সুন্দরবনের খড়মা ও ভোলা নদী ক্রমেই স্রোত হারিয়ে ফেলছে

gs2.JPGকামরুজ্জামান জসিম, মংলা Θ সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে প্রতিনিয়ত পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের খড়মা ও ভোলা নদীর পুরোটাই প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। একই রেঞ্জের অধীন সুন্দরবনের আরুয়াবেড় নদীতে পলি পড়ে ক্রমশ ভরাট হয়ে হয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, সুন্দরবনের অধিকাংশ নদী এবং খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার হেক্টর বনভূমির বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মরে যাচ্ছে। নদী-খাল ভরাট হয়ে বন ও লোকালয় মিশে যাওয়ায় বাঘসহ বন্য প্রাণী প্রায়ই লোকালয়ে এসে মানুষ ও গবাদি পশুর ওপর আক্রমন চালিয়ে বন সংলগ্ন গ্রামবাসীর রাতের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে। এছাড়া পাচারকারীরা অবাধে বনের গহিনে প্রবেশ করে মূল্যবান বনজ সম্পদ লোপাট করছে।

কালের সাক্ষী সুন্দরবনের খড়মা ও ভোলা নদীতে তেমন পানি প্রবাহ না থাকায় মংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলার অধিকাংশ কৃষি জমির উর্বরা শক্তি হ্রাস পেয়েছে। অন্য দিকে সীমানা নির্ধারনী জটিলতার অবসান না হওয়ার কারণে ভরাট হওয়া এ নদী দুটির বিপুল পরিমান অংশ ইতিমধ্যেই এক শ্রেণীর ভূমি দস্যুর দখলে চলে গেছে। এলাকাবাসী ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫০ বছর আগের খরস্রোতা নদী ছিল খড়মা ও ভোলা।

স্বাধীনতার পরপরই এ নদীতে পলি জমে ভরাট হতে থাকে এবং ১৪/১৫ বছরে আগে প্রায় পুরোটাই পলি পড়ে ভরাট হয়ে যায়। এক সময় এ নদী দিয়ে নিয়মিত ষ্টিমার, লঞ্চ, বড় বড় কাঠের নৌকাসহ সকল ধরনের নৌযান চলাচল করত। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ অফিস থেকে শুরু করে জিউধারা ফরেষ্ট ষ্টেশন পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১৪ কিলোমিটার জুড়ে ছিল খড়মা নদী। আর জিউধারা ফরেষ্ট ষ্টেশন থেকে ধানসাগর ফরেষ্ট ষ্টেশন পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার ছিল ভোলা নদী। শুধু খড়মা ও ভোলা নদীই নয়, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে এ রকম অসংখ্য নদী ও খাল পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে।

চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীর আন্ধারমানিক টহল ফাঁড়ির কাছাকাছি থেকে ধানসাগর ষ্টেশন পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে আরুয়াবেড় নদীতেও পলি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আর অব্যাহত পলি জমায় পুরো নদীর বিশাল এলাকাও দ্রুত ভরাট হচ্ছে। স্থানীয় প্রবীণ অধিবাসী ও বন বিভাগের সদস্যদের ধাারনা মতে এখন থেকে ৩০/৪০ বছর পূর্ব থেকে খড়মা ও ভোলা নদী দুটিতে ধীরে ধীরে পলি পড়তে শুরু করে এবং তা ১৫ বছর আগে পুরোটাই পলি পড়ে ভরাট হয়ে সমতল ভূমিতে পরিনত হয়।

পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০০৫ সালে ভরাট নদী দু’টি পুনঃ খনন করে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করলেও নিয়মিত পলি পড়ে তা  পূর্বের অবস্থানেই ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধের কারনে পশুর নদীতে স্রোত কমে যাওয়ায় খড়মা নদীতে পশুর নদীর স্রোত, আর ভোলা নদীতে বলেশ্বর নদীর স্রোত প্রবেশ করতে শুরু করে।

এ দু’নদীর জোয়ারের স্রোত জিউধারা ফরেষ্ট ষ্টেশন এলাকায় একসঙ্গে মিশে নদীতে পলি পড়তে থাকে। ধীরে ধীরে তার ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়ে এক পর্যায়ে পুরো নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে যায়। আর এভাবেই একে একে ভরাট হয়ে সুন্দরবনের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য নদী ও খাল।

/কামরুজ্জামান জসিম/উপকূল বাংলাদেশ/মংলা-বাগেরহাট/১১০৫২০১৪//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য