সাগর বুকে ১০ লাখ লোকের পূণর্বাসন !

3_12_bangladesch.jpgসাঈদুর রহমান রিমন।। ১৯৭০ পরবর্তী ত্রিশ বছরে সাগর থেকে উদ্ধারকৃত জমিতে প্রায় সাড়ে নয় লাখ ভূমিহীন মানুষকে পুনর্বাসন করা হয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। সমীক্ষা প্রতিবেদনটিতে বয়ারচর ও ফেনী মোহনার উপকুলীয় এলাকায় নতুন চরভূমির স্থায়ীত্ব ও বিস্তার ঘটবে এবং লাখ লাখ ভূমিহীন পূণর্বাসিত হতে পারবে বলেও গবেষকরা উল্লেখ করেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব চরে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নেয়া হলে প্রতি বছর গড়ে ২০ বর্গ মাইলেরও বেশি ভূমি টিকিয়ে রাখা সম্ভব। তারা বলেন, এভাবে জেগে ওঠা বয়ারচর, নলেরচর, নঙ্গলিয়ার চর ইতোমধ্যেই স্থায়িত্ব পেয়ে দেশের মূল ভূখন্ডে পরিনত হয়েছে। এছাড়াও গত আট বছরে গড়ে ওঠা কেরিংচর, ঢালচর, মৌলভীর চরসহ অন্তত ২৮টি ছোট বড় চরভূমিতে বসবাস করছে ৩০ সহস্রাধিক ভূমিহীন পরিবার।
মুহুরী টু সুন্দরবন রেঞ্জ: চট্টগ্রামের মুহুরী প্রজেক্ট, নোয়াখালী, লক্ষীপুর ও ফেনীর উপকুলীয় অঞ্চল ছাড়াও সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা সংলগ্ন সাগরেও বড় বড় চরভূমি জেগে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে সুন্দরবন (পশ্চিম) বন বিভাগের কর্মকর্তা মান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্যের ৩/৪ কিলোমিটার দক্ষিণে বিশাল আয়তনের নতুন চর জেগে ওঠার তথ্য জানিয়েছেন। সুন্দরবন (পশ্চিম) বন বিভাগের ডিএফও তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, নতুন জেগে ওঠা চরে এখন পর্যন্ত কোন গাছপালা জšে§নি এবং বন্য প্রাণীর অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি। বন অধিদপ্তর সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানায়, নতুন বন সৃজনের মাধ্যমে চরের স্থায়ীত্ব দেয়ার ব্যাপারে পরিকল্পনা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, কাদা-মাটি, পলিযুক্ত চরভূমিতে ম্যানগ্রোভ বনায়নের মাধ্যমে টেকসই ভূখন্ড গড়ে তোলা সম্ভব হয়। বন বিভাগের প্রচেষ্টায় নিঝুম দ্বীপের মতো আরো কয়েকটি চরভূমি ঘন বনাঞ্চল, বন্যপ্রাণী-পাখ-পাখালির মনোমুগ্ধকর অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন জরিপ কাজে অংশগ্রহণকারী উর্দ্ধতন এক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, বিগত ৪০ বছরের ইতিহাসে পটুয়াখালী, ভোলা এবং বরগুনার নদী মোহনা-সাগরে চর জেগে সর্বাধিক ভূমি সৃজন হচ্ছে। প্রতি বছরই বাড়ছে এসব চরের আয়তন। অবশ্য সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিস-(সিইজিআইএস) এর স্যাটেলাইট ইমেজ-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে নোয়াখালীর উপকুলেই সবচেয়ে বেশি ভূখন্ড জেগে উঠছে। ইতোমধ্যে ক্রসবাঁধ পদ্ধতিতেও বঙ্গোপসাগর থেকে লক্ষাধিক হেক্টর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় এক হাজার বর্গ কিলোমিটার আয়তনের নতুন ভূখন্ড পাওয়া গেছে সেখানে। সিআইজিএস এর গবেষকরা জানিয়েছেন, আরো কয়েকটি ক্রসবাঁধের মাধ্যমে নোয়াখালীর সঙ্গে বিচ্ছিন্ন সন্দ্বীপের সংযুক্তির সম্ভাব্যতা নিয়েও এখন গবেষণা চলছে। এটা সম্ভব হলে যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচণা হবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য