এক যুগেও শেষ হয়নি কুতুবদিয়ার আকবরবলী জেটির নির্মাণ কাজ

কুতুবদিয়ার আকবরবলী জেটি

কুতুবদিয়া, কক্সবাজার : এক যুগেও শেষ হয়নি জেটি নির্মাণ কাজ, ভেঙ্গে পড়েছে জেটির পিলার ,জনদূর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী। নির্মাণ কাজ সমাপ্তের আশ্বাসের বাণী শুনে গেলেও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপের আকবরবলী ঘাটে (নৌযানে) যাত্রী উঠানামার জন্য বিগত ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষের অর্থ ব্যয়ে জেটি নির্মাণের মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাজ এক যুগ অতিবাহিত হয়ে গেলেও শেষ করতে পারেনি কর্র্র্তৃপক্ষ।

নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত মানুষ যুগের পর যুগ ধরে যাত্রী দূর্ভোগ শেষ হচ্ছে না। সে সময়ে নির্মিত জেটি এলাকাবাসীর কোন উপকারে আসছে না। কুতুবদিয়া উপকূলের উত্তর ধুরুং আকবরবলী জেটিঘাট দিয়ে চ্যানেল পার হয়ে বাশঁখালী উপকূল দিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম শহরে আসা যাওয়ার একমাত্র পথ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ (এলজিইডি) অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়া দ্বীপের নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য বিগত ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরের জনদূর্ভোগ নিরসনের জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষ অর্ধ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। কিন্তু বরাদ্দকৃত টাকা অপ্রতুল থাকায় তৎসময়ে জেটি নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারেনি। ফলে প্রাক্কলন অনুযায়ী জেটির নির্মাণ কাজ অসর্ম্পূণ থেকে যায়।

কুতুবদিয়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডির) মোহাম্মদ মহসিন জানান, আকবরবলী জেটি নিমার্ণের জন্য ২০০৩ সনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দপ্তর থেকে ১৬৪ মিটার র্দীঘ জেটি নিমার্নের জন্য প্রাক্কলন তৈরী করা হয়েছিল। তখনই প্রাক্কলিত জেটিটি নির্মাণ করার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৯০ লাখ টাকা। কিন্তু ২০০৪ সনে এ জেটি নিমার্ণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায় ৫০ লাখ টাকা। প্রক্কলিত প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ কম পাওয়া গেলে জেটি নির্মাণের আয়তন ছোট করে ৯০ মিটার করতে হয়েছে। প্রাক্কলনের বাকি কাজ শেষ করার জন্য কুতুবদিয়া উপজেলা প্রকৌশলী অফিস থেকে স্বারক নং-এলজিইডি/উপ/প্রকৌ/কুতুব/ ২০০৭/৩০০/২৭-০৭-২০০৭ ইংরেজি মূলে আরো ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে প্রধান প্রকৌশলী এলজিইডি বরাবরে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান।

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ,টি,এম নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, আকবরবলী ঘাটে জেটি নিমার্ণের সময় প্রাক্কলন অপরিকল্পিত ছিল। প্রাক্কলন তৈরী করার সময় বরাদ্দের পরিমান কম হলেও বেড়িবাঁধ থেকে জেটিটি নিমার্ণ কাজ শুরু করেনি কর্তৃপক্ষ। প্রক্কলনের মধ্যোংশে জেটি নির্মাণ কাজ শুরু করলে বরাদ্দের অর্থ শেষ হয়ে যায়। পূনরায় জেটি বাকি নিমার্ণ কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়নি। পারাপারে যাত্রীরা জেটি ব্যবহারে দীর্ঘ এক যুগ ধরে দূভোর্গ পোহাচ্ছে। সে সময়ে অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জেটিটি যাত্রীদের কোন উপকারে আসছে না।

আকবরবলী জেটি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মিত জেটির সাগর ভাগে (কুতুবদিয়া চ্যানেল অংশে) চার’টি পিলার আর উপরের রিলিং ভেঙ্গে গেছে। অবশ্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাবরে অসমাপ্ত জেটির নিমার্ণ কাজ শেষ করার জন্য উপজেলা পরিষদের স্বারক দিয়ে স্থানীয় সরকার সন্ত্রণালয়ে একাধিকবার লিখিত পত্র পাঠিয়েছেন।

উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, কুতুবদিয়া বাচাঁও আন্দোলনের সভাপতি আ,স,ম, শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন, উপজেলার এলজিইডি কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় ৩০ মিটার জায়গা বাদ রেখে ৯০ মিটার জেটি নির্মাণ করে। জেটির সামনে আরোও ৪০ মিটার জায়গা ফাঁকা। অপরিকল্পিতভাবে মাঝখানে অসর্ম্পূণ জেটি নির্মাণ করায় নৌকা বা ফেরি পারাপারে ডেনিস বোটের যাত্রীরা নির্মিত জেটি দিয়ে উঠানামার সুবিধা ভোগ করতে পারছে না। ফলে নৌযানের যাত্রীদের উঠানামায় যুগ যুগ ধরে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

//প্রতিবেদন/লিটন কুতুবীর ফেইসবুক থেকে সংগৃহিত/২০১২২০১৬/

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য