সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি

অতিথিগণের সঙ্গে স্মারকপ্রাপ্ত অংশগ্রহনকারী

ঢাকা : ১১ জানুয়ারি ২০১৭, বুধবার ঢাকার বাংলামটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৬’-এর আনুষ্ঠানিক সমাপনী ঘটলো। ২০১৬ সালের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে উপকূলের ২৬টি স্থানে মাঠ কর্মসূচি শেষে এই সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী। ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবদুল আজিজ, মো. মুস্তাফা খায়েরসহ ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স এন্ড ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্টের প্রধান মো. শাহাজাদা বসুনিয়া। গ্রীণ ব্যাংকিং ও সবুজ উপকূল বিষয়ে বক্তব্য দেন ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মুস্তফা খায়ের। সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির তথ্যচিত্র তুলে ধরেন কর্মসূচির কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী রফিকুল ইসলাম মন্টু।

সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির স্থানীয় সমন্বয়কারীদের পক্ষে বক্তব্য দেন শরণখোলার সিনিয়র সাংবাদিক শেখ মোহাম্মদ আলী এবং উপকূল থেকে আগত পড়ুয়াদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেয় লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জুনাইদ আল-হাবিব।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে উপকূল থেকে আগত দুই পড়ুয়া বাঁশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাত তাসনিম ও নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরবাটা খাসেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অভি মজুমদার অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে। অনুষ্ঠানের সকল বক্তা এবং অংশগ্রহনকারীরা খুদে উপস্থাপনায় মুগ্ধ হয়।

অনুষ্ঠানে উপকূলের বিভিন্ন এলাকা থেকে সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির স্থানীয় সংগঠক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ ঢাকায় অস্থানরত ভলান্টিয়ারগণ যোগ দেন। অনুষ্ঠানের অতিথিগণ সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচিতে সাফল্য অর্জনকারীদের হাতে স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেন।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় সাফল্য স্মারক গ্রহন করে বাঁশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুসরাত তাসনিম ও চরবাট খাসেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভি মজুমদার, খুদে বক্তা সাফল্য স্মারক গ্রহন করে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জুনাইদ আল-হাবিব, অভিনয় সাফল্য গ্রহন করে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কঁচিমুখ নাট্যাঙ্গনের আতিকুর রহমান মিরাজ, বাস্তবায়ন সাফল্য স্মারক গ্রহন করে ভোলার মনপুরার মো. আলমগীর হোসেন, তজুমদ্দিনের শরীফ আল-আমীন, বরগুনার সুমন সিকদার, বাগেরহাটের শরণখোলার শেখ মোহাম্মদ আলী, খুলনার পাইকগাছার প্রকাশ ঘোষ বিধান, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের রনজিৎ বর্মন, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের সাজ্জাদুর রহমান, নোয়াখালীর সুবর্ণচরের আবদুল বারী বাবলু, ফেনীর সোনাগাজীর শেখ আবদুল হান্নান, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জসিম মাহমুদ, ঢাকার ছাইফুল ইসলাম মাছুম, ভলান্টিয়ার শুভেচ্ছা স্মারক গ্রহন করে মোহাম্মদ সাগর হোসাইন সবুজ, খান শান্ত, মরিয়ম খানম, এ কে এম মাহমুদুল হক, নাবিহা আক্তার রাদিতা, মো. রুবেল সিকদার, বিন ইয়ামিন সিফাত, মো. বিল্লাল হোসেন এবং শিমু আক্তার।

২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর উপকূলের স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি সবুজ সুরক্ষার আহবানের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৬’-এর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। গোটা উপকূল জুড়ে অনুষ্ঠিত ২৬টি স্কুল-ভিত্তিক কর্মসূচিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। উপকূলের ১৬টি জেলার মধ্যে ১৪টি জেলার ২৫টি উপজেলা এবারের কর্মসূচির আওতায় এসেছে। কর্মসূচির আওতায় পড়ুয়ারা রচনা লিখন, ছড়া/কবিতা লিখন, পত্র লিখন, সংবাদ লিখন ও ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রত্যেক প্রতিযোগিতায় তিন করে বিজয়ী পুরস্কার পায়। এছাড়াও কর্মসূচির আওতায় ছিল আলোচনা সভা, স্কুল চত্বরে গাছের চারা রোপণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আলোচনার বিষয় ছিল ‘নতুন প্রজন্মের জন্য চাই সবুজ উপকূল’। কর্মসূচি উপলক্ষে ২৬টি ভেন্যু স্কুলের প্রতিটিতে একটি করে দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’ প্রকাশিত হয়। এতে চারপাশের পরিবেশ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের লেখা স্থান পায়।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল থেকে উপকূল অঞ্চলে সবুজ উপকূল কর্মসূচি শুরু হয়। ২০১৬ সালের কর্মসূচির মধ্যদিয়ে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দ্বিতীয় বছর অতিক্রম করলো।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/১১০১২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য