মেঘনায় ভাঙলো ঐতিহ্যবাহী মসজিদ

ভাঙণের কবলে কাদির পন্ডিতের হাট দারুচ্ছালাম জামে মসজিদ

কমলনগর, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে রাক্ষুসে মেঘনার হানায় ধ্বংস উপজেলার মধ্যে ঐতিহ্যবাহী সবচেয়ে পুরানো ও প্রথম পাকা কাদির পন্ডিতের হাট দারুচ্ছালাম জামে মসজিদটি ! এ যেন ঢাকার রানা প্লাজা ধ্বংস ! যেভাবে রানা প্লাজা ধ্বসে পড়লে মানুষের কাঁন্না ও ক্যামেরার ক্লিক লক্ষ করা গিয়েছে ঠিক তেমনই মসজিদটির বেলায়ও তাই। মসজিদটির দ্বিতীয় তলার প্রথম অংশের সকল মালপত্রসহ মসজিদটি ভেঙ্গে পড়ে মেঘনায়।

সকল মালামাল টাইলস, ইট, বৈদ্যুতিক পাখা। বিদ্যুতের বিভিন্ন সরঞ্জাম মেঘনার অতি নিকটে আসার পর থেকে মসজিদটি দেখতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আছে ধর্মপ্রাণ নারী ও পুরুষরা । তাদের সাথে ভিড় জমায় শিশু ও কিশোররা। মসজিদ ভাঙ্গার বেদনায় কাঁদছে সবাই, কারণ, শোক একটাই মেঘনায় সব হারালেও দুঃখ নেই কিন্তু, হাজার হাজার মানুষ বছর বছর ধরে মসজিদটিতে ইবাদতের স্থল ও উপজেলার মধ্যে অন্যরকম একটি মসজিদটি ছিলো।

শেষ বারের মতো মসজিদটি দেখতে এসে অনেকেই নামাজ আদায় করলো,মসজিদটির ভাঙ্গার অবশিষ্ঠ অংশে। আর কি পড়তে পারবে মানুষ মসজিদটিতে নামাজ ? এই ভাবেই প্রশ্ন সবার মনে।

তথ্য সংগ্রহের একপর্যায়ে মসজিদের ভিতর দেখা মিলে দীর্ঘদিন যাবত মসজিদের ইমামের দায়িত্বে হাফেজ ফয়েজ আহমদের সাথে। তিনি বলেন, আমি মসজিদটিতে র্দীঘ ৪০ বছর ইমামতি করে আসছি । আমার সাথে মরহুম মাওলানা আবদুর রব মৌলভী ৩০ বছর খতিবের দায়িত্বে ছিলেন এবং তিনি মরে যাওয়ার পর তার মেঝো ছেলে মাওলানা মাহমুদুল হাসান ১০ বছর খতিবের দায়িত্বে ছিলো।

প্রসঙ্গত, বিংশ শতাব্দীর ৩০ এর দশকে মরহুম হাজী মুসলিম মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এলাকাবাসী, স্থানীয় প্রবাসী ও কিছু বিদেশী সংস্থার অনুদানে মসজিদটি উন্নত হয়। কিন্তু, মেঘনার ভাঙ্গনে মসজিদটি বিলীন হওয়ায় উপজেলা জুড়ে মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। মসজিদটি ছাড়াও মেঘনায় বহু মসজিদ বিলীন হয়ে গেছে এবং আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ বর্তমানে মেঘনার ভাঙ্গনে হুমকির মুখে।

এভাবেই ক্রমেই মানুষের তিল তিল করে গড়ে তোলা সম্পদ গিলে খাচ্ছে রাক্ষুসে মেঘনা ! লক্ষ্মীপুরের কমলনঘরকে মেঘনা থেকে রক্ষার দায়িত্ব নিবে কে এমনটাই প্রশ্ন !

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/২২১০২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য