‘মারাকাশ জলবায়ু আলোচনায় জলবায়ু তাড়িত উদ্বাস্তু প্রসঙ্গটি হবে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার’

অতি বিপদাপন্ন মানুষের পক্ষে নাগরিক সমাজের প্রস্তাবনা শীর্ষক সেমিনার

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর ২০১৬। মরক্কোর মারাকাশে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে আজ ঢাকায় আটটি অধিকার ভিত্তিক নাগরিক সংগঠন একটি সেমিনারের আয়োজন করে। কপ ২২ জলবায়ু সম্মেলন: অতি বিপদাপন্ন মানুষের পক্ষে নাগরিক সমাজের প্রস্তাবনা শীর্ষক সেমিনারটিতে  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ এমপি। তিনি জানান, এই সম্মেলনে জলবায়ু তাড়িত উদ্বাস্তুর বিষয়টি হবে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার।

ইক্যুটিবিডি’র রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে আয়োজকদের পক্ষ থেকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ক্যাম্পেইন ফর  সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুড’র শারমিন্দ নিলর্মি। এতে আরও বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জিয়াউল হক, বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের ড. নিলুফার বানু, ফোরাম অন এনভায়রনমেন্ট জার্নালিস্ট ইন বাংলাদেশের সভাপতি কামরুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ ক্লাইমেট জার্নালিস্ট ফোরাম’র কাওসার রহমান, অক্সফামের মোজাহিদুল ইসলাম নয়ন।

সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, বাংলাদেশ ক্লাইমেট জার্নালিস্ট ফোরাম, বাংলাদেশ ইনডিজিনাস পিপলস অন ক্লাইমেট চেঞ্জ এনড বায়োডাইভার্সিটি, ক্লাইমেট চেঞ্জ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ, ক্যাম্পেইন ফর সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুড, ইক্যুইটিবিডি এবং ফোরাম অন এনভায়রনমেন্ট জার্নালিস্ট ইন বাংলাদেশ।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে শারমিন্দ নিলমির্ পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন, সেগুলো হলো: ১)  আন্তর্জাতিক আলোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে একটি স্বচ্ছ এবং অর্ন্তভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, ২) কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমানোর জন্য ধনী দেশগুলোর উপর বাংলাদেশকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে, ৩) জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সকল জলবাযু অর্থায়নকে অনুদান হিসেবে দিতে হবে এবং এটা হতে হবে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বিদ্যমান সাধারণ অন্যান্য অনুদানের বাইরে, ৪) লস এন্ড ডেমেজ আলোচনার ক্ষেত্রে জলবায়ু উদ্বাস্তু প্রসঙ্গটি প্রধান্য পেতে হবে, এবং ৫) বৈশ্বিক অভিযোজন লক্ষ্যকে অবশ্যই অতি বিপদাপন্ন দেশগুলোর প্রয়োজনকে প্রধান্য দিতে হবে।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, মারাকাশে জলবায়ু আলোচনায় দেশের স্বার্থে সরকার এবং সুশীল সমাজকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার জলবায়ু উদ্বাস্তু বিষয়টিতে এবার অগ্রাধিকার দিয়ে  আলোচনা করবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী নয়, তাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কোন ঋণ নেওয়ার পক্ষপাতি বাংলাদেশ নয়। বাংলাদেশ বরং ক্ষতিপূরণ দাবি করবে।

রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে দেশে এবং বিদেশে আলোচনা প্রক্রিয়ায় সুশীল সমাজের  অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিৎ।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/২৭১০২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য