সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে স্মরণ, ‘চারণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন আমাদের পথপ্রদর্শক’

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে মোনাজাতউদ্দিন স্মরণ সভা

সাতক্ষীরা : ‘‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জনক মোনাজাতউদ্দিন তার রিপোর্টিং কলাকৌশলের মধ্যে চিরদিন বেঁচে থাকবেন। সমাজের অবহেলিত মানুষের জীবন জীবিকা নিয়ে তিনি নিত্য সংবাদ রচনা করে তাদের মনের মধ্যেই রয়ে গেছেন। সংবাদের নেপথ্য সংবাদ খুঁজে তিনি দুর্নীতি, বঞ্চনা, সন্ত্রাস, অপরাধ তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজকে তিনি যথাযথ দিক নির্দেশনা দিয়ে পথিকৃৎ হয়ে উঠেছেন। মোনাজাতউদ্দিনকে অনুকরন ও অনুসরন করে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকরাও হয়ে উঠতে পারেন বিষয়ের পথপ্রদর্শক।’’

বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) প্রয়াত চারণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিনের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত স্মরণ সভায় এসব কথা বলেন সাংবাদিকরা।

তারা আরও বলেন, মোনাজাতউদ্দিন মঙ্গা পীড়িত মানুষ, ক্ষুধা ও দারিদ্র জর্জরিত ভুখানাঙ্গা মানব সন্তানের দুর্দশার কথা সরাসরি তুলে ধরেছেন। দুর্যোগ কবলিত মানুষের ত্রাণ চাহিদা ও প্রাপ্তি নিয়ে সংবাদ রচনা করেছেন। কৃষকের সমস্যা, কৃষির অন্তরায়, স্বাস্থ্যহানি, চিকিৎসায় অব্যবস্থা নিয়ে লিখেছেন একের পর এক রিপোর্ট। বলা যায় অন্ততঃ দুই দশক ধরে মোনাজাতউদ্দিনের রিপোর্ট ছাড়া দৈনিক সংবাদ প্রকাশিত হয়নি। মোনাজাতউদ্দিন তৃণমুলে যেয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে নাড়া দিয়েছেন। তার ক্ষুরধার কলম ও অপূর্ব লেখনী শক্তি তাকে সত্যনিষ্ঠ ও নির্লোভ সাংবাদিকে পরিনত করেছিল।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। এতে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি দৈনিক কালের চিত্র সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাবেক সভাপতি এনটিভি ও দৈনিক যুগান্তরের সুভাষ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি দৈনিক ইত্তেফাক ও একুশে টিভির মনিরুল ইসলাম মিনি, দৈনিক দক্ষিনের মশাল সম্পাদক আশেক ই এলাহি, প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি দৈনিক ইনকিলাবের আবদুল ওয়াজেদ কচি, সাবেক সাধারন সম্পাদক জনকন্ঠের মিজানুর রহমান, সাবেক সাধারন সম্পাদক মাছরাঙ্গা টিভির মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, দৈনিক যুগের বার্তার বার্তা সম্পাদক শেখ আমিনুর রশীদ, যুগ্ম সম্পাদক বনিক বার্তার গোলাম সরোয়ার, সাবেক নির্বাহী সদস্য বাংলা ভিশন টিভির মো. আসাদুজ্জামান, নির্বাহী সদস্য মানবকন্ঠের অসীম চক্রবর্তী ও সাংবাদিক রিয়াজুল ইসলাম।

প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক দৈনিক কলের চিত্রর সহযোগী সম্পাদক রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় স্মরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আনিসুর রহিম, সাবেক সাধারন সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, এশিয়া টিভির আবদুস সামাদ, নিউজ টুয়েন্টি ফোরের শাকিলা ইসলাম জুঁই, যমুনা টিভির আহসানুর রহমান রাজীব, কাজী শহিদুল হক রাজু, আবদুল গফুর সরদার, মো. ইব্রাহীম হোসেন, আসাদুজ্জামান সরদার প্রমুখ সাংবাদিক।

বক্তারা মোনাজাতউদ্দিনের পঞ্চাশ বছরের জীবন ও তার কৃতিত্বের নানা দিক তুলে ধরে বলেন, চারণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন বাল্য বিবাহের কুফল তুলে ধরে সমাজে ও রাষ্ট্রে ঝাঁকুনি দিয়েছিলেন। তার সেই পথ অনুসরন করে বাংলাদেশে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন পাস করা হয়েছে। তিনি আরসেনিক নিয়ে রিপোর্ট করে সরকারকে সচেতন করে তোলেন। সমাজের অবহেলিত মানুষ, পিছিয়ে পড়া সাধারন মানুষ, দারিদ্র্য কিষ্ট মানুষ, পরনে ছিন্ন বস্ত্র, মুখে আহার নেই, কাজ নেই, দুর্গম চরের মানুষের জীবন, জীবনকে যারা অভিশাপ মনে করেন তারাই ছিলেন মোনাজাতউদ্দিনের সংবাদের কেন্দ্র বিন্দু। তিনি সুস্থ হয়েও রোগী সেজে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ওষুধ চুরির চিত্র ধারন করেছেন। রিপোর্ট করে তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের  দুর্নীতির চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে মোনাজাতউদ্দিন গনমানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

এমন একজন গুনি সাংবাদিককে স্যালুট জানিয়ে সাংবাদিক বক্তারা বলেন বলেন তার মৃত্যু হয়েছে অপঘাতে। অথচ আজও সে রহস্য রহস্যই হয়ে থাকলো। সাংবাদিকরা তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন চারণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন বহু পুরস্কার পেয়ে সম্মানিত হয়েছেন। তার পথ অনসরন করে চলার আহবান  জানান তারা।

কোস্টাল জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ-সিজেএফবি’র উদ্যোগে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব এ স্মরণ সভার আয়োজন করে। গত বছরের মত এবারও উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে।

//প্রতিবেদন/২৯১২২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য