‘‘সবুজ উপকূল অনুষ্ঠান আমার সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটিয়েছে’’

জুনাইদ আল-হাবিব

কমলনগর, লক্ষ্মীপুর : উপকূল আমার প্রিয় জন্মভূমি। যেখানে বসাবস করে রাষ্ট্রের বৃহৎ জনগোষ্ঠী। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন সময় দূর্যোগের মাত্রাধিক কবলের সম্মুক্ষীণ হতে হয়। আক্রমনাত্মক প্রাকৃতিক দূর্যোগের মধ্যে ঘুর্নিঝড়, সিডর, টর্নেডো, জলোচ্ছাস, খরা ইত্যাদি অন্যতম। জলবায়ুর এই পরিবর্তনগুলো উপকূলবাসী মোকাবেলা করতে না পারার অন্যতম প্রধান একটি কারণ হচ্ছে উপকূলে সবুজ বনায়ন ধ্বংস। যার ফলে, উপকূলব্যাপী প্রতিবছর বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক দূর্যোগের হানায় ব্যাপক ধ্বংসাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটায়।

উপকূলের সর্ব সাধারণের মানুষের মধ্যে যদি সবুজ সচেতনতার উপকারি দিকগুলো ভালোভাবে উপস্থাপন করা যায় তাহলে উপকূলে প্রাকৃতিক দূর্যোগের ক্ষতির মাত্রাটা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে উপকূলের ১১টি জেলার ১৩টি উপজেলার ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০,০০০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে “সবুজ বাঁচাই, সবুজে বাঁচি” স্লোগানে উপকূলব্যাপী সবুজ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান “সবুজ উপকূল” এর সৃষ্টি করেন উপকূল সন্ধানী সাংবাদিক উপকূল বন্ধু রফিকূল ইসলাম মন্টু। ১২ই সেপ্টেম্বর ২০১৫ সকালে আমার প্রাণ প্রিয় বিদ্যাপীঠ তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয় “সবুজ উপকূল ২০১৫”এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।

অনুষ্ঠানজুড়ে আমার মনে এক আনন্দঘন মূহুর্ত অবস্থা বিরাজ করছিলো। অনুষ্ঠানে আলোচনা করা হয় ১* কমলনগর-রামগতির মেঘনার ভাঙ্গনে মানুষের ভিটে-মাটি বিলীন হওয়ার সাথে সাথে সবুজ উপকূল ধ্বংসের কারণে আমাদের উপকূলে এক বড় ধরণের ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করতে পারে ২* সবুজ উপকূলকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা ৩*নতুন সবুজ বৃক্ষ লাগানো এবং তার বিজ্ঞান সম্মত পরিচর্যা কিভাবে নিশ্চিত করা যায় ৪*এই সবুজ উপকূল সুরক্ষায় উপকূলের আগামি প্রজন্মের কি করণীয় হতে পারে ৫*প্রত্যেকে যেন নিজে সবুজ গাছ লাগায় ও এই সবুজ গাছের সঠিক পরিচর্যাটা করে ৬* উপকূল রক্ষার্থে অন্যকে সবুজ বনায়ন গড়তে উৎসাহিত করা ৭*সবুজ উপকূলের বিঞ্জান সম্মত উপকারি দিক গুলো।

অনুষ্ঠানে দেয়াল পত্রিকা “বেলাভূমি”র মোড়ক উম্মোচন, পবিত্র কোরআন তিলওয়াত, জাতীয় সঙ্গীত, আলোচনা সভা, দেয়াল পত্রিকা লিখন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে নতুন সবুজের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষিত হয়। অনুষ্ঠানটিতে সবার মাঝে আলোচনায় বক্তব্য রাখতে পেরে এবং দেয়াল পত্রিকা লিখনে পুরস্কৃত হওয়ায় আমি আমার জীবনকে ধন্য মনে করি।

অনুষ্ঠানটি উপভোগ করে আমি আমার উপকূলে ভিন্নভাবে তথ্য অনুসন্ধান করে সংবাদ লিখতে শিখেছি। আমি চাই উপকূলব্যাপী অনুষ্ঠানটি প্রসারতা লাভ করে আমাদের উপকূলকে রক্ষা করে মানুষের বাসযোগ্য করবে এবং আমরা একটি তাজা উপকূল উপহার পাবো এমনটাই প্রত্যাশা।

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য