মৎস্যজীবীদের অধিকার রক্ষা এবং মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে চার দফা

মৎস্যজীবীদের অধিকার রক্ষা বিষয়ক সেমিনার

ঢাকা : অদ্য (৮ ফেব্রুয়ারি) সিরডাপ মিলনায়তনে উপকূলীয় জেলেদের অধিকার রক্ষা ও জীবনমান উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনারে মৎস্যজীবীদের অধিকার রক্ষা এবং মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। কোস্ট ট্রাস্ট সিএলএস প্রকল্প ”জাতীয় অর্থনীতিতে জেলেদের অবদানের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি চাই” দাবী নিয়ে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারের প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রানী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি উল্লেখ করেন, মৎস্যজীবীদের অধিকার রক্ষা এবং মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের জন্য মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ, স্বরাষ্ট্র, নৌ পরিবহণ, বন ও পরিবশে এবং ভুমি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি চুক্তি বা বিধিমালা থাকা প্রয়োজন। প্রতিমন্ত্রী এসএমএস মাধ্যমে সহায়তার টাকা জেলেদের সরাসরি প্রেরণ এবং জেলেদেও জন্য হালনাগাদ একটি ডিজিটাল তালিকা প্রস্তুতির জন্য ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন কয়েকটি মন্ত্রনণালয়ের মধ্যে বৃহত্তর সমন্বয়ে মৎস অধিদপ্তরের নেতৃত্ব থাকতে হবে।

সেমিনারে কোস্টের পক্ষ থেকে উপকূলীয় জেলেদের আইনগত অধিকার বিষয়ে একটি গবেষণা পত্র উম্মোচন করা হয়। গবেষণা পত্র এবং সেমিনারে উপস্থিত বক্তাদের কথা থেকে নিচের কয়েকটি দাবী উঠে আসে: ১) জেলেদের আইডি কার্ড প্রকৃত জেলেদেরকেই দিতে হবে এবং হাল নাগাদ করতে হবে, ২) মাছ ধরা বন্ধের সময়ই সরকার কর্তৃক সহায়তা তালিকাভূক্ত সকলকে প্রদান করতে হবে, ৩) জেলেদের সহায়তার টাকা তাদের ব্যাংক হিসাবের মাদ্যমে প্রদান করতে হবে, এবং ৪) প্রকৃত জেলেদের নিয়ে একটি ডাটা বেজ তৈরি করতে হবে।

সেমিনারে অন্যান্যদের বক্তব্য রাখেন মুহাঃ গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস এমপি এবং সদস্য, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি, মি. জেরম স্যারে, টিম লিডার, সিএলএস প্রকল্প, মোঃ গোলাজার হোসেন, উপ-পরিচালক মৎস্য অধিদপ্তর, লে. ফারুকুল ইসলাম, স্টাফ অফিসার, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ড. আনিচুর রহমান, গবেষক, চাদপুর ইলিশ গবেষণা কেন্দ্র, ড. নাহিদুজ্জামান, প্রজক্টে ম্যানেজার, ইকোফিস প্রকল্প, নুরুল ইসলাম, সম্পাদক, জেলা মৎস্যজীবী সমিতি, মোঃ এরশাদ মাঝি সভাপতি ভোলা জেলা মৎস্যজীবী সমিতি এবং ভোলা থেকে আগত সরকারী কর্মকর্তা ও জেলে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সনৎ কুমার ভৌমিক, পরিচালক কোস্ট ট্রাস্ট সেমিনারে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। গবেষক রেশাদ আলম তার গবেষনা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধি লে. ফারুকুল ইসলাম তাদের সদস্যদের সিভিল আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথা বলেন এবং বেশী গতি সম্পন্ন নতুন ৪ টি জলযান উপকূলীয় এলাকায় নিয়োগের কথা জানান।

গবেষক আনিচুর রহমান বলেন জেলেরা স্বেচ্ছায় বন্ধ সময়ে ইলিশ মাছ না ধরার কারণে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি জেলেদের সামাজিক উন্নয়নের জন্য গবেষনা করার কথা বলেন।

ইকোফিসের নাহিদুজ্জামান জেলেদের জন্য ৩.৫ কোটি টাকার একটি ইলিশ কনজারভেশন ফান্ড গঠনের কথা জানান এবং সরকারের সংশ্লিষ্টদের উক্ত ফান্ডকে আরো বৃদ্ধি এবং তত্তাবধানের আহবান জানান। তিনি ইলিশ থেকে প্রাপ্ত জাতীয় আয়ের একটি অংশ জেলেদের উন্নয়নে বরাদ্দের জন্য আনগত কাঠামো তৈরি কথা বলেন।

মৎস্যজীবী নেতা নুরুল ইসলাম বাংলাদেশ ব্যাংক এর অলস টাকা জেলেদের মাঝে ঋণ হিসাবে বিতরণের আহবান জানান। তিনি অভিযোগ করেন যে জেলেদের জন্য দশ হাজার টাকার জাল বরাদ্ধ দেওয়া হলেও কন্ট্রাক্টরগন ৪ হাজার টাকা মূল্যের দুর্বল জাল জেলেদের বিতরণ করেন যা দিয়ে মৎস্য শিকার করা যায় না।

জেলে নেতা ইরসাদ পন্ডিত অভিযোগ করেন, সরকারী অনুমোদন নিয়ে এবং উপরের ছত্রছায়ায় বড় বড় ট্রলিং জাহাজ উপকূলের খুব কাছে এসে মাছ ধরে ফলে ক্ষুদ্র জেলেরা মাছ পয় না। এ ব্যাপারে তিনি তিনি কোস্ট গার্ড ও মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চান।

সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মোস্তাফা কামাল আকন্দ, সহকারী পরিচালক, কোস্ট ট্রাস্ট এবং সেমিনার শেষে সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জনাব শওকত আলী টুটুল, সহকারী পরিচালক, কোস্ট ট্রাস্ট।

সঞ্চালক সনৎ কুমার ভৌমিক জেলেদের আত্ম সচেতনতার কথা বলেন এবং তাদের দাবীসমূহ তারাই বলবেন এবং সেঅনুযায়ীই আইন প্রণয়ন করা হবে, মাননীয় মন্ত্রীর এই কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/০৮০২২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য