাঁই বিক্রেতা মনির হোসেনের সঙ্গে। তার বাড়ি নাজিরপুর গাওখালী গ্রামে। তিনি এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন প্রায় ১২ বছর ধরে। স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে তিনি নিজেই এসব তৈরি করেন। এরপর স্বরুপকাঠী, ভান্ডারিয়া, নাজিরপুর, পিরোজপুরসহবিভিন্ন হাটে তা বিক্রি করেন।

প্রকারভেদে মাছ ধরার এসব সামগ্রীর দাম ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। চাঁই বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, প্রতিহাটে তিনি ৩০ থেকে ৫০টি চাঁই বিক্রি করে থাকেন। তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার বিক্রি অনেক বেশি। তার মতো এ ধরনের আরো ১০-১৫ জন বিক্রেতা রয়েছে এ হাটে। কাউখালী  বাজারে কথা হয় চাঁই কিনতে আসা বদরপুর গ্রামের কৃষক শাহজামালের  সঙ্গে। তিনি কিনেছেন ২০টি চাঁই।

তিনি বলেন, এবার জৈষ্ঠ্য মাসের প্রথমদিকে বৃষ্টিপাত নদীর পাি বেশী হয়েছে । এতেই মাঠ-ঘাট পানিতে ভরে গেছে। ওই পানিতে দেশীয় পুঁটি, কই, গরাই বা সাঁটিমাছসহ নানা মাছ দেখা যাচ্ছে। ওসব মাছ ধরার জন্য উপকরণ কিনে নিচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত মাছ পাওয়া যায়। খাবার বাদ দিয়ে বাকি মাছ বাজারে বিক্রি করি। উপজেলার জয়কুল এলাকার আঃরহিম মাস্টার কিনেছেন ১২টি চাই। তিনি বলেন, এবার র্বষা আগাম    শুরু হওয়ায় খালে-বিলে মাছ পাওয়া যাচ্ছে ভালোই। সেই সঙ্গে বেড়েছে চাঁইয়ের কদর।

//রবিউল হাসান রবিন/উপকূল বাংলাদেশ/কাউখালী-পিরোজপুর/৩০০৫২০১৪//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য