প্রতিকূলতা ভেঙে এগিয়ে চলা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নাজিমের গল্প

মোহাম্মদ নাজিম হোসেন

কমলনগর, লক্ষ্মীপুর : মোহাম্মদ নাজিম হোসেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দালাল বাজার এলাকায় বাড়ি। পিতা মোহাম্মদ কবির হোসেন ও মা নাজমুন নাহারসহ ২ভাই ও ১ বোন নিয়ে নাজিমদের পরিবার। ছোট বেলায় নাজিমকে ভর্তি করানো হয় দালাল বাজার সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম নামক হোস্টেলে । সেখান থেকে ২০০৬ সালে নাজিমকে ভর্তি করানো হয় দালাল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

২০১০ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে ৬০০ নাম্বারের মধ্যে ৫২০ নাম্বার পেয়ে উর্ত্তীণ হয়ে ভর্তি হয় দালাল বাজার এন.কে উচ্চ বিদ্যালয়ে । বিদ্যালয়টি থেকে ২০১৩ সালে ৪.৮১ পেয়ে জে.এস.সি পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে একই বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ২০১৬ সালে এস.এস.সি পরীক্ষা দিয়ে ৩.৮৩ পেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্নক করেন। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য নাজিম এখন লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে চান্স পেয়ে একাদশ শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে।

কিন্তু, বহু সংকটের মুখে পড়ে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হয় নাজিমকে! যা নাজিমের প্রতিভা বিকাশে চরম বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় । নাজিম হোসেন দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, “স্কুল পরীক্ষাগুলো Braille- ব্রেইল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতাম। কিন্তু কেন্দ্রের পরীক্ষাগুলো দেওয়া লাগছে অন্যভাবে। পি .এস.সি দিতে হয়েছে ৪র্থ শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে দিয়ে, জে.এস.সি ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও এস.এস.সি দিতে হলো ৮ম শ্রেণি পাশ একজন পড়ুয়াকে দিয়ে ।

নাজিম আরো জানায়, তার পরীক্ষা যে দিচ্ছে তাকে প্রতিটি বাক্য বানান করে বলতে বলতে সময় সংকটে পড়তে হয়, যাতায়াত সমস্যা. কলেজে ব্রেইল পদ্ধতি ও ব্রেইল বই নেই, স্কুল লেভেলে বিনামূল্যে বই ছিলো কিন্তু কলেজে নেই। আর এসব সংকট মোকাবেলা করে আমি পড়ালেখা চালিয়ে আসছি । যার কারণে আমার ফলাফলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে ।
প্রসঙ্গত, নাজিম একজন প্রতিভাবান মেধাবী ছাত্র । নাজিম ইংরেজিতে কথা বলতে খুব বেশি পছন্দ করে। সে ক্রিকেট খেলতে ও গান গাইতে বেশ ভালোবাসে। কিছু দিন আগে শেষ হলো নাজিমের অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা। দালাল বাজার এন.কে উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জাহিদ হাসানের সহযোগীতায় ৭টি বিষয়ের মধ্যে মাত্র ২টি বিষয় পরীক্ষা দিয়ে ছিলো। ঠিক এভাবেই সংকটময় মুহুর্তগুলো পার হতে হয় তাকে।

নাজিমের সহপাঠীরা নাজিমকে কাছে পেলে তার সাথে সুখ-দুঃখের কথাগুলো ভাগাভাগী করে। তার পিতা একজন রাজমিস্ত্রী। সে ছাড়াও একই পরিবারে ২ ভাই ও ১ বোন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী । এতে, সবার চেয়ে তার সমস্যাটা প্রকট। সংকট উত্তরণে নাজিমের মতো সকল দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সমস্যা সমাধানে সরকারো এগিয়ে আসবে বলে আশাবাদী নাজিম ও  তার সহপাঠীরা ।

//প্রতিবেদন/০৪১২২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য