মংলায় আটক ৩ দস্যুকে জেল হাজতে প্রেরন

mongla-dossu-09-05-14.jpgপ্রতিবেদন উপকূল বাংলাদেশ, মংলা Θ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৮ কাছে আত্মসমর্পণ করা ফরিদ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। আত্মসমর্পণের আগে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে এমন ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন ‘সুন্দরবনের দস্যু’ হিসেবে পরিচিত এ ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার (৮ মে) তিনি আত্মসমর্পন করেন।

এদিকে মংলায় আটক ৩ দস্যুকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

মংলার চিলা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রাসেল এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ফরিদ অল্প বয়সে হঠাৎ করেই দস্যুবৃত্তির পেশা বেছে নেয়। সম্প্রতি সে আমাকে বলেছে সে ভালো হতে চায়। তাকে সহযোগীতা করার জন্য। এখন তার লক্ষ্য দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা।’ ফরিদের প্রতিবেশীরাও এ প্রতিবেদককে একই ধরনের তথ্য জানান। তারা বলেন, আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ফরিদ তার দস্যুতা ছেড়ে উপকূলের মানুষের সাথে মিলে জীবনকে বদলে ফেলতে চাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, মংলার বৌদ্ধমারী এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী ইউসুফ লাহারীর ছেলে ফরিদ। তিনি তার পরিবারের বড় সন্তান। বৌদ্ধমারী প্রাইমারি স্কুলে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে ফরিদ সুন্দরবনের মুর্তুজা বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি ‘টার্গেট’হয়ে যান প্রশাসনের। কিছুদিন পর ফরিদ একটি অস্ত্র মামলায় জেলও খাটেন। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি ফিরে যান বনের অভ্যন্তরে। সেখানেই গড়ে তোলেন ফরিদ বাহিনী।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫৫মিনিটে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের মৃগমারি খাল সংলগ্ন এলাকায় র‌্যাব-৮ এর কাছে আত্মসমর্পণ করে বাহিনী প্রধান ফরিদসহ তিন জন। র‌্যাব-৮ এর ক্যাপ্টেন গুলজার আহমেদ জানান, সুন্দরবনের বাহিনী প্রধান ফরিদ (২৭) এবং তার সঙ্গী জুয়েল (২৯) ও  আসাদ(২৮) আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তারা ১টি থ্রি নট থ্রি রাইফেল, ১টি পয়েন্ট টুটু বোর রাইফেল, ৩টি সিঙ্গেল ব্যারেল বন্দুক, ১ হাজার রাউন্ড গুলি জমা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের খুলনাস্থ র‌্যাব-৬ এর দপ্তরে নেয়া হয়। বিকেলেই আটককৃতদের মংলা থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের পর গতকাল শুক্রবার সকালে বাগেরহাট জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

/কামরুজ্জামান জসিম/উপকূল বাংলাদেশ/মংলা-বাগেরহাট/০৯০৫২০১৪//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য