কক্সবাজারে অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলন

images13.jpgকক্সবাজারের সংরক্ষিত ৪৬টি প্রাকৃতিক ছড়া, খাল ও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। গতকাল শনিবার সকালে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী গ্রামের একটি ছড়া ঘুরে দেখা গেছে, ১০-১২ জন লোক মেশিনের মাধ্যমে বালু তুলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে মজুত করছেন। পরবর্তী সময়ে ট্রাক বোঝাই করে এই বালু অন্যত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশের ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারাসহ অন্তত ১৬টি ছড়া থেকেও একইভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জয়নাল আবদিন বলেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে উপজেলার ১০টি বালুমহালের ইজারা বন্ধ রয়েছে। এখন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এসব মহাল থেকে বালু উত্তোলনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনুসন্ধান করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে সদর উপজেলার মাছুয়াখালী, নাপিতখালী, কালিরছড়া; উখিয়া উপজেলার দোছড়ি, হিজলীয়া, পালংখালী, থাইংখালী, উখিয়াঘাট, রেজুরখাল; রামু উপজেলার বাঁকখালী নদী, উত্তর মিঠাছড়ি, বানিয়াছড়া, পানিরছড়া; পেকুয়ার জারুলবনিয়া, সোনাইছড়ি ও বটতলীসহ অন্তত ৪৬টি সংরক্ষিত ও প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ ট্রাক বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কতিপয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক দলের নেতা শত শত শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে এই বালু উত্তোলন করলেও কেউ বাধা দিচ্ছে না।
কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক উৎস থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু আহরণ করায় নদী বা খালের দুই তীর বিলীন হচ্ছে। ধসে পড়ছে সংরক্ষিত পাহাড়। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিচু জমি ভরাট, ভবনসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণকাজে লোকজন এই বালু ব্যবহার করছে।
কক্সবাজার (দক্ষিণ) বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) বিপুলকৃঞ্চ দাশ বলেন, ছড়া-খাল থেকে বালু তোলার ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। ফলে বন বিভাগের করার কিছু থাকে না।
পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক উৎস থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে দ্রুত অভিযানে চালানো হবে। -সূত্র প্রথম আলো

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য