কাউখালীতে মুরাদ ও রিয়াদের মিনারে শ্রদ্ধা জানালো শিশু-কিশোরেরা

শ্রদ্ধা নিবেদন

কাউখালী, পিরোজপুর : পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চারদিক নদী বেষ্টিত সোনাকুর গ্রামে যমজ দু’ভাই কলাগাছ দিয়ে তৈরি করেছে অস্থায়ী শহীদ মিনার। আর সেই শহীদ মিনারে ২১ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকালে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালো দ্বীপের শিশু-কিশোররা।

এর আগে মহান একুশ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে একসপ্তাহ ধরে জমজ দুই সহদর শিশু মুরাদ ও রিয়াদের চলছিল একুশের পালনের প্রস্তুতি। প্রতিবেশীদের বাড়ী থেকে চেয়ে কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার আর সন্ধ্যার তীরের কাদামাটি দিয়ে শহীদ মিনারের বেদী বানিয়ে মাতৃ ভাষা দিবস পালন করছে ওরা। আজ মঙ্গলবার প্রত্যুষে মহান একুশে ফেব্রæয়ারী সহপার্ঠীদের সাথে নিয়ে এই কলা গাছের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় মুরাদ ও রিয়াদ। শিশু দুটি সোনাকুর গ্রামের গ্রাম পুলিশ মোঃ মনির হোসেনের যমজ সন্তান।

সহোদর রিয়াদ ও মুরাদের মিনার

ওরা উপজেলার মধ্য সোনাকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। ওদের বিদ্যালয়ে কোন শহীদ মিনার না থাকায় সন্ধ্যা নদীর তীরে পাল পাড়ায় ওরা কলা গাছের শহীদ মিনার বানিয়ে একুশে পালন করছে।

শিশু মুরাদ হোসেন বলেন আমাগো ইস্কুলে কোন শহীদ মিনার নাই। তাই কলা গাছ দিয়ে দুই ভাই মিলে শহীদ মিনার বানিয়েছি। আর সেই শহীদ মিনারে আজ ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাইছি।
আজ ওদের এই অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন কাউখালী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি, শিক্ষা উদ্যোক্তা আঃ লতিফ খসরু, কাউখালী মহাবিদ্যালয়ের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা মিমি, কাউখালী মহাবিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সনিয়া খন্দকার, জমজ দুই সহদর রিয়াদ ও মুরাদ।
আর তাদের এই অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন সকাল থেকে জমায়েত হয় সন্ধ্যা নদীর তীরে। পরে উপস্থিত শিশুদের হৃদয়ে একুশের চেতনা ধারন করব এ শপথ বাক্য পাঠ করান শিশু মুরাদ।

/প্রতিবেদন/২১০২২০১৭//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য