সাড়ে ১০ হাজার একর জমি নিয়ে কুয়াকাটায় সংরক্ষিত এলাকা

kuakata-sea-beach.jpgপটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এলাকার চারটি মৌজার ১০ হাজার ২৭৯ দশমিক ৫৮ একর জমি পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকায় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় গত ১০ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সৈকত এলাকার চারটি মৌজার জমির দাগ নম্বর ও পরিমাণ প্রকাশ করেছে।
কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় যাতে অবৈধভাবে স্থাপনা গড়ে না ওঠে এবং সৌন্দর্যহানি না ঘটে, এ লক্ষ্যে উচ্চ আদালতের আদেশের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ২৫ মার্চ উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানা যায়, সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে লতাচাপলী মৌজার পাঁচ হাজার ২২৭ দশমিক ৪৯ একর, গঙ্গামতি মৌজায় দুই হাজার ৩৯৩ দশমিক ১৮ একর, কাউয়ারচর মৌজায় এক হাজার ৩৪৭ দশমিক ৪৫ একর ও চরচাপলী মৌজায় এক হাজার ৩১১ দশমিক ৪৬ একর জমি রয়েছে।
এর আগে ২০১১ সালের ২ জুন একটি মানবাধিকার সংগঠনের দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সৈকতের সীমানা নির্ধারণ করতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সেখানে যেন নতুন করে দখল ও স্থাপনা নির্মিত না হয়, সে জন্য পাহারার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার ও কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
এরপর পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সৈকতের আন্ধারমানিক নদীর মোহনা লেম্বুচর থেকে গঙ্গামতী হয়ে কাউয়ারচর পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে বেড়িবাঁধের বাইরে ২২৮টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত ও প্রায় ৯০ শতাংশ ভেঙে দেওয়া হয়। বাকিগুলো মামলাজনিত জটিলতার কারণে ভেঙে ফেলা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
উচ্চ আদালতের রায়ের কপি ২০ মার্চ পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে পৌঁছে। ২৫ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপিসহ ওই রায়ের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
কলাপাড়ার ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তাঁদের ওপর নির্দেশনা রয়েছে সৈকতে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, ওই নির্ধারিত এলাকায় কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ যাতে করতে দেওয়া না হয়। কুয়াকাটার সৌন্দর্যহানি যাতে না ঘটে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি।’ -সূত্র প্রথম আলো

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য